ছাতক প্রতিনিধি
ছাতকের গোবিন্দগঞ্জ-সৈদেরগাঁও ইউনিয়নের বেরাজপুর, খিদিরপুর ও আসামপুর গ্রামের দু’শতাধিক গ্রাহক লো-ভোল্টেজ ও বিদ্যুতের আর্থিং সমস্যায় ভোগছেন। আর্থিং সমস্যার কারণে ইতিমধ্যে এখানে ডজন খানেক গরু ও একাধিক ব্যক্তি বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মারা গেছে। সন্ধ্যার পর লো-ভোল্টেজে এসব গ্রামের প্রতিটি ঘরে টিমটিম করে জ্বলে বৈদ্যুতিক বাতি। বিষয়টি লিখিত ও মৌখিকভাবে অবহিত করা হলেও বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ এর কোন কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি বলে জানান ভুক্তভোগি গ্রাহকরা। ফসলি জমির উপর দিয়ে পুরাতন স্টীলের খুঁটায় বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন টানার কারণে বিদ্যুৎ আর্থিং করে খুঁটির নিচের চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে কৃষকরা জমি চাষাবাদ করার ক্ষেত্রে তাদের মধ্যে বিদ্যুৎ আতঙ্ক কাজ করে থাকে।
জানা যায়, বেরাজপুর গ্রামে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হয় নব্বই দশকের মাঝামাঝি সময়ে। তখন কালারুকা ইউনিয়নের গড়গাঁর পয়েন্টের ট্রান্সমিটার থেকে প্রায় ৩ ইঞ্চি ব্যাসের স্টীলের খুঁটি দ্বারা ফসলী জমির উপর দিয়ে বেরাজপুর, খিদিরপুর ও আসামপুর গ্রামে সাধারণ তারে বিদ্যুতের সঞ্চালন লাইন টানা হয়। সংযোগের পরবর্তী প্রায় ২৫ বছর
এ লাইনে আর কোন সংস্কার কাজ করা হয়নি। বর্তমানে খুঁটিগুলো জং ধরে ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম হয়েছে। ফলে এসব গ্রামের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ঝুঁকিপূর্ণ খুঁটিগুলোতে বাঁশ বেধে সঞ্চালন লাইন কোনমতে খাড়া রাখা হয়েছে। এসব গ্রামের সঞ্চালন লাইন সংস্কার ও স্টীলের খুঁটির পরিবর্তে নিরাপদ খুঁটি ব্যবহার না করা হলে যেকোন সময় বড় ধরনের বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনা ঘটার আশংকা রয়েছে।
বেরাজপুর, খিদিরপুর ও আসামপুর গ্রামের বিদ্যুৎ গ্রাহক আবুল বশর, আজির উদ্দিন, চান মিয়াসহ লোকজন ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যুৎ ব্যবস্থার কথা একাধিকবার সংশ্লিষ্ট অফিসকে অবহিত করা হলেও তারা কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। ২০১০ সালের পর থেকে এখানের ফসলী জমিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে অন্তত ১০টি গরু মারা গেছে। সঞ্চালন লাইনের মেয়াদ উত্তীর্ণ তার ছিঁড়ে গ্রামের অনেক মানুষ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আহত-নিহত হয়েছেন ।
গ্রামের হাফেজা বেগম নামের এক শিশু ও হাফিজিয়া মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছেন। বিদ্যুতের আর্থিংয়ের ভয়ে জমিতে চাষাবাদ করতে ভয় পাচ্ছেন এখানের কৃষকরা। লাইন সংস্কারের বিষয়ে বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ মোটা অংকের টাকা দাবি করে আসছে বলেও জানান তারা। সন্ধ্যার পর এসব এলাকায় বিদ্যুৎ থাকে না। থাকলেও লো-ভোল্টেজের জন্য বাতি টিমটিম করে জ্বলে। এতে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় দীর্ঘদিন ধরে ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়ে আসছে।
এ বিষয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান বরাবরে অভিযোগও দিয়েছেন তারা। গড়গাঁও ট্রান্সমিটারের পরিবর্তে হাফিজিয়া মাদ্রাাসার নিকট ট্রান্সমিটার পুনঃস্থাপন করে ফসলী জমি থেকে খুঁটি উঠিয়ে সড়ক পথে নতুন নিরাপদ পাকা খুঁটায় সংযোগের দাবি জানান এসব গ্রামের বাসিন্দারা। এ ক্ষেত্রে পুরাতন তার বাদ দিয়ে নতুন ইন্সুলেটর যুক্ত নিরাপদ তার ব্যবহারের দাবিও জানান।
উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অলিউর রহমান চৌধুরী বকুল জানান, বেরাজপুরসহ এসব গ্রামের বিদুৎ ব্যবস্থা অত্যন্ত নাজুক। এখানে বাঁশের খুটিতে বিপদজনকভাবে বিদ্যুৎ লাইন টানা হয়েছে যা সম্পূর্ণ বেআইনী। ছাতক ও সিলেট বিদ্যুৎ অফিসের কতিপয় দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীর কারণে এখানে বিদ্যুৎ লাইন সংস্কার করা হচ্ছে না। দুর্নীতিবাজ এসব কর্মকর্তা-কর্মচারীর সাথে স্থানীয় দালালরা সরকারের ডিজিটাল বাংলদেশ গঠনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে যাচ্ছে। বেরাজপুর, খিদিরপুর ও আসামপুর বিদ্যুৎ ব্যবস্থা আধুনিকায়নে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহবান জানান।