ছাতক পৌর এলাকার সড়কে একটি অদ্ভুত ব্যবস্থা চালু আছে বলে সংবাদসূত্রে জানা গেল। যেটি বিভাগাধীন আর কোনো পৌরসভায় দেখা যায় না। সেই একমেবাদ্বিতীয়ম ব্যবস্থাটি হলো-ছাতক পৌর এলাকায় পণ্যবাহী যানবাহন থেকে ট্রিপ প্রতি পৌরসভাকে চাঁদা দিতে হয়। কোন্ ক্ষমতা বলে ছাতক পৌর কর্তৃপক্ষ ওই চাঁদা আদায় করেন তা জানা নেই কারও। এর প্রতিবাদে শুক্রবার একটি প্রতিবাদ সভা করেছেন ছাতক ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান মালিক সমিতি ও শ্রমিক সমিতির নেতৃবৃন্দ। তারা পৌরসভার চাঁদা বন্ধের দাবি করেছেন। একই সাথে তারা অভিযোগ করেছেন, লামাকাজি সেতুতে যানবাহনের নিকট থেকে অতিরিক্ত টোল আদায় করা হয়ে থাকে। নেতৃবৃন্দ সেতুতে অতিরিক্ত টোল আদায় বন্ধেরও দাবি জানিয়েছেন। যে দুইটি দাবিতে শ্রমিক ও মালিকরা প্রতিবাদ জানিয়েছেন তা ন্যায়সংগত এবং সেকারণে তাদের দাবি বিবেচনা করা উচিৎ। পরিবহন সেক্টরে চাঁদাবাজির তথ্য চমকে যাওয়ার মতো কোনো বিষয় নয়। সংগঠনগুলো পৌরসভার চাঁদা আদায় বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। কিন্তু তারা অন্যসব চাঁদার ব্যাপারে নিরবতা অবলম্বন করেছেন। আমরা জানি মালিক-শ্রমিক সংগঠনের নামেও চাঁদাবাজি হয় এই সেক্টরে। আরও নানান নামে রয়েছে এই অর্থ উপার্জনের কায়দাবাজি। চলতি পথে যাদের চোখ একটু খোলা থাকে তারাই এই চাঁদাবাজির দৃশ্য প্রত্যক্ষ করেন। সেচ্ছাচারিতা ও অনিয়ম যেখানে বসতি গেঁড়ে বসে সেখানে অনিয়মের পাহাড় তৈরি হবে তাতে আর আশ্চর্য কি। সাফ করতে হলে সবকিছুই পরিষ্কার করতে হবে। শুধু চাঁদাবাজির কারণে পরিবহন খাতে ব্যয় অনেক বেড়ে যায় যা আদতে মিটাতে হয় যাত্রী সাধারণকে। সিন্দবাদের ভূতের মতো জাঁকিয়ে বসা এই চাঁদাবাজির ভূত তাড়াতে পারলে পরিবহন ব্যবসায়ীদের খরচ কিছুটা কমবে। তারা সদিচ্ছাবান হলে এই সুবিধাটুকু দিতে পারবেন ভোক্তাদের। পরিবহন সেক্টরের সংগঠনগুলো ছাতকে যে বিশেষ একটি দাবি সামনে নিয়ে এসেছেন আমরা আশা করি সেখানে তারা এবং পুরো দেশের সংগঠনগুলো চাঁদাবাজির প্রত্যেকটি সেক্টর উৎখাতের জন্য সোচ্চার হবেন।
ইজারাদারি নতুন পন্থায় জমিদারি প্রথার মতো আরেক বিষয়। এখানে সরকারকে কিছু রাজস্ব দিয়ে সারাবছর টাকা কামাই করা যায়। লামাকাজি সেতু তৈরি হয়েছে অন্তত চল্লিশ বছর আগে। সেই থেকে সেতুতে টোল আদায় হয়ে আসছে। আসছে তো আসছেই। বন্ধ হওয়ার নাম ঠিকানা নেই। কতদিন পর্যন্ত এমনসব টোল আদায় করা যায়? সেতু নির্মাণে যে খরচ হয়েছে তা কি এতোদিনেও উঠে আসেনি? যদি উঠে আসে তাহলে সেতু থেকে লাগাতার টোল আদায়ের যৌক্তিকতা কি? সড়কে চলাচলের জন্য তো যানবাহনগুলোর নিকট থেকে সড়ক-কর বছর বছর নেয়া হয়ে থাকে। বাড়তি হিসাবে সেতুতেও টোল দেয়ার কোনো কারণ থাকতে পারে না। সেতু থেকে বছরের পর বছর ধরে টোল আদায়ের আইনগত দিক খতিয়ে দেখা দরকার। পরিবহন সেক্টরের সংগঠনগুলোকে এ ব্যাপারে তৎপর হতে হবে।
পরিবহন সেক্টরের সংগঠনগুলো কেমন যেন শুধু নিজেদের স্বার্থের কথাই ভাবেন। তারা যাদের কারণে ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে পেরেছেন সেই যাত্রীদের কথা খুব ভাবেন বলে মনে হয় না। জ¦ালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধিকে অজুহাত হিসাবে সামনে দাঁড় করিয়ে প্রকৃত অর্থে অধিক হারে ভাড়া বাড়ানোর জন্য তারা যে অযৌক্তিক ধর্মঘট শুরু করেছেন সেটি এর বড় প্রমাণ। অথচ তাঁরা এই সমাজেরই অংশ। প্রতিটি সামাজিক অভিঘাতে তারা মানুষের সাথে সমানভাবেই আন্দোলিত হন। শুধু যখন তারা পরিবহন সেক্টরে অবস্থান করেন তখন তারা নিজেদের অন্যদের চাইতে বিচ্ছিন্ন ভাবতে শুরু করেন। এই ধরনের মনোভাব থেকে তারা যত তাড়াতাড়ি বেরিয়ে আসতে পারবেন তত মঙ্গল।