বিশেষ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদ নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ হিসাবে নিয়েছে আওয়ামী লীগের বিবদমান দুইপক্ষ। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সম্পাদক কর্তৃক দলের বিদ্রোহী প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি নুরুল হুদা মুকুটকে অব্যাহতি পত্র পাঠানোর পর দুইপক্ষের নেতা কর্মীরা নির্বাচনকে নিজেদের ‘অস্তিত্বের লড়াই’ হিসাবে দেখছে।
মঙ্গলবার নুরুল হুদা মুকুট সংবাদ সম্মেলন করে দলের সভাপতি ও সম্পাদকের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ আনায় এবং বুধবার সমকালে ‘আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীরা বহিস্কার হচ্ছে না’ সংবাদে উজ্জীবিত হয়েছে তাঁর সমর্থকরা। অন্যদিকে, নুরুল হুদা মুকুটের প্রতিদ্বন্দ্বি আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী অ্যাড. খায়রুল কবির রুমেনের প্রচারণাও জমে ওঠেছে। খায়রুল কবির রুমেনের পক্ষে তাঁর ভাই জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন বুধবার প্রচারণা শুরু করেছেন। ছাতকের বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যদের নিয়ে বুধবার রুমেনের পক্ষে সভা করেছেন ইমন। উপজেলা সদরের মোড়ল কমিউনিটি সেন্টারে এই সভা হয়। সভার শেষ পর্যায়ে দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিনের কেক কাটেন স্থানীয় সংসদ সদস্য জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি মুহিবুর রহমান মানিক।
সভা শেষে ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমনের কাছে নুরুল হুদা মুকুটের মঙ্গলবারের সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সংবাদ সম্মেলনের কথা শুনে আমি ভেবেছিলাম দলের প্রতি আনুগত্য দেখিয়ে তিনি প্রার্থীতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেবেন। প্রেস কনফারেন্স করার সময় তিনি (নুরুল হুদা মুকুট) দলের বাইরে ছিলেন। নতুন গঠনতন্ত্রে পরিস্কার উল্লেখ আছে, দলের দায়িত্বশীল কেউ স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সিদ্ধান্ত অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট শাখা তাঁকে বহিস্কার করার ক্ষমতা রাখে। আমরা সেটি করি নি। আমরা দলের সম্মানিত সদস্য পরিকল্পনা মন্ত্রী এমএ মান্নানকে দায়িত্ব দিয়ছিলাম নুরুল হুদা মুকুটকে প্রার্থীতা প্রত্যাহারের জন্য অনুরোধ করতে। তিনি চেষ্টা করেছেন, তিনি জানিয়েছেন, নুরুল হুদা মুকুটকে তিনি ফোনে পান নি। এই অবস্থায় বিষয়টি কেন্দ্রীয় কমিটির দায়িত্বশীলদের জানানো হয়। তাদের পরামর্শে জেলা কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষরিত চিঠিতে তাঁকে অব্যাহতির কথা জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে মুকুট নিজেই গেলবারও দলীয় সমর্থিত প্রার্থীর বিরোধীতার কথা বলেছেন। আমার বিরুদ্ধে তার আনা নৌকার বিরোধীতার অভিযোগ ভিত্তিহীন। আমার বয়স যখন চল্লিশ হয় নি, তখনই আমাকে জাতীয় সংসদে সুনামগঞ্জ-৪ আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। দলের স্বার্থে আমি তা প্রত্যাহার করেছি। গঠনতন্ত্রের বাইরে কোন পদক্ষেপ আমি কিংবা দলের জেলা সভাপতি নেন নি।
নুরুল হুদা মুকুটের সংবাদ সম্মেলন নিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কোন প্রতিক্রিয়া জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন, তিনি বললেন সে যখন যা মনে চায়- বলতেছে, এর কোন সত্যতা নেই। আমি দলের অনুগত, অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক কর্মী হিসাবেই ৫০ বছরের অধিক সময় ধরে রাজনীতি করছি। কে কি বললো তাতে কিছু যায় আসে না।
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সম্পাদকের এমন বক্তব্যের জবাবে সহসভাপতি রেজাউল করিম শামীম বললেন, মুকুট দলের দুঃসময়ের কর্মী। ভুল তথ্য পেয়ে দলের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ড দলীয় প্রার্থী করেন নি তাঁকে। দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে গ্রহণযোগ্যতা না থাকলে বিগত জেলা পরিষদ নির্বাচনের পর মুকুটকে সংগঠনের জেলা কমিটির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি করা হতো না। এবারও মুকুট জয়ী হবেন। অন্যায়ের বিরুদ্ধে কর্মীরা আরও বেশি সুসংগঠিত হয়েছে। মঙ্গলবারের সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া মুকুটের বক্তব্য জেলার সকল কর্মীদের কাছে পৌঁছে গেছে। জেলা কমিটির সভাপতি ও সম্পাদক যে এভাবে কাউকে বহিস্কার করতে পারেন না, এটিও সকলে বুঝে নিয়েছে।
জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শংকর দাস বললেন, জেলা পরিষদ নির্বাচনে কেন্দ্রের মনোভাব বুধবার সমকালে ছাপা হয়েছে। আমরাও জানি এই সংবাদের সত্যতা আছে। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সম্পাদকের অগঠনতান্ত্রিক আচরণের বিরুদ্ধে নেতা কর্মীরা আরও বেশি সোচ্চার হয়েছেন। জামালগঞ্জে বুধবার চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যরা সভা করেছেন। তাঁরা সকলেই নুরুল হুদা মুকুটকে সমর্থন দিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, সোমবার দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ায় নুরুল হুদা মুকুটকে দলীয় সকল পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে চিঠি পাঠিয়েছিলেন জেলা সভাপতি মতিউর ও সম্পাদক ইমন। মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলন করে মুকুট সভাপতি ও সম্পাদকের বিরদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ আনেন। বিগত সময়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় মতিউর ও ইমন দুজনকেই অব্যাহতি দেবার দাবিও জানান তিনি।