ছাতক প্রতিনিধি
ছাতকে সরকারি খালের দখল নিয়ে দু’পক্ষের সংঘর্ষে পুলিশসহ অর্ধশতাধিক লোক আহত হয়েছে। সংঘর্ষে গুরুতর আহত অন্তত ১৫ জনকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শনিবার সকালে উপজেলার কালারুকা ইউনিয়নের রায়সন্তোষপুর গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল করিম ও ছালিক মিয়া পক্ষদ্বয়ের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, ছাতক-গোবিন্দগঞ্জ সড়কের ঝাওয়া ব্রীজের নীচ ও ব্রীজ সংলগ্ন রেলওয়ে এবং সওজর খাল প্রায় ৬ বছর আগে বার্ষিক লিজ নিয়ে ভোগ দখল করে আসছেন রায়সন্তোষপুর গ্রামের আব্দুল করিম। গ্রামবাসীদের মতে বিগত কয়েক বছর ধরে সরকারীভাবে কোন লিজ না দেয়ায় বিনা লিজে
অবৈধভাবে সরকারী এ খাল দখল করে মাছ আহরণ করে আসছেন আব্দুল করিম। বিষয়টি নিয়ে গ্রামের লোকজনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করে আসছিল। গত কয়েক দিন ধরে এ খাল গ্রামের মসজিদের উন্নয়নে ব্যবহারের জন্য প্রস্তাব দিলে গ্রামের ছালিক মিয়ার সাথে আব্দুল করিমের বিরোধ সৃষ্টি হয়। শনিবার সকালে ছালিক মিয়া পক্ষের লোকজন সরকারি এ খাল দখল নিতে এসে আব্দুল করিম পক্ষের লোকজনের সাথে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে ছালিক মিয়ার পক্ষে গ্রাামবাসী সংঘর্ষে জড়িয়ে গেলে গোটা ঝাওয়া এলাকা পরিণত হয় রণক্ষেত্রে। সংঘর্ষ চলাকালে ছাতক-গোবিন্দগঞ্জ সড়ক পথে প্রায় আড়াই ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে সড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। সংঘর্ষে পুলিশসহ উভয় পক্ষের অর্ধশতাধিক লোক আহত হয়।
গুরুতর আহত আব্দুল করিম (৬০), ইউপি সদস্য আকল মিয়া (৩৮), মছব্বির আলী (৮০), গৌছ উদ্দিন (৪০), কুতুব উদ্দিন (২৫), আব্দুল কাদির (৪৫), আব্দুল মতিন (২৬), জুয়েল মিয়া (২২), সাহাব উদ্দিন (৭০), আব্দুল আহাদ (৬৫), এজ্জামিন মিয়া (২৮) কে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তারেক মিয়া (৩২), লিটন মিয়া (৩০), রজব আলী (৫৫), হরমুজ আলী (৩৮), আব্দুল মছব্বির (৪০), কবির আহমদ (৩৭), লুকুছ মিয়া (৩৫), মজলু মিয়া (৪০), সাদিক মিয়া (৩২), সোয়েব আহমদ (১৬), নিলু মিয়া (২০), সামছুদ্দিন(২৭), এহসান (২৫), কাওসার আহমদ (৩০)সহ আহতদের ছাতক, কালারুকা ও কৈতক হাসপাতালে ভর্তি ও চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে ছাতক থানার এসআই তরিকুল ইসলাম, কনস্টেবল জুনেদ আহমদ ও কনষ্টেবল সজল আহত হন। এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
ছাতক থানার ওসি আশেক সুজা মামুন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।