- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

ছাতকের পালপুর পয়েন্ট রণক্ষেত্র দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ৬৫ গুলি ও ককটেল বিনিময়

ছাতক প্রতিনিধি
ছাতকে পূর্ব বিরোধের জের ধরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে মহিলাসহ অন্তত ৬৫ জন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত ২৯ জনকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সোমবার সকালে উপজেলার দোলারবাজার ইউনিয়নের পালপুর গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। প্রায় দেড় ঘণ্টা ব্যাপি সংঘর্ষে পালপুর পয়েন্ট এলাকা এক পর্যায়ে পরিণত হয় রণক্ষেত্রে। সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ও টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে। এসময় দোলাবাজারসহ আশপাশ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে অজানা আতংক।
স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, পালপুর গ্রাম সংলগ্ন লায়েক-পতিত ভূমিতে বড় হওয়া কয়েকটি গাছ কেটে নেয়াকে কেন্দ্র করে প্রায় দেড় মাস আগে গ্রামের মৃত হারিছ আলীর পুত্র নুর মিয়ার সাথে পালপুর মাদ্রাসা কমিটির বিরোধ সৃষ্টি হয়। মাদ্রাসা কমিটির দাবি, লায়েক-পতিত ভূমির এসব গাছ বিক্রি করে বিগত দিনে মাদ্রাসার উন্নয়নে ব্যয় করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে নুর মিয়ার সাথে গ্রামের লোকজনের কয়েক দফা বৈঠক হলেও কোন সুরাহা হয়নি। এ নিয়ে গত ১৯ নভেম্বর বিকেলে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। ওই সংঘর্ষে ৫জন গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ৩০ ব্যক্তি আহত হয়েছিলেন। সংঘর্ষের ঘটনায় থানায় পাল্টাপাল্টি মামলাও  দায়ের করা হয়। এসময় পালপুর পয়েন্টে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। প্রায় দুই সপ্তাহ নিয়মিত পুলিশ প্রহরা থাকাবস্থায় বিষয়টি আপোষে নিষ্পত্তির চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয় এলাকাবাসী। গত দুই দিন ধরে উভয় পক্ষের লোকজনের মধ্যে আবারো উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এর জের ধরে        সোমবার সকালে নুর মিয়া পক্ষ ও আবুল হোসেন পক্ষের লোকজন সশস্ত্র সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। সংঘর্ষ চলাকালে কয়েক রাউন্ড গুলি ও ককটেল নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে ২ রাউন্ড টিয়ারসেল ও ২ রাউন্ড ফাঁকা গুলি নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
সংঘর্ষে গুরুতর আহত রাহিম উদ্দিন (৩৫), নোমান (২৮), সুন্দর আলী (৪৫), কয়েছ (২৫), জামাল আহমদ (৩০), এমরান (২৮), নুর মিয়া (৭০), সিরাজ মিয়া (৩৩), আবুল হোসেন (৩০), মইনুল হোসেন (২৩), সেলিম (২২), সুনু মিয়া (৪৫), সুফিয়া বেগম (৪০), জাহাঙ্গির (৩০), মইনুল (২২), তাহিদ মিয়া (৪২), নুরুল আলম (২৫), শাহ আলম (৩০), হাছন আলী (৬৫), মিজানুর রহমান (২৫), হাসান (১৭), সোহেল (২২), আছলম আলী (৭০), রাজু আহমদ (২৫), সাইদুল (৩৫), ফয়জুল (৪০), মোশাহিদ (৩৫), শরীফ আলম (৩০) ও আবুল কালাম (৪২)কে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আজিজুর রহমান মিয়া (৪০), আছদ আলী (৪৫), বশির আহমদ (৫৫), সাব্বির আহমদ (২৯), সমর উদ্দিন (৪৫), কামরান আহমদ (২৫), ফখর উদ্দিন (৩০), রুছমত আলী (৩০), কবির আহমদ (২০), নুর উদ্দিন (৪৫), হাসান (১৬), রাকিম আহমদ (৫০), আ্দুস ছালাম (৩০), জুয়েল আহমদ (২২), তোফায়েল, সাইফুল তাহিদ, শাফী, আব্দুল জব্বারসহ অন্যান্য আহতদের কৈতকসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি ও চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
নুর মিয়ার পুত্র মাহবুব জানান, প্রতিপক্ষের লোকজন তাদের উপর হামলা করার জন্য পরিকল্পনা করে আসছিল। নিরাপত্তার জন্য তাদের পক্ষ থেকে থানায় একটি জিডিও করা হয়েছিল। পূর্ব পরিকল্পিতভাবে সোমবার সকালে তাদের বাড়ি ঘেরাও করে প্রতিপক্ষের লোকজন অতর্কিত হামলা চালায়। এসময় তাদের বাড়ি লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলিও ছুঁেড় তারা।
অন্যপক্ষের আবুল হোসেন ও ইউপি সদস্য আতিকুর রহমান জানান, পূর্ব বিরোধের জের ধরে সকালে নুর মিয়ার বাড়ির সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় তাদের পক্ষের মন্তাজ আলীর ছেলে রাকিম আলীর উপর ঢিল ছুঁরে তাকে আহত করে নুর মিয়ার লোকজন। এ ঘটনায় উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে গেলে প্রতিপক্ষ তাদের লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ও ককটেল নিক্ষেপ করে।
গ্রামের আব্দুল জলিল মানিক জানান, সংঘর্ষে তার স্কুল পড়–য়া পুত্র হাসান (১৭) আহত হয়ে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হলে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নুর মিয়া পক্ষের লোকজন হাসানকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। তার অবস্থা বর্তমানে আশংকাজনক।
ছাতক থানার এসআই তরিকুল ইসলাম গুলি বিনিময়ের কথা অস্বীকার করে জানান, সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ দুই রাউন্ড টিআরসেল নিক্ষেপ করেছে।
ছাতক থানার ওসি আশেক সুজা মামুন জানান, পরিস্থতি বর্তমানে শান্ত রয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

  • [১]