ছাতক প্রতিনিধি
ছাতকে পাম্প দিয়ে হাওরের পানি নিস্কাশনের চেষ্টা করছে হাওর পাড়ের ফসলহারা কৃষকরা। গত কদিন ধরে উপজেলার ভাতগাঁও ইউনিয়নের মন্ডলপুর হাওর এলাকায় একসাথে ১২ টি পাওয়ার পাম্প দিয়ে পানি নিস্কাশনের মাধ্যমে বোরো ফসল রক্ষার অভিনব চেষ্টা করছেন স্থানীয় কৃষকরা। ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করতে পাম্পের কাছে শ’ শ’ মানুষ ভিড় করছেন প্রতিদিন। এর পরও থামছে না ফসলহারা কৃষকদের আহাজারি। কিন্তু টানা বর্ষণের কারণে কৃষকদের সকল চেষ্টাই গুড়েবালিতে পরিণত হয়েছে। হাওরে ধানের পরিবর্তে এখন শুধুই অকাল বন্যার পানি থৈ-থৈ করছে। ফসলহারা কিষাণ-কিষাণীদের তলিয়ে যাওয়া ফসলের দিকে তাকিয়ে থাকা ছাড়া কিছুই করার ছিল না। ফসলহারা কৃষকদের আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠেছে হাওরপাড়সহ গ্রামীণ জনপদ।
কৃষকের অভিযোগ, হাওর রক্ষা বাঁধ নির্মাণের নামে
চরম দুর্নীতির কারণে টানা দু’ বছর ধরে বোরো ফসল গোলায় তুলতে পারেনি তারা। অযোগ্য ও দুর্নীতিবাজদের নিয়ে হাওর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার কাজ বাস্তবায়নের নিমিত্তে গঠিত পিআইসি ছিল সম্পূর্ণ অকার্যকর। কৃষকরা বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পরও পাউবোসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কোন আইনী ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বলে কৃষকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় কৃষকরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে শুরু করেছেন। উপজেলার জলার হাওর, ঝাওয়ার হাওর, দেখার হাওর, নাইন্দার হাওর, ডেকার হাওর, চাতলির হাওর, রাঙ্গা-ডিঙ্গা হাওর, চাউলীর হাওর, ফাটার হাওর, ইন্দুরার হাওর, সুরিগাঁও হাওর, ডিমকা, বাড়–কা, গয়ার, রুকুর হাওরসহ উপজেলার ৬৪টি হাওরের বোরো ফসল এখন পানির নীচে।
উপজেলা কৃষি বিভাগের দেয়া তথ্য অনুযায়ি ১৪হাজার ২শ ২৫হেক্টর জমির মধ্যে ১০হাজার ৫শ’ হেক্টর জমির বোরো ইতিমধ্যেই পানিতে তলিয়ে গেছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে উচুঁ জমির বাকী অংশটুকুও রক্ষা করা সম্ভব হবে না। এ ছাড়া শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বর্ষা মৌসুমের শাক-সবজীর বাগান।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ কেএম বদরুল হক জানান, বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধতায় এখানের বোরো ফসলের বেশী ক্ষতি হয়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী শতকরা ৭৫ ভাগ ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। বাকীটুকুও রয়েছে হুমকীর মুখে।