- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

ছাতকে কর্মসৃজন প্রকল্পের ৩ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

ছাতক প্রতিনিধি
ছাতকে হত দরিদ্রদের কর্মসৃজন প্রকল্পের সরকারী বরাদ্দের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গ্রামের বাড়িয়ান রাস্তার মাটি ভরাট কাজের টাকা আত্মসাত করায় গ্রামের লোকজনের মাঝে বিরাজ করছে চরম অসন্তোষ। গ্রামীণ ৪টি রাস্তার মাটি ভরাট কাজের প্রায় ৩ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে গত ৫ সেপ্টেম্বর উপজেলার ভাতগাঁও ইউনিয়নের মৃত খুরশীদ আলীর পুত্র ও সাবেক ইউপি সদস্য ছইল মিয়া জেলা প্রসাশক বরাবরে একটি লিখিত আবেদন দিয়েছেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে গত মঙ্গলবার উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী গোলাম আম্বিয়া বিষয়টি সরজমিন তদন্ত করেছেন। জানা যায়, সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ক থেকে জালিয়া গ্রাম পর্যন্ত সড়কটি প্রধান সড়ক হিসেবে গ্রামের মানুষের কাছে পরিচিত। গ্রামের মানুষ ও স্কুল কলেজ পড়–য়া শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার জন্য সম্প্রতি গ্রামের বিভিন্ন বাড়ী হইতে প্রধান সড়ক পর্যন্ত ৪টি রাস্তায় মাটি ভরাটের জন্য হত দরিদ্রদের কর্মসৃজন প্রকল্পের ৪০ দিনের কর্মসুচী বাবদ ২ লক্ষ ৯৬ হাজার টাকা সরকারী বরাদ্দ দেয়া হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে জালিয়া গ্রামের মৃত জমসেদ আলীর পুত্র ইকবাল আহমদকে প্রকল্প চেয়ারম্যান ও ১নং ওয়ার্ড সদস্য সুজাত আহমদকে সদস্য করে ৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু কোন কাজ না করেই বরাদ্দের সাকুল্য সরকারী টাকা আত্মসাত করা হয়।
জালিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি আলী আসকর জানান, গ্রামের মানুষের চলাচলের সুবিধার্থে গ্রামের প্রধান সড়ক হতে আমিনুল ইসলামের বাড়ী পর্যন্ত, শওকত আলীর বাড়ী হতে প্রধান সড়ক পর্যন্ত, আখরাম হোসেনের বাড়ী হতে প্রধান সড়ক ও আজগর আলীর বাড়ী হতে প্রধান সড়ক পর্যন্ত মাটি ভরাট কাজের সরকারী বরাদ্দ প্রায় ৩ লক্ষ টাকা আত্মসাত করা হয়েছে। কোন প্রকার কাজ না করিয়ে গ্রামবাসীকে উন্নয়ন বঞ্চিত রেখে গত ৩০ আগস্ট ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করে ভাগ বাটোয়ারা করা হয়েছে।
গ্রামের হাজী আসকন্দর আলী, আনা মিয়া, আব্দুল কাদির, আব্দুর রকিব, নিজাম উদ্দিন, সমসুল আমিন, হাজী আব্দুল জাহির, আমির আলীসহ লোকজন জানান, গত এক বছরের মধ্যে মাটি ভরাট কাজে গ্রামের রাস্তায় এক টুকরিও মাটি ফেলা হয়নি।
সাবেক মেম্বার ছইল মিয়া জানান, তিনি দায়িত্বে থাকাকালীন সময়ে জালিয়া গ্রামের রাস্তায় মাটি ভরাট কাজ সম্পন্ন হয়েছে। সম্প্রতি গ্রামের বাড়িয়ান রাস্তার কর্মসৃজন প্রকল্পের সরকারী বরাদ্দের ২ লক্ষ ৯৬ হাজার টাকার কোন কাজ করা হয়নি।
গ্রামের লোকজন আরো জানান, প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয়ের কর্মকর্তা তদন্তে এসে রাস্তাগুলো না দেখেই তিনি ফিরে গেলেন। এতে প্রকৃত সুবিচার খেকে বঞ্চিত হওয়ার আশংকা করছেন গ্রামবাসী। প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য ও বর্তমান ওয়ার্ড মেম্বার সুজাত আহমদ তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বিকার করেছেন।
প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয়ের তদন্ত কর্মকর্তা গোলাম আম্বিায়ার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

  • [১]