- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

চিনাবাদাম চাষীদের মাঠ দিবসে ড. মঙ্গল চন্দ জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে দারিদ্রতা বৃদ্ধি পাচ্ছে

স্টাফ রিপোর্টার
বাংলাদেশ পরমানু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা) ময়মনসিংহ এর মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা বিজ্ঞানী ড. মঙ্গল চন্দ্র চন্দ বলেছেন,‘জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সারা পৃথিবীতে খাদ্য উৎপাদনে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। জলবায়ুর প্রভাবে ক্ষুধা ও দারিদ্রতার হার বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই একই জমিতে একাধিক ফসল উৎপাদনের কোন বিকল্প নেই। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ অনেক দূর এগিয়েছে। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে বিদেশে খাদ্য রপ্তানী করতে সক্ষম হয়েছে।’
তিনি আরো বলেন,‘অতীতে হাওর প্রধান সুনামগঞ্জের কৃষকরা ধান ছাড়া আর কোন ফসল উৎপাদন করত না। অনেক জমি বছরের পর বছর পতিত থাকত। কৃষকরাও অলস সময় কাটাত। কিন্তু এখন ধানের পাশাপাশি তারা পতিত জমিতে বিনার উদ্ভাবিত চীনাবাদাম, সরিষাসহ নানা জাতের ফসল উৎপাদন করছে। এতে কৃষকরা স্বাবলম্বী হচ্ছেন পাশাপাশি তাদের আমিষ ও প্রোটিনের চাহিদা পূরণ হচ্ছে।’   
শনিবার দুপুরে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার জগাইগাঁও ও বড়ঘাট গ্রামের বিনা চীনাবাদাম চাষীদের নিয়ে পালিত মাঠ দিবস অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
বিনা সুনামগঞ্জ উপকেন্দ্র ও সুনামগঞ্জ    সদর উপজেলা কৃষি অফিসের আয়োজনে এবং জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড (সিসিটিএফ) প্রকল্পের অর্থায়নে বিনা উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল জাত বিনাচীনাবাদাম-৪ এর প্রচার ও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে মাঠ দিবস পালিত হয়।
বিনা সুনামগঞ্জ উপকেন্দ্র’র ভারপ্রাপ্ত ও বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলামের সঞ্চালনায় ও জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ পরিচালক মীর বজলুর রশিদের সভাপতিতে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড (সিসিটিএফ) প্রকল্পের পরিচালক বিজ্ঞানী ড. মো. শহীদুল ইসলাম।
বিনা সুনামগঞ্জ উপকেন্দ্র’র ভারপ্রাপ্ত ও বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলাম জানান, সারা দেশে ৩২ হাজার হেক্টর জমিতে বিনা উদ্ভাবিক চীনাবাদাম চাষ হয়। এসব জমি থেকে বাদাম উৎপাদন হয় ৪৭ হাজার মে. টন। তাই সুনামগঞ্জে বিনা উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল বিনাচীনাবাদাম-৪ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে চাষীদের নিয়ে কাজ করছে বিনা ।
মাঠ দিবস অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি অফিসের উপ সহকারি কৃষি কর্মকর্তা জগদানন্দ সরকার, স্থানীয় আইপিএম কৃষক ক্লাবের সভাপতি আলী আহমদ, প্রবীন কৃষক আব্দুল ওয়াহিদ, জগাইগাঁও গ্রামের বাদামচাষী আবুল বরকত ও বড়ঘাট গ্রামের বাদামচাষী নূরুল হক প্রমুখ।

  • [১]