ছাতকে একটি লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানি কর্তৃক গ্রাহকদের ডিপোজিট পেনসন স্কিম (ডিপিএস) ও বীমা দাবির মেয়াদ পূর্তির পরও টাকা ফেরত দেয়া হচ্ছে না বলে গ্রাহকরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন। রবিবার এই বিক্ষোভ করার আগেও একদিন গ্রাহকরা এরকম বিক্ষোভ করেছেন। পুলিশ এসে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দিয়েছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট ইন্সুরেন্স কোম্পানি কখন টাকা ফেরত দিবে সে নিয়ে কোন সুস্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায় নি। গোল্ডেন লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানি নামক প্রতিষ্ঠানটির ছাতক অফিসের দায়িত্বমীল কারও বক্তব্যও জানা যায় নি, কারণ গণমাধ্যমকর্মীরা বারবার চেষ্টা করেও প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীলদের কোন বক্তব্য সংগ্রহ করতে পারেন নি। বিষয়টি সম্পর্কে পুলিশ বা প্রশাসনের কোন বক্তব্য জানা যায় নি। ফলে ওই প্রতিষ্ঠানে আমানতকারীদের আমানতকৃত অর্থ ফেরৎ পাওয়ার বিষয়ে কোন ধারণা পাওয়া যাচ্ছে না। অতীতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নানাভাবে আমানতকারীদের আমানত লুপাট করেছে। বহু কোম্পানি লাপাত্তা হয়েছে মানুষের অর্থ সংগ্রহ করে। ডেসটিনি কিংবা যুবক নামক প্রতিষ্ঠান দুইটির গ্রাহক প্রতারণা ও অবৈধ কাজকর্মের খবর তো সারা দেশবাসীর জানা। এরকম অবস্থায় ছাতকের গোল্ডেন লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানির বিরুদ্ধে গ্রাহকদের অভিযোগ দ্রুত খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়া উচিৎ। গ্রাহকরা অভিযোগ করেছেন, ডিপিএস’র মেয়াদ শেষ হওয়ার পর টাকা চাইতে এলে তাদের নানাভাবে হয়রানি করা হয়েছে । নিয়ম মোতাবেক এরকম ক্ষেত্রে মেয়াদপূর্তির পর স্বাভাবিকভাবে গ্রাহকদের টাকা দিয়ে দেওয়ার কথা। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি কেন এমন আচরণ করছে? এই আচরণ থেকে আমাদের ভয় হয়। কারণ ঘর পুড়া গরু আগুনে মেঘ দেখলেই ভয় পায়।
গ্রাহকদের বিক্ষোভকে আমলে নিয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনিকে দ্রুত অনুসন্ধান করা উচিৎ। কেন তারা গ্রাহকদের টাকা ফেরত দিতে গড়িমসি করছেন তা ভালভাবে অনুসন্ধান করা দরকার। গ্রাহকদের উচিৎ হবে আইনিভাবে টাকা ফেরতের রাস্তায় হাঁটা। তাঁরা স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করতে পারেন। সেক্ষেত্রে পুলিশ প্রশাসনের সুযোগ হবে তদন্ত করা। আমরা কথিত ইন্সুরেন্স কোম্পানির কোন অসুদ্দেশ্য রয়েছে, এরকম কোন মন্তুব্য এখনই করতে চাই না। তবে এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্বশীলদের পরিষ্কার বক্তব্য দেয়া প্রয়োজন।
ডেসটিনি কিংবা যুবকের বিরুদ্ধে আইনি প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের পরও দেশে অবৈধ এমএলএম ব্যবসা যেমন বন্ধ হয় নি তেমন বন্ধ হয় নি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ড ব্যবহার করে লোক ঠকানোর ঘটনাও। সুতরাং কোন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া মাত্র ব্যবস্থা গ্রহণ করা আবশ্যক। এক্ষেত্রে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে বাংলাদেশ ব্যাংক ও বীমা প্রতিষ্ঠানসমূহ তদারকির দায়িত্বে নিয়োজিত সরকারি প্রতিষ্ঠানের আশু পদক্ষেপ নেয়া একান্ত প্রয়োজন। আমরা ছাতকের বীমা গ্রাহকদের কথিত অভিযোগের বিষয়টি তাই জরুরিভাবে সমাধান করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। প্রকাশ্যে গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা সদরে অফিসে সাজিয়ে বসা কোন আর্থিক প্রতিষ্ঠান সকলের নাকের ডগায় পরিশোধযোগ্য হওয়ার পরও মানুষের আমানতের অর্থ ফেরৎ দিতে টালবাহানা করবে এটি কখনও মেনে নেওয়ার মত নয়।