- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

ছাতকে নৌ-পথে চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম বন্ধে মাঠে নেমেছে পুলিশ

ছাতক প্রতিনিধি
ছাতকের নৌ-পথে অবৈধ চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম বন্ধে মাঠে নেমেছে পুলিশ। প্রশাসনের অভিযানও চলছে নিয়মিত। নৌ-পথে চাঁদাবাজী বন্ধে থানা পুলিশের উদ্যোগে মাইকযোগে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালানো হয়েছে। রবিবার দিনব্যাপী নৌকা যোগে সুরমা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে মাইকে প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে নৌ-চাঁদাবাজদের শতর্ক করে দেয় পুলিশ। নদী পথে চাঁদাবাজী বন্ধে আইনীভাবে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার কথাও মাইকে প্রচার করা হয়।
ছাতকের সুরমা, চেলা, পিয়াইন, বটেরখাল নৌ-পথে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ চাঁদাবাজরা তাদের রাম রাজত্ব কায়েম করে আসছে। এসব নদী দিয়ে চলাচলরত বার্জ, কার্গো, বাল্কহেডসহ ইঞ্জিন চালিত নৌকা থেকে ১ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করার বিষয়টি একটি চলমান রীতিতে পরিণত করা হয়েছে এখানে। বিভিন্ন সমিতির নাম লিখা রশিদ দিয়ে নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে চাঁদাবাজরা চাঁদা আদায় কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে দুর্দান্ত দাপটে। ইঞ্জিন চালিত ছোট-ছোট নৌকা দিয়ে নদীতে চলমান এসব নৌ-যান থেকে চাঁদা আদায় করছে চাঁদাবাজদের নিয়োজিত লোকজন। এসব চাঁদা আদায়কারীরা দৈনিক মজুরীর ভিত্তিতে নৌ-পথে চাঁদা আদায় কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। তাদের দাবিকৃত চাঁদা না দেয়া হলে তারা নৌ-যান শ্রমিকদের মারপিটসহ মালামাল লুট করে নেয়ার অভিযোগও রয়েছে। যে কারণে নিজেদের নিরাপত্তার কথা ভেবেই নৌ-যান শ্রমিকরা নিয়মিত চাঁদা দিয়ে নৌ-পথে মালামাল পরিবহন করে আসছে।
এক সমীক্ষা থেকে জানা যায়, সিলেটের গেয়াইনঘাট থেকে সুনামগঞ্জ পর্যন্ত পৌঁছতে একটি নৌ-যানকে প্রায় ১৮ হাজার টাকা চাঁদা দিতে হয়। চাঁদাবাজী রোধে মাঝে মধ্যে পুলিশি অভিযানে চাঁদা আদায়কারীরা ধরা পড়লেও মূল চাঁদাবাজরা থেকে যায় পর্দার আড়ালে। যার ফলে আইনী বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়ার পরও নৌ-পথে বেপরোয়া চাঁদাবাজী বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। নৌ-পথে চাঁদাবাজী বন্ধে এখানের ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন সময় আইনের স্মরণাপন্ন হয়েছেন। চাঁদাবাজী বন্ধে আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে স্মারকলিপি দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। উপজেলা আইন-শ্রঙ্খলা কমিটির সভায়, জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় সুনামগঞ্জ ও ছাতক নৌ-পথে চাঁদাবাজীর বন্ধের বিষয় গুরুত্বের সাথে আলোচিত হয়েছে একাধিকবার। আইনী পদক্ষেপও নেয়া হয়েছে। এছাড়া স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় এবং টেলিভিশনে ছাতকের নৌ-পথে বেপরোয়া চাঁদাবাজীর কথা ফলাও করে প্রকাশ করা হয়েছে। কিন্তু কোনভাবেই নদী পথে চাঁদাবাজদের রুখে দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। নদী পথে চাঁদাবাজীর বিষয়টি এখন ছাতকবাসীর কলংক হিসেবে বিবেচনা করছে অনেকেই।
সুরমা নদীতে চাঁদাবাজীর বিষয়টি নিয়ে টেলিভিশনের সাক্ষাতকারে ছাতক নৌ পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেছিলেন, চাঁদাবাজী না কি এখানের মানুষের রক্তের সাথে মিশে গেছে। নৌ পুলিশের এ কর্মকর্তার কথাটি নিয়ে এসময় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে।
এদিকে নৌ-পুলিশও সুরমা নদীর দু’টি পয়েন্টে চাঁদা আদায় করতে দেখা গেছে। পুলিশও যখন চাঁদাবাজীতে লিপ্ত তখন ছাতক থানায় নতুন যোগদানকৃত অফিসার ইনচার্জ আহমেদ সনজুর মোর্শেদ শাহীন নৌ-পথে চাঁদাবাজী রুখতে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেয়ার বিষয়টি টপ অব-দ্যা টাউনে পরিণত হয়েছে।
তিনি যোগদান করেই নৌ-পথে চাঁদাবাজী, মাদক, জুয়া ও পতিতাবৃত্তিসহ সব ধরনের অবৈধ কার্যকলাপ বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। ঘোষণা অনুযায়ী রবিবার নদী পথে চাঁদাবাজী বন্ধে মাইকে দিনব্যাপী প্রচারণা চালিয়েছেন ছাতক থানার অফিসার ইনচার্জ আহমেদ সনজুর মুর্শেদ শাহীন ও সেকেন্ড অফিসার হাবিবুর রহমান পিপিএমসহ থানা পুলিশের একটি টিম।
ছাতক থানার অফিসার ইনচার্জ আহমেদ সনজুর মোর্শেদ শাহীন এ ব্যাপারে জানান, নৌ-পথে চাঁদাবাজী বন্ধে নদীতে থাকবে থানা পুলিশের টহলদল। পাশাপাশি চলবে সাঁড়াশি অভিযান। এ বিষয়ে তিনি সকলের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছেন।

  • [১]