- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

ছাতকের সুরমা নদীতে চলছে পরিবেশ বিধ্বংসী ভ্রাম্যমাণ ওয়াসিং মেশিন

ছাতক প্রতিনিধি
ছাতকের সুরমা নদীতে পাথর ক্রাসিং ও লোডিংয়ের কাজে ব্যবহার করা ভ্রাম্যমাণ ওয়াসিং মেশিনের কারণে নদীর স্বাভাবিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে দুষিত হচ্ছে। পাশাপাশি নদীতে ডাস্ট পড়ে নদীর তলদেশ ক্রমশ: ভরাট হয়ে নদী হারাচ্ছে নাব্যতা।
একাধিক ওয়াসিং মেশিন ব্যবহারে পানি দুষিত হওয়ায় নদীর মাছ মরে যাওয়ার আশংকা করছে স্থানীয় মৎস্যজীবীরা। নদীর দুষিত পানিতে গোসল করা মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে বিভিন্ন ধরনের চর্ম রোগ। সুরমা নদীর তীরবর্তী ক্রাসার ও ভ্রাম্যমাণ ওয়াসিং মেশিন বন্ধে গত ২১ জানুয়ারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দেন চরেরবন্দ মহলার মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের পক্ষে মৃত সুলেমান আলীর পুত্র আমির আহমদ।
বিষয়টি দ্রুত ব্যবস্থা নিতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) শেখ হাফিজুর রহমানকে দায়িত্ব দেয়া হয়। কিন্তু পরিবেশ বিধ্বংসী ওয়াসিং মেশিন এখনো বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। উপরন্তু নদীতে ভ্রাম্যমাণ ওয়াসিং মেশিনের সংখ্যা ক্রমেই রেড়েই চলেছে। ফলে নদীর পানি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে উঠছে। ভ্রাম্যমাণ ওয়াসিং মেশিন বন্ধ করা না হলে এক পর্যায়ে চর্মরোগ মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ার আশংকা করছেন স্থানীয়রা। একই সাথে নদী ভরাট ও নদীর মাছ বিলুপ্তি হওয়ার সম্ভাবনাও দেখা দিয়েছে।
জানা যায়, শহরের তাঁতিকোণা থেকে পুরাতন কাষ্টম এলাকা পর্যন্ত ২০-২৫টি ওয়াসিং মেশিন দিয়ে দিবা-রাত্রি পাথর ক্রাসিং ও লোডিংয়ের কাজ করছে কতিপয় ব্যবসায়ী। তবে দিনের চেয়ে রাতেই ওয়াসিং মেশিন বেশী ব্যবহার হয়ে থাকে স্থানীরা অভিযোগ করেছেন। এসব মেশিন ব্যবহারের কোন বৈধতা নেই বলে ভুক্তভোগি অনেকেই দাবি জানিয়েছেন। নোয়ারাই ও তাঁতীকোণা থেকে মন্ডলীভোগ পর্যন্ত কয়েকটি মহল্লার সাধারণ মানুষ এবং ছাতকে আসা কয়েক’শ বার্জ-কার্গো, ভলগেট-ইঞ্জিন চালিত নৌকায় থাকা লোকজন নদীর পানিই দৈনন্দিন কাজে নিয়মিত ব্যবহার করে থাকে। নদীর পানি সম্পূর্ণরূপে নষ্ট হওয়ার আগেই ভ্রাম্যমাণ ওয়াসিং মেশিন বন্ধ করা না গেলে নদীর পানির উপর নির্ভরশীল কয়েক হাজার মানুষ পড়বে চরম বিপাকে।
স্থানীয় ৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর নওশাদ মিয়া ও সাবেক কাউন্সিলর মাসুক মিয়া জানান, ওয়াসিং মেশিন ব্যবহার না করার জন্য বারবার বলেও কোন লাভ হয়নি। তাদের ব্যক্তি স্বার্থের কারণে তারা কারো কথা কর্ণপাত করেনি।
এ ব্যপারে সহকারী কমিশনার (ভূমি) শেখ হাফিজুর রহমান জানান, নদীর নব্যতা ও পরিবেশ রক্ষা করা সকলের নৈতিক দায়িত্ব। স্থানীয় ব্যবসায়িদের সাথে আলোচনা করে ওয়াসিং মেশিন বন্ধের নির্দেশনা দেয়া হবে। অন্যতায় পরিবেশ দুষণের কারণে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।      

  • [১]