ইকবাল কাগজী
ঘরে চাল-ডাল, তেল-নুন, যা-যাবতীয় সবকীছুই বাড়ন্ত, পকেট একদম গড়ের মাঠ। একদা আমি একজন শিক্ষক ছিলাম।
অন্য একজন শিক্ষক বলেছেন, ‘গত শতকের শেষ দশকে আমার যে-গাধা ছাত্রটিকে পিটিয়ে ঘোড়া করা যাবে না বলে আমার সম্যক ধারনা হয়েছিল, সে ধারনাকে সম্পূর্ণ ভুল প্রমাণিত করে দিয়ে সে আজ একবিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় দশক পেরোবার আগেই ২০১৭-তে এসে শতকোটি টাকার মালিক বনে গেছে। সে ‘টাকায় টাকা আনে’র কর্তৃকারকে সপ্তমী বিভক্তির ব্যাকরণ না জানলেও টাকা থেকে টাকা বানানোর অতীব প্রয়োজনীয় অর্থনীতির গলিঘুপচির সন্ধান জানে। সে তার মেধার প্রয়োগ করেছে ‘অর্থনীতি মানুষের জীবনের চালিকাশক্তি’ মার্কসের এই বিখ্যাত প্রতিপাদ্যের সফল প্রয়োগে। লক্ষ্মী তার সঙ্গে আড়ি পেতে বসে থাকেননি। বরং এইভাবে প্রমাণ হয়েছে যে, সে অমিত মেধার অধিকারী।’
গতকাল এই আমি (বলিহারি কেউ কেউ আমাকে কবিও বলে) কবিতার বই ‘পৌরবিপণিতে যাই’-র সৌজন্যে পাওয়া দুটি পাঁচশ’ টাকার কাগজী মুদ্রা হারিয়ে সঙ্গে সঙ্গে কপর্দকহীন কাঙাল হয়ে পড়ি। একজন ছাপোষা শিক্ষক ও কথিত ধনী ছাত্রের জীবনের সম্পদের ব্যবধান তৈরির কর্মকৌশলই হলো মুক্তবাজার অর্থনীতির আসল ক্যারিসমা। এই বিশাল বিপুল আর্থনীতিক বৈষম্যের রকমফেরের মধ্যে বিলীন হয়ে থাকার যে জীবন, বাস্তবে সে জীবনকে যাপন করা বিরল ঘটনা না হলেওÑ প্রকৃতপ্রস্তাবে পৃথিবীর শতকরা নব্বইভাগের বেশি লোক এই বৈষম্যের জাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে দিনগত পাপক্ষয় করেÑ সে যাপিত জীবনের দর্পণে বিশ্বকে প্রত্যক্ষ করার বিষয়টি বরাবরের মতোই ঝাপসা থেকে যায়। পৃথিবীতে মানুষ একমাত্র আর্থনীতিক জীব, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ অর্থনীতির সাগরে নিমজ্জিত থেকেও অর্থনীতির মর্মার্থ সম্পর্কে একেবারেই অজ্ঞ। কথা প্রসঙ্গে কথিত ওই শিক্ষক আরও বলেছেন যে, তাঁর সে ছাত্রটি না কি এই এই কথা জানে না যে, একজন প্রঁধো নামের প্রাজ্ঞ বলেছেন, ‘সম্পদের আর এক অর্থ চুরি।’
একই আলোবাতাসে নিমজ্জিত থেকে প্রকৃতপ্রস্তাবে একই আর্থসামাজিক পরিসরে জীবননির্বাহ করে তাঁরাÑ ছাত্র শিক্ষকÑ বেঁচে আছেন, আর সেই পরিসরটি শোষণমূলক একটি আর্থব্যবস্থার সঙ্গে ওতপ্রোত। এর অর্থ হলো : পুঁজি মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করে, মানুষ পুঁজির দাস, পুঁজিই একমাত্র স্বাধীন সত্ত্বা। মানুষ সম্পদ সৃষ্টি করে নিজেকি বাঁচিয়ে রাখার জন্য। কিন্তু ব্যক্তিগত সম্পদ সৃষ্টি করেছে নিজের স্বাধীনতাকে বিসর্জনের বিনিময়ে। মানুষের এই পরাধীনতার একটাই অর্থ পুঁজির দাসত্ব। পুঁজির প্রভুত্ব অর্জন করতে না পারলে মানুষের কোনও মুক্তি নেই। এজন্য আর একটি অক্টোবর বিপ্লব দরকার।
