বিশেষ প্রতিনিধি
সিলেট বিভাগের উপজেলাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলা। এ কারণে সবার নজর ছাতকের দিকে। এই উপজেলার ১৩ ইউনিয়ন ও পৌরসভার মধ্যে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত জাউয়াবাজার ও সৈদেরগাঁও গোবিন্দগঞ্জ ইউনিয়ন এবং ছাতক পৌরসভা এলাকায়। এই পর্যন্ত এই উপজেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৩ জন, আক্রান্তের সংখ্যা ৯৮ জন। এই তিনটি এলাকা বুধবার থেকে কার্যত লকডাউন। জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জন জানিয়েছেন, এইসব এলাকায় বুধবার থেকে একাধিক ভ্রাম্যমাণ আদালতের টিম কাজ করবে। অতিরিক্ত পুলিশও মোতায়েন থাকবে। অপ্রয়োজনে বা সামান্য প্রয়োজনে কেউ বাজারে বা শহরে আসতে পারবে না। মাস্ক ছাড়া বের হলে জরিমানা আদায়ের পাশপাশি যেখানে মাস্ক ছাড়া পাওয়া যাবে, সেখানেই দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে হবে।
এই উপজেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে গত পহেলা জুন ওষুধ ব্যবসায়ী আব্দুল হক (৫০) নামের একজনের মৃত্যু ঘটে। তার বাড়ি জাউয়াবাজার ইউনিয়নের রাউলী গ্রামে। কৈতক হাসপাতালের সামনে তার ওষুধ ব্যবসা রয়েছে।
৫ জুন করোনায় আক্রান্ত হয়ে ছাতক পৌর এলাকার বাঘবাড়ি’র মুক্তিযোদ্ধা পেয়ারা মিয়া মারা যান।
৬ জুন করোনায় আক্রান্ত হীরা মিয়া (৬৫) নামের আরেকজনের মৃত্যু ঘটে। তিনি ছাতকের ইসলামপুর ইউনিয়নের গণেশপুর গ্রামের মৃত জিয়াউর রহমানের ছেলে।
শিল্প সমৃদ্ধ ছাতক পৌর এলাকাসহ সব কয়টি ইউনিয়ন মিলে বুধবার পর্যন্ত করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৯৮ জন। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি জাউয়াবাজার ইউনিয়নে। এই ইউনিয়নে আক্রান্তের সংখ্যা ৩৫’এর উপরে। জেলার বৃহৎ বাজার জাউয়ার আশপাশের গ্রামেই আক্রান্তের সংখ্যা বেশি।
জাউয়া বাজারের ব্যবসায়ী এখলাছ মিয়া জানালেন, করোনার উপসর্গ নেই, এমন অনেকের নমুনা পরীক্ষার পর করোনা পজিটিভ দেখা গেছে। আমাদের মনে হচ্ছে করোনা আক্রান্ত ব্যক্তিরা স¦াস্থ্যবিধি না মেনে ঘুরা ফেরা করেছে এবং অন্যরাও এখন বিপদে পড়েছে।
ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. রাজিব চক্রবর্তী জানালেন, নমুনা সংগ্রহ শেষে পরীক্ষার ফলাফল অনুযায়ী দেখা গেছে যেখানেই লোক সমাগম বেশি, সেখানে আক্রান্তের সংখ্যা বেশি। ছাতক সিলেট বিভাগের অন্যতম শিল্প এলাকা। এখানে ঢাকা-চট্টগ্রাম থেকেও মানুষের আসা যাওয়া রয়েছে, সক্রমণ কমিউনিটি পর্যায়ে ব্যাপকতার এটি একটি কারণ হতে পারে। স্বাস্থ্যবিধি না মানা, কারণে-অকারণে বাজার হাটে মাস্ক ছাড়াই আসা যাওয়াও সক্রমণের মাত্রা বাড়িয়েছে। আমি মনে করছি বাজারে চা-পান এমনকি খুচরা সিগারেট বিক্রয়ের দোকান আপাতত বন্ধ রাখা জরুরি। নিত্যপণ্যও তিন-চার দিনের করে নিয়ে বাড়িতে রাখতে হবে, একেবারে প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের না হওয়া। আক্রান্ত ব্যক্তির বাড়ি ও আশপাশের বাড়ি’র লোকজনকে ঘরের ভেতরেও মাস্ক পরা জরুরি।
সিভিল সার্জন ডা. শামছুদ্দিন বলেন, উপজেলার দিক থেকে ছাতকে আক্রান্তের সংখ্যা অনেক বেশি। বুধবার থেকে এই উপজেলার হাট-বাজার শহরে জরুরি কাজ ছাড়া কাউকে বের হতে দেওয়া হবে না। কেবল মূল সড়ক অর্থাৎ ছাতক-সিলেট, ছাতক-সুনামগঞ্জ সড়কে চলাচল থাকবে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ বলেন, বুধবার থেকে ছাতক শহরে, জাউয়া, গোবিন্দগঞ্জসহ ছাতকের হাট বাজারে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন হবে। মাস্ক না থাকলে জরিমানা হবে এবং মাস্ক ছাড়া যেখানে পাওয়া যাবে, ওখানেই দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে হবে।