- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

ছাতকে জঙ্গী সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি ছিল বছরের বহুল আলোচিত ঘটনা

বিজয় রায়, ছাতক
বিদায়ী বছরে ছাতকে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ছিল জঙ্গী সংশ্লিষ্টতা ও ঘটনাবহুল গ্রাম মুনিরজ্ঞাতি। জঙ্গি তৎপরতা বৃদ্ধির কারণে দেশের সর্বত্র যখন বিরাজ করছিল এক অজানা আতংক, তখন জঙ্গি সংশ্লিষ্টতায় কোন না কোনভাবে চলে আসছে ছাতকের নাম।
৮ অক্টোবর গাজীপুরে জঙ্গি আস্তানায় পুলিশের অভিযানে নিহত দেশের শীর্ষ জঙ্গি সাইফুর রহমান বাবলুর বাড়ি ছাতকের দক্ষিণ খুরমা ইউনিয়নের মুনিরজ্ঞাতি গ্রাম। পুত্রের জঙ্গি হওয়ার পেছনের কারণ জানতে বাবলুর পিতা মতিউর রহমান ওরফে ময়না শাহকে থানায় ৩ দিন জিজ্ঞাসাবাদ করে ছেড়ে দেয়া হয়। আইন-শৃংখলা বাহিনীর দাবি মতে গাজীপুরে নিহত ৯ জঙ্গির মধ্যে ৩ জনের বাড়ি ছাতক উপজেলায়। একই সময়ে নিখোঁজ হওয়া সাইফুর রহমান বাবলুর বাল্যবন্ধু একই গ্রামের আব্দুস ছালামের পুত্র আব্দুল বাছিতও কোন জঙ্গি গ্রুপের সাথে জড়িত কি না তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এশিয়ার বৃহত্তম ঈদগাহ কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় গত রমজানের ঈদের জামাতে জঙ্গি হামলার মূল পরিকল্পনাকারী ছাতকের ভাতগাঁও ইউনিয়নের বরাটুকা আল-হিকমা জামেয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মেহেদী হাসান। বিদায়ী বছরে জঙ্গি তৎপরতায় জড়িত থাকার অভিযোগে এবং প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের একাধিক মন্ত্রী ও এমপিকে ইন্টারনেটে হত্যার হুমকীদাতা আব্দুল হককে সিলেট শহর থেকে গ্রেফতার করা হয়। উপমহাদেশের শীর্ষ সাইবার ক্রিমিনাল আব্দুল হকের বাড়ি ছাতকের ইসলামপুর ইউনিয়নের গাংপাড়-নোয়াকোট গ্রামে। আব্দুল হক গ্রেফতার হওয়ার প্রায় এক সপ্তাহ পর তার সহযোগি একই ইউনিয়নের নীজগাঁও গ্রামের তোফজ্জল হোসেনের পুত্র আমিনুর রহমানকেও সিলেট থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বছরের আলোচিত বিষয়ের মধ্যে পৌর টেক্স নিয়ে পৌরসভা ও সিএনজি শ্রমিক সংগঠনের মধ্যে সৃষ্ট অচলাবস্থা প্রায় দুই মাস পর্যন্ত গড়ায়। এ নিয়ে উপজেলা প্রশাসন, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একাধিক সমঝোতা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
মানি লন্ডারিং মামলায় পুত্রসহ গোবিন্দগঞ্জ-সৈদেরগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান সুন্দর আলী গ্রেফতার হওয়ার বিষয়টি বছরের বেশ আলোচিত বিষয় ছিল । ৯ এপ্রিল রাতে সুহিতপুর গ্রামের নিজ বাড়ী থেকে ও যুক্তরাজ্যে পালিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে সিলেট ওসমানী বিমান বন্দর থেকে পরদিন ভোরে তার পুত্র শিপনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
বিদায়ী বছরের ২২ এপ্রিল কালবৈশাখী তান্ডবে দক্ষিণ খুরমা ইউনিয়নের হাদনালী, পুড়াকাটি, হরিশ্বরন, রামচন্দ্রপুর, হলদিউড়া, উত্তর খুরমা ইউনিয়নের রসুলপুর, বিহাই, ধারনবাজার, চরমহলা ইউনিয়নের চরমহলাবাজার টেটিয়ারচর, খরিদিচর, চরমাধব, চুনারুচর, কালিয়ারচর, চরচৌলাসহ আরো কয়েটি গ্রাম লন্ডভন্ড হওয়ার বিষয়টি ছিল আরোচিত ঘচনার অন্যতম। প্রায় দুই শতাধিক পরিবার কালবৈশাখী ঝড়ে হয়ে পড়ে নিঃস্ব। ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় এগিয়ে আসে সামাজিক-রাজনৈতিক সংগঠন, বিত্তবান ও প্রবাসীরা। পুনর্বাসনে বাড়িয়ে দেয় সাহায্যের হাত। ঝড়ে ক্ষয়-ক্ষতির পাশাপাশি নিহত হয় খরিদিচর গ্রামের আব্দুল হকের স্ত্রী আনোয়ারা বেগম। আহত হয় শিশুসহ বহু মানুষ। এ ছাড়া বছড় জুড়েই সংঘর্ষ, ছিনতাাই, চুরি ও একধিকি ধর্ষনের ঘটনা ঘটে।  

  • [১]