- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

ছাতকে তলিয়ে গেছে রোপা আমন বীজতলা

বিজয় রায়, ছাতক
ছাতকে টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি তলিয়ে গেছে রোপা-আমন ক্ষেত ও বীজতলা। বর্তমানে সুরমা, চেলা ও পিয়াইন নদীর পানি বিপদসীমার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ইতিমধ্যেই শতকরা ৭০ ভাগ রোপা-আমন বীজতলা পানিতে তলিয়ে গেছে। রোপনকৃত আমন জমি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে বিরাজ করছে হতাশা। শাক-সবজীর বাগানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অতিবৃষ্টির কারণে জমে থাকা পানিতে। ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকায় সহসা পানি না কমার আশংকাও করছেন কৃষকরা। দ্রুত পানি না কমলে নতুন বীজতলা প্রস্তুত ও জমিতে হালিচারা রোপন করার সম্ভবনা দেখছেন না তারা।
উপজেলার ১টি পৌরসভা ও ১৩টি ইউনিয়নেই রোপা-আমন ফসলের কম-বেশী ক্ষতি হয়েছে বলে কৃষকরা জানিয়েছেন। এর মধ্যে নোয়ারাই, ইসলামপুর, কালারুকা, চরমহল্লা, ভাতগাঁও, সিংচাপইড় ও উত্তর খুরমা ইউনিয়নে তুলনামূলক বেশী ক্ষতি হয়েছে। চলতি মৌসুমে রোপা-আমন ধানের জন্য ৭০৫ হেক্টর জমিতে বীজতলা প্রস্তুত করা হয়েছিল। এর মধ্যে অধিকাংশ বীজতলাই বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে নষ্ট হয়ে গেছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে ৬৮১ হেক্টের জমিতে রোপা-আমন চাষের জন্য বীজতলা প্রস্তুতের লক্ষমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে। কিন্তু লক্ষমাত্রা ছাড়িয়ে ৭০৫ হেক্টর জমিতে বীজতলা প্রস্তুত করা হয়। ভারী বর্ষণের কারণে অন্তত ৫ হেক্টর জমির বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে। নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হয়ে রোপনকৃত আরো ১০ হেক্টর জমি তলিয়ে গেছে। এসব জমির রোপনকৃত চারা পানিতে পচে নষ্ট হয়ে যাবে বলে কৃষকরা মনে করছেন। তবে পানি নেমে গেলে এসব জমিতে দেরীতে রোপন করা যায় এমন নাভী জাতের বীজ দিয়ে আবারো চাষাবাদ করা সম্ভব।
উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সোয়েব আহমদ জানান, চলতি মৌসুমের জন্য ১৩ হাজার ৯ হেক্টর জমিতে রোপা-আমন চাষাবাদ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে। এর মধ্যে উপশী জাতীয় ১১ হাজার ৫৩০ হেক্টর এবং স্থানীয় জাতের ১ হাজার ৫৬২ হেক্টর। ইতিমধ্যেই উপশী জাতে ৪ হাজার ৩৮০ হেক্টর এবং স্থানীয় জাতের ২৩ হেক্টর জমিতে রোপা-আমন চাষাবাদ করা হয়েছিল। অতিবৃষ্টি কারণে বেশ কিছু বীজতলা ও রোপনকৃত জমি নষ্ট হয়ে গেছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তৌফিক হোসেন খান জানান, কৃষকদের ক্ষতি পোষানোর জন্য কৃষি অফিস কর্তৃক বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। কৃষকদের সাথে যোগাযোগ ও কৃষি ভিত্তিক পরামর্শ দেয়ার জন্য ইউনিয়নে নিয়োজিত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ক্ষতি পুষিয়ে আনার জন্য ইতিমধ্যেই নাভী জাতের বীজ কৃষকদের মধ্যে বিতরণ শুরু করা হয়েছে।

  • [১]