- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

চোরের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ মাছের খামারীরা

বিশেষ প্রতিনিধি
চোরের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে ওঠেছেন সুনামগঞ্জের মৎস্য খামারীরা। খামারিরা বলেছেন, মাছ চোরদের শক্তিশালী সি-িকেট গড়ে ওঠেছে। এরা বিভিন মৎস্য খামারকে টার্গেট করে ওঁত পেতে থাকে। সুযোগ পেলেই কিছুক্ষণের মধ্যে লাখ লাখ টাকার মাছ তুলে নিয়ে দ্রুত পালায়। মঙ্গলবার বিশ^ম্ভরপুরের ধনপুরের একটি মাছের খামার থেকে মাছ চুরি করার সময় জাল, পিকআপসহ দুই চোরকে পুলিশে সোপর্দ করেন মাছের খামারীরা।
বিশ^ম্ভরপুরের সোনাতলা গ্রামের হুমায়ুন আহমদ জানালেন, আমাদের মাছের খামারটি অনেক বড়, আমার বাবা রাতে খামারের পাহাড়ায় ছিলেন। হঠাৎ তার ঘুম লেগে যায়। ওই সময় চোরেরা পুকুরে জাল ফেলে মাছ ধরা শুরু করে। একই সময়ে হাওর থেকে ফিরছিল আমার ভাই ফরহাদ মিয়া। সে খামারের কাছে সড়কে একটি লেগুনা দেখে এগিয়ে গিয়ে পায় ১০-১২ জন মানুষ পুকুরে দ্রুত জাল টানছে। সঙ্গে সঙ্গে চিৎকার দিয়ে সে তাদের দিকে এগুলে, তাকে মারপিঠ করে পালানোর চেষ্টা করে চোরেরা। আশপাশের মানুষের চেষ্টায় দুই চোর আটক হলেও অন্য চোরেরা পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলে ৯ জোড়া জুতো পাওয়া যায়। এর আগেও আমরা টের পেয়েছি আমাদের খামারের মাছ চুরি হয়েছে।
একই উপজেলার মহেন্দ্রনগরের সাহাজ উদ্দিন বললেন, আমার পুকুরে ১০ কেজি ওজনের একটি ঘাষকাপ ছিল। আমি নিজে পুকুরের পাহাড়ায় থাকি। একদিন নিজ থেকেই আমি অনুমান করি পুকুরে মাছ কম লাগছে। পরে মাছ ধরার সময় দেখলাম আসলেই মাছ কমে গেছে এবং আমার ১০ কেজি ওজনের ঘাষকাপটিও নেই। তিনি জানালেন, পাহাড়ায় থাকলেও হঠাৎ ঘুম লাগতেই পারে। এই সুযোগটি গ্রহণ করে চোরেরা।
একই এলাকার মাছের খামারী লালচান মিয়া বললেন, সড়কের পাশের মাছের খামারগুলোকে এখন খামারীরা যেভাবে পাহাড়া দেয়, চোরের সি-িকেটও একইভাবে পাহাড়া দেয়। তারা ওঁত পেতে থাকে, সুযোগ পেলেই আধা ঘণ্টায় লাখ টাকার মাছ তুলে নিয়ে যায়।
বিশ^ম্ভরপুর মৎস্য খামার মালিক সমিতির সভাপতি নুরুল আলম সাগর বললেন, নৌ ও সড়ক যোগাযোগ যেখানে ভাল, সেখানকার খামারীরা মাছের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে ওঠেছে। আমরা পুলিশ সুপারের সঙ্গে দেখা করে এই বিষয়ে সহায়তা চাইবো।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বললেন, মাছের খামারীরা চোরের যন্ত্রনায় পড়েছেন। বিশেষ সড়কের পাশের মাছের খামারীরা। মঙ্গলবার বিশ^ম্ভরপুরে চোর চক্রের দুই সদস্য আটক হয়েছে। এরা স্থানীয় নয়। বাড়ি ছাতকের গোবিন্দগঞ্জের পাশে। এর আগে দিরাইয়েও একইভাবে মাছের খামারে চুরির কথা জানিয়েছেন খামারীরা। আমার মনে হচ্ছে মাছ চোরদের আন্তজেলা চক্র গড়ে ওঠেছে। এই বিষয়ে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা প্রয়োজন।
পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বললেন, মাছের খামারীরা আমার সঙ্গে এই বিষয়ে এসে কথা বললে, আমরা তাদের সহযোগিতা করবো।

  • [১]