বিজয় রায়, ছাতক
সুনামগঞ্জের ছাতকে অবৈধ বালু উত্তোলনকারী শ্রমিকদের হামলায় নৌ-পুলিশের ওসি, ৫ পুলিশ সদস্য সহ ৮ ব্যক্তি আহত হয়েছে। গুরুতর আহত ওসি সহ ৩ জনকে ভর্তি করা হয়েছে ছাতক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে। খবর পেয়ে সোমবার সকালে পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান এবং নৌ-পুলিশের এসপি সম্পা ইয়াসমিন আহতদের দেখতে হাসপাতালে যান।
রবিবার সন্ধ্যা রাতে উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের নেয়ামতপুর এলাকার চেলা নদীতে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
নৌ-পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ফরেস্ট বিভাগের সরকারী এলাকা থেকে নিষিদ্ধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে প্রতি রাতেই অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছিল স্থানীয় একটি অসাধু মহল। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় ৯টি ড্রেজার মেশিন দিয়ে ৫-৬টি বাল্কহেড লোড করছিল অর্ধশতাধিক শ্রমিক। ইনফরমেশন পেয়ে রবিবার সন্ধ্যায় ঘটনাস্থলে পৌছে নৌ-পুলিশের এক দল। বর্ষার পানিতে তলিয়ে যাওয়া ফরেস্ট বিভাগের ভূমি থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করায় তাদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া করেন নৌ-পুলিশের ওসি মনজুর আলম। একটি সিজার লিস্ট তৈরী করে ফেরার পথে চেলা নদীতে ৪টি ইঞ্জিন চালিত নৌকা যোগে প্রায় ৫০-৬০জন শ্রমিক লাঠি-সোটা নিয়ে নৌ-পুলিশের নৌকাকে ধাওয়া করে। এক পর্যায়ে নৌকায় থাকা নৌ-পুলিশের উপর চালায় বর্বরোচিত হামলা। প্রাণের ভয়ে পানিতে ঝাঁপ দিয়েও রক্ষা পায়নি নৌ-পুলিশের সদস্যরা।
অতর্কিত হামলায় গুরুতর আহত ছাতক নৌ-পুলিশের ইনচার্জ, ওসি মনজুর আলম, এসআই হাবিবুর রহমান ও কনষ্টেবল সৈকত কুমার দাসকে ছাতক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আহত নৌ-পুলিশের এএসআই সবুজ হোসেন, কনস্টেবল শাহজাহান মিয়া, কবির মিয়া ও নৌকার ২ মাঝিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
নৌ-পুলিশের ওসি মনজুর আলম জানান, স্থানীয় ইজারাদারের লোকজন পরিকল্পিতভাবে তাদের উপর হামলা করেছে। এক পর্যায়ে তারা পুলিশের ১২টি মোবাইল ফোন, মানিব্যাগসহ মালামাল লুট করে নেয়।
নৌ-পুলিশের এসপি সম্পা ইয়াসমিন জানান, হামলাকারীদের মধ্যে কয়েকজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। থানায় দায়ের করা হয়েছে নিয়মিত মামলা। তদন্তের স্বার্থে নাম প্রকাশ করা যাচ্ছে না।