- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

ছাতকে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে ৪ ডাকাত আটক

ছাতক প্রতিনিধি
ছাতকে স্থানীয় জনতা ও থানা পুলিশ ধাওয়া করে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ৪ সদস্যকে আটক করেছে। রবিবার মধ্যরাতে শিববাড়ি খেয়াঘাট সংলগ্ন সুরমা নদী পথে পালিয়ে যাওয়ার সময় তাদের আটক করা হয়। ধাওয়া করার সময় ডাকাতদের ছুঁড়া ইট-পাটকেলে অন্তত ২৫ ব্যক্তি আহত হয়েছে। এসময় ধাওয়া করা জনতার গনধোলাইয়ের শিকার হয় ৪ ডাকাত। মধ্য রাতে ডাকাত আতংকে সুরমা নদীর উভয় পাড়ের কয়েক হাজার মানুষ নদী পাড়ে এসে ভীড় জমায়। আটককৃতরা হল কোম্পানীগঞ্জের উপজেলার ইছাকলস ইউনিয়নের বটেরতল পুটামারা গ্রামের রইছ আলীর পুত্র হাবিবুর রহমান ওরফে গেদা মিয়া(৩০), সিলেটের জালালাবাদ থানার মানসীনগর গ্রামের মৃত আব্দুন নুরের পুত্র সাইদুর রহমান(২৮), একই গ্রামের মৃত জমসিদ আলীর পুত্র জামাল আহমদ(৩৭) ও বিশ্বনাথ উপজেলার তবলপুর গ্রামের আব্দুল আহাদের পুত্র আলী আকবর(২৫)। জনতার গনধোলাইয়ের শিকার গুরুতর আহত ডাকাত সাইদুর রহমান ও জামাল আহমদকে পুলিশ প্রহরায় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে । আহত ডাকাত হাবিবুর রহমান ও আলী আকবরকে ছাতক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে সাইদুর রহমান জালালাবাদ থানার একটি মামলায় ১৭ বছর সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামী বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত প্রায় ১টার দিকে ১০-১২ জনের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দল ইঞ্জিন চালিত কাঠবডির একটি নৌকা যোগে এসে নোয়ারাই ইউনিয়নের চরভাড়া গ্রামের ছৈদ আলীর পুত্র হুসন আলীর গোয়ালঘর থেকে ৫টি, মত হাসমত উল্লাহর পুত্র সিরাজ মিয়ার গোয়ালঘর থেকে ৪টি ও আফতাব মিয়ার পুত্র ফকির আলীর গোয়ালঘর থেকে ২টি গরু নৌকায় তুলে নেয়। গভীর রাতে ইঞ্জিনচালিত নৌকার শব্দে সুরমা নদীর উভয় পাড়ের মানুষ জেগে উঠে ডাকাতের উপস্থিতির কথা মসজিদের মাইকে জানিয়ে দেয়া হয়। এসময় নৌকা ভর্তি গরু দেখে উভয় পাড় থেকে ডাকাতদের ধাওয়া করে জনতা। কয়েকটি ইঞ্জিন চালিত নৌকা যোগে গ্রামের লোকজন ডাকাতদের পিছু নিলে ডাকাতরা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে জনতার ধাওয়া খেয়ে পালিয়ে যাওয়ার পথে শিববাড়ি ফেরিঘাট এলাকায় নৌ-পথে টহলরত পুলিশের বাধার মুখে পড়ে ডাকাতরা। পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে ধাওয়া করা একটি নৌকার সাথে ধাক্কা লেগে ডাকাতের নৌকাটি গরুসহ নদীতে তলিয়ে যায়। এসময় ৪ ডাকাতকে আটক করা হলেও সহযোগি অন্য ডাকাতরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
নৌকার সাথে বেঁধে রাখা ১১টি গরুর মধ্যে দু’টি গরু রশি ছিঁেড় সাঁতার কেটে ডাঙ্গায় উঠতে সক্ষম হয় ও বাকী ৯টি গরু নৌকায় বাঁধা অবস্থায় মারা যায়। তলিয়ে যাওয়া নৌকা ও গরুর সন্ধান পাওয়া যায় নি। ডাঙ্গায় উঠা গরু দু’টি থানার মাধ্যমে সোমবার গরুর মালিক হুসন আলী ও সিরাজ মিয়াকে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
ছাতক থানার ওসি (তদন্ত) আশরাফুল ইসলাম জানান, গ্রেফতারকৃতদের পুলিশ প্রহরায় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও ছাতক হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

  • [১]