- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

ছাতকে বোরো কাটার ভর মৌসুমে হাওরে বইছে জলতরঙ্গ

বিজয় রায়, ছাতক
ছাতকের হাওড় পাড়ে চলছে ফসলহারা কৃষকদের আহাজারি। বোরো ধান কাটার ভর মৌসুমে হাওড়ে-হাওড়ে বইছে জলতরঙ্গ। ধানের শীষ পাকার আগেই পানিতে তলিয়ে গেছে হাওরের পর হাওড়। চৈত্র-বৈশাখ মাসে যেখানে কৃষাণ-কৃষাণীদের কর্মব্যস্ততায় হাওড় পাড় জুড়ে চলতো ধান কাটা, মাড়াই-ঝাড়াই ও গোলায় তোলার মহোৎসব। এর স্থলে হাওড় পাড়ে বইছে এখন কান্না, বিষাদ ও আহাজারি। পাহাড়ী ঢলে ও টানা ভারি বর্ষণে এখানের ছোট-বড় ৬৪টি হাওড়ের বোরো ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। এর মধ্যে অন্তত ২৫টি হাওড়ে এখন বইছে জলতরঙ্গ। ফসলহারা কৃষকের অভিযোগ হাওড় রক্ষা বাঁধ নির্মাণে দুর্নীতি ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়সারা নজরদারী এবং অতিবৃষ্টির কারণে হাওড়ে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা নিরসনে পানি     নিস্কাশনের কোন ব্যবস্থা না থাকায় প্রতি বছর কৃষকদের ফসলহারানোর তিক্ততার স্বাদ নিতে হয়। গত বোরো মৌসুমেও উপজেলার ৪৭ টি হাওড়ের পাকা ও আধাপাকা বোরো ফসল অকাল বন্যায় তলিয়ে যাওয়ায় কৃষককূল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। চলতি মৌসুমে ধানে রং ধরার আগেই সলিল সমাধি ঘটেছে উপজেলা কয়েক সহস্রাধিক হেক্টর বোরো ফসল। জলার হাওড়, ঝাওয়ার হাওড়, দেখার হাওড়, নাইন্দার হাওড়, ডেকার হাওড়, চাতলির হাওড়, রাঙ্গা-ডিঙ্গা হাওড়, চাউলীর হাওড়, ফাটার হাওড়, ইন্দুরার হাওড়, সুরিগাঁও হাওড়সহ অন্তত ২৫টি হাওড়ের বোরো ফসল বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে।
উপজেলা কৃষি বিভাগের দেয়া তথ্য অনুযায়ি চলতি ২০১৬-১৭ বোরো মৌসুমে উপজেলায় ১২হাজার ৭শ ২৫হেক্টর জমিতে বোরো চাষাবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে উচ্চ ফলনশীল ১১হাজার ৬শ ১০হেক্টর, হাউব্রিড ৩শ ৩০হেক্টর ও স্থানীয় জাতের ৭শ ৮৫ হেক্টর। এর মধ্যে ৯শ’ ৮০ হেক্টর জমির ফসল গত দু’দিনের পাহাড়ী ঢল ও বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। নোয়ারাই ইউনিয়নের নাইন্দার হাওড় পাড়ের ফসলহারা কৃষকদের সাথে আলাপচারিতায় তারা তাদের ফসলহারার বেদনা বর্ণনা করেন।
উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বড় হাওড় নোয়ারাই ইউনিয়নের নাইন্দার হাওড়। নোয়ারাই ইউনিয়নসহ দোয়ারাবাজার উপজেলার আরো ক’টি ইউনিয়নের মানুষের বছরের খাবার আসে নাইন্দার হাওড় থেকে। এ হাওড় থেকে শুষ্ক মৌসুমে ধান আর বর্ষায় মাছ আহরণ করে বেঁচে থাকে ছাতক-দোয়ারার কয়েক হাজার মানুষ। গত বছরে হাওড়ের শতকরা ৬০ ভাগ বোরো ফসল বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। পানি নিস্কাষণের ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিবছরই জলাবদ্ধতার কারণে নাইন্দার হাওড়পাড়ের কৃষকরা ফসল হারানোর তিক্ততার স্বাদ নিতে হয়। চলতি মৌসুমেও বোরো ফসল তলিয়ে যাবার ঘটনা পুনরাবৃত্তি ঘটেছে। টানা দু’ বছর একই কারণে ফসল হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছে নাইন্দা পাড়ের কৃষককূল।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ কেএম বদরুল হক জানান, প্রতিদিনই ফসলহানির খবর আসছে। জরীপের মাধ্যমে সর্বশেষ সঠিক তথ্য লিপিবদ্ধ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে প্রায় ৯শ’ ৮০ হেক্টর জমি তলিয়ে গেছে।

  • [১]