- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

ছাতকে মন্দিরে হামলার ঘটনায় গ্রেফতার ১, তদন্ত কমিটি গঠন- সনাতন ধর্মাবলম্বিদের প্রতিবাদ সভা

ছাতক প্রতিনিধি
ছাতকে দু’টি মন্দিরে দৃর্বৃত্তদের হামলার ঘটনায় সাকির আমিন নামের স্থানীয় এক সাংবাদিককে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সাকির আমিন দৈনিক আমাদের সময়ের ছাতক প্রতিনিধি। এদিকে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসক শেখ রফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক কামরুজ্জামান, মেয়র আবুল কালাম চৌধুরী ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুজ্জামান মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ছাতকের কালীবাড়ি ও শহরের মহাপ্রভুর আখড়া পরিদর্শন করেছেন। অপরদিকে দুই মন্দিরে হামলার প্রতিবাদে সনাতন ধর্মাবলম্বিদের সভা এর আগে দুপুরে শহরের মহাপ্রভুর আখড়া প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অ্যাড. পীযুষ ভট্টাচার্য্যরে সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক রবীন্দ্র কুমার দাসের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন, পৌরসভার প্যানেল মেয়র তাপস চৌধুরী, উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সহ-সভাপতি মহন্ত রায়, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক হরিদাস রায়, সাধারণ সম্পাদক বাবুল পাল প্রমুখ। এসময় বিভিন্ন পূজা কমিটির নেতৃবৃন্দসহ সনাতন ধর্মাবলম্বি লোকজন উপস্থিত ছিলেন।   পরে নেতৃবৃন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুজ্জামানের সাথে তাঁর কার্যালয়ে সাক্ষাত করে মন্দিরে হামলায় জড়িদের গ্রেফতার ও শাস্তি দাবি করেন। এসময় ছাতক থানার ওসি আশেক সুজা মামুন উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে ঘটনার তদন্ত করার জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট শেখ হাফিজুর রহমানকে আহবায়ক ও ছাতক থানার ওসি আশেক সুজা মামুনকে সদস্য সচিব করে ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্যান্যরা হলেন সদস্য এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী সমরেন্দ্র দাস তালুকদার, পরিসংখ্যান কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান খান ও সমবায় কর্মকর্তা বিজিত রঞ্জন কর। ৩ দিনের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট জমা দিতে কমিটিকে বলা হয়েছে।
উল্লেখ্য, আতসবাজীকে কেন্দ্র করে সোমবার সন্ধ্যা ৬ টায় উস্কানীমুলক শ্লোগান দিয়ে ছাতক শহরের কালীবাড়ী মন্দির ও মহাপ্রভুর আখড়ায় হামলা করে দুর্বৃত্তরা। হামলা চলাকালে শহর জোড়ে ছড়িয়ে পড়ে আতংক।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, শহরের ট্রাফিক পয়েন্ট থেকে অর্ধ শতাধিক লোক লাঠিসোটা নিয়ে ‘মালাউন-ফেরাউন’ শ্লোগান দিয়ে শহরের মন্ডলীভোগস্থ কালীবাড়িতে প্রবেশ করে অতর্কিত হামলা চালিয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ভাংচুর করে। এ সময় হামলাকারীরা কালী মন্দির ভাংচুর করার চেষ্টা করলে গ্রীলের দরজা বন্ধ থাকায় মন্দিরের কোন ক্ষতি করতে পারে নি। হামলাকারীরা কয়েকটি বসতঘর ভাংচুর করেছে। হামলার সময় কালীবাড়ীর ভেতরে বসবাসরত ১৫-২০টি পরবারের লোকজন আতংকে দরজা-জানালা বন্ধ করে ও বাতি নিভিয়ে আত্মরক্ষার চেষ্টা করে। পরে তারা শহরের মহা প্রভুর আখড়ায়ও একইভাবে হামলা চালায়। আখড়ার প্রধান ফটক বন্ধ থাকায় ব্যাপক ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ফটক ভাঙ্গার চেষ্টা করা হয়।
ছাতক উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট শেখ হাফিজুর রহমান জানান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে হামলা করা কোন ধর্মপ্রাণ মানুষ সমর্থন করবে না। এ ধরনের হামলা একটি নিন্দনীয় ও অপরাধমুলক কর্মকান্ড। আইনের মাধ্যমে এদের প্রতিরোধ করা হবে। মন্দিরে হামলার ঘটনায় কালীবাড়ি ও আখড়া কমিটির পক্ষ থেকে পৃথক দু’টি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

  • [১]