এমতাবস্থায়, অর্থাৎ পকেট গড়ের মাঠ অবস্থায়, কী আর করা? কথায় বলে, কম ঠেলায় বিলাই গাছে উঠে না কিংবা ঠেলার চোটে বদনা ফাটে। ঠেকায় পড়ে রাজীব চৌধুরীর সকাশে ধরনা দিলাম। কী এক ধান্ধায় যেনো সে সুনামগঞ্জ এসেছে। কাজ হলো। টাকা পেলাম পাঁচ শ’, সঙ্গে একটি পা-ুলপির বানানশুদ্ধিকরণের উটকো ফরমায়েসী ভূত, যাকে বলে, অন্যের মূর্খতাকে পা-িত্যে পর্যবশিতকরণের অপকম্ম, বোধ করি পৃথিবীতে সবচেয়ে খতরনাক অবৈধ ধান্ধার একটি। সে পা-ুলিপির রচনাশৈলীর চমৎকারিত্ব এখানে আমার বিবেচ্য
নয়। নাম না জানা এই পা-ুলিপির লেখকের কাছে চুরি করা গরু বা ছাগল ‘অর্থদ-’ দিয়ে ছাড়িয়ে নেওয়ার পদ্ধতিটা সম্পূর্ণ নতুন, আপাতত আলোচ্য সেটিই । লেখকের লেখা থেকে তুলে দিচ্ছি।
“ছোট্ট ইঞ্জিন নৌকায় উঠে বসি। একটু পরেই একটা গ্রামে নামি। শান্ত নিঝুম গ্রাম। দেশের অন্য যে কোনো গ্রামের মতোই।
‘এই গ্রামের অধিকাংশ মানুষের পেশা কী জানো ?’ মামুন ভাই জিজ্ঞাস করলেন।
‘কী?’
‘চৌর্যবৃত্তি।’
‘সত্যি বলছেন না ফাইজলামি করতাছেন?’
‘না না! একেবারে সত্যি। এরা সাধারণত গরু-ছাগল চুরি করে। আশেপাশের যে কোনো গ্রামের গরু চুরি গেলে কেউ থানা পুলিশ করে না। সোজা এই গ্রামে চলে আসে। তারপর অল্প কিছু টাকার বিনিময়ে গরু-ছাগল ছাড়িয়ে নিয়ে যায়।’
মামুন ভাইয়ের কথা শুনে চমৎকৃত হই। মনে মনে ভাবি ব্যাপারটা সারা দেশে ছড়িয়ে গেলে খারাপ হতো না। ইউনিয়ন অফিসে গিয়ে অল্প কিছু টাকার বিনিময়ে গ্রামের রাস্তাটা ছাড়িয়ে আনা যেতো, মন্ত্রণালয়ে গিয়ে সেতুটা ছাড়িয়ে আনা যেতো। এই সবই তো আসলে বিভিন্ন রকম চোরেরা খেয়ে ফেলে। তাই না!”
পা-ুলিপি থেকে উদ্ধৃত উপরের ১১৯ শব্দের রচনাটুকুর প্রণেতার নাম আমার অজানা, কী করে জানি পা-ুলিপির সাথে তাঁর নামটা ছিল না। দিরাই-শাল্লার কয়েকটি গ্রামের লোকদের চুরিই প্রতিষ্ঠিত পেশা। শুনেছি, অতীতে এই চোরদের নিশ্চিহ্ন করার প্রচেষ্টা থেকে তাদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে কোনও কোনও প্রখ্যাত প্রতাপশালী সমাজপতি ধনী লোকের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায়। যদিও কেউ ঐ ধনী লোকের বিপুল সম্পদ প্রঁধো কথিত চুরি ছিল কি না, সে ব্যাপারে এ দেশে কোনও গবেষণা হয়নি। সুনামগঞ্জ জেলার অনেকেই বিষয়টি (চুরের গ্রামের অস্তিত্ব ও তাদের উদ্ভাবিত অর্থনীতি) সম্পর্কে সম্যক আবগত আছেন। অথচ গল্পের কথক জানতেনই না সমাজে এমন একটা, যাকে বলে, আর্থনীতিক পদ্ধতি থাকতে পারে। সেটা তাকে যৎপরনাস্তি চমৎকৃত করেছে, তিনি বলেছেন, ‘মামুন ভাইয়ের কথা শুনে চমৎকৃত হই।’ তাঁর তো চমৎকৃত হবারই কথা। তাঁর জীবনবাস্তবতার উন্মুক্ত আঙ্গিনায় এমন কোনও ঘটনা ঘটেনি, যা তাঁকে এই হঠাৎ চমকে যাওয়া থেকে বিরত রাখতে পারে। তাঁর জীবনে তিনি চুরি করা গরু টাকা দিয়ে ছাড়িয়ে নেওয়ার আজব বাজারের বাস্তবতার বিষয়টি কখনও কল্পনাও করেননি। অথচ তাঁর মাথায় আছে, ‘ইউনিয়ন অফিসে গিয়ে অল্প কিছু টাকার বিনিময়ে গ্রামের রাস্তাটা ছাড়িয়ে আনা যেতো’র মতো ঘটনা। অবাক হওয়ার কীছু নেই। বোধ করি এমন কল্পনার উদ্রেক হতেই পারে যে-কোনও সচেতন মানুষের মাথায়। অথচ ‘চুরি করা গরুর বাজার’, ‘রাস্তা কিংবা সেতু ছুটিয়ে আনার বাজার’ এমনকি ‘খোয়াড় থেকে গরু ছুটিয়ে আনা’ ইত্যাদি এমন বাজারের বাস্তবতা পৃথিবীতে মূর্তনির্দিষ্টরূপে বিদ্যমান।
‘খোয়াড়’ শব্দটি উচ্চারিত হলেই সর্বাগ্রে আমার এক দাদার কথা মনে পড়ে তারপর মনে পড়ে কার্ল মার্কসের কথা। মার্কেসের কথা মনে পড়ার কারণ হলো তিনি বুর্জোয়া সংসদকে শূয়োরের খোয়াড়ের সঙ্গে এক করে দেখেছেন। তাঁর মতে সেখানে নাকি কেবল গুতোগুতি হয়। দাদার কথা মনে পড়ে, কারণ তিনি একবার একটি খোয়াড়ের মালিক হয়েছিলেন। যে-সব ছুটা গরু-ছাগল গৃহস্থের ফসলের ক্ষতি করতো সে-সব গরু-ছাগলকে ক্ষতিগ্রস্ত লোকেরা খোয়াড়ে দিয়ে যেতো। আর খোয়াড়ে গরু-ছাগল দিতে পারলে বখশিশ হিসেবে যৎসামান্য নগদ নারায়ণ মিলতো খোয়াড় মালিকের পক্ষ থেকে। এই নগদ নারায়ণ লাভের লোভে অল্পবয়সীরা অনেকেই এই কাজে বেজায় উৎসাহ বোধ করতো। গরু-ছাগলের মালিকরা খোয়াড়বন্দি প্রাণীটিকে টাকা দিয়ে ছাড়িয়ে নিয়ে যেতো। দাদার এই খোয়াড় ব্যবসার মতোই চোরেরাও চুরি করা গরু নিয়ে গিয়ে আটকে রেখে একটা ব্যবসা ফেঁদেছে মাত্র। চুরি করা গরু বিক্রির কা-টি যতই ‘অলীক’ মনে হোক আসলে অলীক কীছু নয়, বরং সুনির্দিষ্টভাবে আর্থসামাজিক ব্যবস্থারই মূর্তনির্দিষ্ট একটি পরিকাঠামোগত প্রস্ফোটন মাত্র। খোয়াড়ের ক্ষেত্রে খোয়াড় মালিক নিজে গরুকে ধরে এনে খোয়াড়ে বন্দি করে না, বন্দি করে রাখার জন্য অন্য লোকেরা খোয়াড় মালিককের গরু দিয়ে যায়। কিন্তু চোরেরা গরু চুরি করে নিজের জিম্মায় বন্দি করে রাখে। সুতরাং বিষয়টি বাস্তবের বেশি কীছু নয় বলে অবাক হবারও কীছু নেই। মুক্তবাজার অর্থনীতির পরিসরে এই বাজারটি চুরি করা গরু গরুর মালিকের কাছেই বিক্রি করার একটি ব্যবসা মাত্র।
ধরেই নেওয়া যায় গল্পের কথক অর্থনীতি বিষয়ে নিশ্চিয়ই সম্যক ধারনা রাখেন, সে বিষয়ে অবশ্যই তিনি একেবারে মূর্খ নন। যদি তিনি অকাট মূর্খ হতেন তা হলে তিনি ‘ইউনিয়ন অফিসে গিয়ে অল্প কিছু টাকার বিনিময়ে গ্রামের রাস্তাটা ছাড়িয়ে আনা যেতো, মন্ত্রণালয়ে গিয়ে সেতুটা ছাড়িয়ে আনা যেতো।’ এই সব তথাকথিত ‘অলীক’ ভাবনার উদ্ভাবক হতে পারতেন না।
