ছাতক প্রতিনিধি
ছাতকের পল্লীতে এক কথিত পীরের জিলানীয়া খানকা নামের আস্তানায় জঙ্গি তৎপরতা, সন্ত্রাস ও ভন্ডামীর বিরুদ্ধে ফুঁেস উঠেছে এলাকাবাসী। সীমান্তের হাওরাঞ্চলে লোকালয়ের বাইরে একটি নির্জন এলাকায় গড়ে উঠা জিলানীয়া খানকা নামের এ আস্তানায় জঙ্গি প্রশিক্ষণ ও গোপন বৈঠকের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় লোকজন। এখানে সন্ধ্যা নামার সাথে-সাথেই বহিরাগত ও অপরিচিত মানুষের আগমন ঘটে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। ভোর হওয়ার আগে অনেকেই আস্তানা ত্যাগ করে চলে যায়। তবে খানকা শরীফ নামের এ আস্তানায় তাদের নিজস্ব লোক ছাড়া অন্যদের প্রবেশ করতে দেয়া হয় না।
শুক্রবার সকালে বৈশাকান্দি-বাহাদুরপুর জামেয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসায় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এলাকাবাসী উপরোক্ত অভিযোগ তুলে ধরেছেন।
সাবেক সেনা সার্জন মুক্তিযোদ্ধা সাইফুল ইসলাম লিখিত বক্তব্যে বলেন,‘খানকার নামে এখানে জামায়াত-শিবির ও জঙ্গীরা নিরাপদ আস্তানা গড়ে তুলেছে। মাও. কাউসার আহমদ বলেন, ‘খানকায় মওদুদীর জিহাদী বই ও লিফলেট পড়ানোর মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। মাও. মুজিবুর রহমান বলেন,‘খানকার সদস্যরা সাদা পাঞ্জাবী, সাদা লুঙ্গি ও মাথায় সাদা রুমাল পড়ে জেহাদের দাওয়াত প্রচার করছে। ইসলামভীরু সাধারণ মানুষের জঙ্গিতে পরিণত করার চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে তারা।
ইউপি সদস্য আব্দুল হাইয়ের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে আরো বক্তব্য রাখেন, স্থানীয় বাসিন্দা মনিরুজ্জামান মনির, সাবেক ইউপি সদস্য মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম, মুক্তিযোদ্ধা ইউনুছ আলী, মুক্তিযোদ্ধা ইনসান আলী, মাও. তোফায়েল আহমদ, মাও. রফিকুল ইসলাম, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান ইউপি সদস্যা হেলিমা বেগম, মাষ্টার ফরিদ উদ্দিন, ছফির উদ্দিন, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান আবু তাহের, সৈয়দ নেকির হোসেন, ডা. আব্দুল কাদির প্রমুখ। এসময় সুজন মিয়া, মুক্তিযোদ্ধা ইউসুফ আলী, আব্দুল কাদির, হাফিজ ফখরুল ইসলামসহ এলাকার লোকজন উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন,‘খানকাটি রাতের বেলায় সদস্যদের আনাগোনায় তৎপর হয়ে উঠে। দিনের বেলায় খানকা বন্ধ রেখে তারা দলভারী করার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। স্থাানীয় ও বহিরাগত জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা এ খানকায় এসে ঘন-ঘন গোপন বৈঠক করে থাকেন। সন্দেহভাজন লোকদের আনাগোনায় এলাকায় বিরাজ করছে এক অজানা আতংক। বক্তারা এ ব্যাপারে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
খানকার পীর গোলামুর রহমান জিলানীর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তার ব্যবহৃত ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, খানকার সদস্যরা জেহাদের নামে নিজেকে আল্লাহর পথে উৎসর্গ করার কথা বলে প্রচার করে । খানকায় ঝুলানো সাইন বোর্ডেও ‘নবীজির তরিকার মাধ্যমে তাওহিদের পথে বিলীন হও’ কথাটি উল্লেখ রয়েছে। প্রশাসনের নজরকে আড়াল রাখতেই তারা বেছে নিয়েছে নির্জন এ সীমান্ত এলাকা।
খানকা সদস্যরা শিক্ষক মনিরুজ্জামান মনির, ইউপি সদস্য আব্দুল হাইসহ এলাকার প্রতিবাদী লোকদের উপর হামলা করে আহত করেছে। সম্প্রতি পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়া জঙ্গীদের আইসিটি বিশেষজ্ঞ আব্দুল হকের বাড়ি এই খানকা সংলগ্ন বনগাঁওয়ে (নিজগাঁও)। খানকার সাথে আব্দুল হকের সংশ্লিষ্টতা ছিল বলে স্থানীয়দের ধারণা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ছাতক উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী বৈশাকান্দি-বাহাদুরপুর এলাকায় লোকালয় থেকে অনেকটা দূরে প্রায় ৩ বছর আগে জিলানীয়া খানকা শরীফ নামে এই আস্তানা গড়ে উঠে। দোয়ারা উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের বাঁশতলা (পেকপাড়া) গ্রামের মিন্নত আলীর পুত্র পীর পরিচয়দানকারী গোলামুর রহমান জিলানী ও স্থানীয় জামায়াত নেতা রফিক আহমদের প্রতিষ্ঠিত এ খানকাকে ঘিরে প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকেই এলাকার মানুষের মধ্যে ছিল নানা কৌতুহল ও অভিযোগ। টিনসেডের আধাপাকা দালানের খানকা ঘরে তাদের গোপন একটি আন্ডারগ্রাউন্ড কক্ষ রয়েছে বলেও এলাকায় প্রচার আছে।
সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ বলেন,‘বিষয়টির খোঁজ খবর নিয়ে তদন্ত করে এসব কাজের সাথে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’