অর্থশাস্ত্রানুসারে বাজারের সংজ্ঞার্থ হলো পণ্যবিনিময় বা পণ্য ক্রয়-বিক্রয়। চোরের গাঁয়ের লোকেরা যখন চুরি করা গরু গরুর মালিকের কাছে বিক্রি করে তখন অবশ্যই একটি বাজারের সৃষ্টি হয়। এমন বাজারকে সৃষ্টি ছাড়া কিংবা ‘অলীক’ বলে এর বাস্তবতাকে অস্বীকার করা যায় না। বস্তুগতভাবে সে বাজারটি অবাস্তব নয় বরং একটি মূর্তনির্দিষ্ট আর্থনীতিক প্রপঞ্চ। ‘চুরি করা গরুর বাজার’ অলীক নয়। এই মওকায় একটি কথা এখানে বলে নেওয়া বোধ করি ভালো যে, চুরি করা গরু যদি গরুর মালিকের কাছে বিক্রি করার বাজার তৈরি করতে পারে, তা হলে মন্ত্রণালয়ের আমলার জিম্মায় থাকা সেতুও অবশ্যই বাজার তৈরি করতে পারে। সেটিকে গল্প কথকের মতো কেউ যদি ‘জিম্মি করে রাখা সেতুর বাজার’ বলে আখ্যায়িত করে, তাকে খুব একটা দোষ দেওয়া যায় না। আমাদের প্রশাসন প্রাস্তাবিত সেতু কিংবা রাস্তাগুলোকে ‘খোয়াড়’-এ ভরে রাখে। গরু যেমন নগদ অর্থ পরিশোধ করে খোয়াড় থেকে ছাড়িয়ে নিতে হয় তেমনি সেতু ও রাস্তাকেও ঘুষ দিয়ে ছাড়িয়ে নিতে হয়, প্রতিষ্ঠিত আর্থসামাজিক ব্যবস্তাটাই এমন। এ দেশে ভিজিএফ কার্ড পেতে হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিকে কিংবা রাজনীতিবিদকে টাকা দিতে হয়। এমনকি দুস্থজনের জন্য বরাদ্দ পেতে হলেও বখরা দিতে হয়। বখরা দিতে হয় কৃষিঋণ পেতে। একজন বলেছেন, “এই দালালরাই ব্যাংক কর্মকর্তাদের সাথে যোগসাজশ করে অহেতুক বিলম্ব বা বিড়ম্বনা ছাড়াই জনসাধারণের ঋণের ব্যবস্থা করে দিতো। কিন্তু এর বিনিময়ে তাদের একটা ‘বখশিস’ বা ‘খুশী কারর বখরা’ দিতে হতো। ঋণ প্রদানের সময়ই এই ঘুষের টাকা প্রাপ্য পরিমাণ থেকে কেটে রাখা হতো।” (স্বপন আদনান, দুর্নীতির সংস্কৃতি এবং পৃষ্ঠপোষকতার রাজনীতি, নতুন দিগন্ত, একাদশ বর্ষ দ্বিতীয় সংখ্যা : জানুয়ারি-মার্চ ২০১৩, পৃষ্ঠা : ১৩)। অর্থাৎ চাল-ডাল, সবজি-মাছের মতো যে-কোনও সুবিধাও প্রকৃতপ্রস্তাবে পণ্য, দেশের আইন তা স্বীকার করুক আর নাই করুক।
মুক্তবাজার অর্থনীতিই এমন, সেটা দুর্নীতিকে একটি উত্তম শিল্প করে তুলে। এ দেশের দুর্নীতিগ্রস্ত প্রশাসন কিংবা আমলাতান্ত্রিকতার স্তরে স্তরে এরমক বাজারের বিপুল বিস্তার পরিলক্ষিত হয় প্রতিনিয়ত, তা অস্বীকার করার কোনও উপায় নেই, যেখানে রাষ্ট্রঘোষিত সকল সুবিধাকে ‘চুরির গরু’র মতো জমিয়ে বিশাল বাজার তৈরি করা হয়। বিষয়টি আরও একটু স্পষ্ট করাই কেবল নয়, বিষয়টির পক্ষে সমর্থন মিলতে পারে এমন একটি উদ্ধৃতি তুলে দিচ্ছি। প্রগুক্ত প্রাবন্ধিক বলেছেন, ‘দুর্নীতি বলতে সহজভাবে বোঝায় ঘুষ খাওয়া কিংবা বেআইনী কায়দায় সম্পদ আত্মসাৎ করা। এগুলো সমাজের আদর্শিক মূল্যবোধ ও নীতিকে লঙ্ঘন করে বলেই দুর্নীতি হিসাবে আখ্যায়িত হয়।’ (প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা : ০৯)। অন্যত্র তিনি বলেছেন, ‘দুর্নীতি আপনা থেকে হয় না। বিদ্যমান সমাজব্যবস্থা, ক্ষমতার বিন্যাস এবং রাষ্ট্রযন্ত্রের কাঠামোর ভেতরেই এরকম প্রক্রিয়া পরিচালিত হয়।’ (প্রাগুক্ত, পৃষ্ঠা : ১০)। সুতরাং চুরি করা গরুর বাজার দেশের যে-কোথাও হতেই পারে, এটি কোনও অলৌকিক কীছু নয়, বরং বিদ্যমান অর্থনীতির একটি অবিচ্ছেদ্য অনুসঙ্গ। সত্যিকার অর্থেই এটা কোনও ‘ফাইজলামি’ নয়।