ছাতক প্রতিনিধি
ছাতকে এক যুবতীকে অপহরণ করা হয়েছে মর্মে ছাতক থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। গত সোমবার ছাতক শহরের মন্ডলীভোগ এলাকার বাসন্দিা অপহৃতার ভাই বাদী হয়ে একই এলাকার ময়না পালের পুত্র সুরঞ্জিত পাল, সজল পাল, ঐশিক দাসের পুত্র অপু দাস ও মৃত মকবুল হোসেনের পুত্র মাছুম মিয়ার বিরুদ্ধে অপহরণের অভিযোগ থানায় দাখিল করেন। গত ৭ আগষ্ট ভোরে অপহরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ থেকে জানা যায়, একই মহল্লার বাসিন্দা হওয়ার কারণে অপহৃতার সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে সুরঞ্জিত। প্রেমের সম্পর্ক গভীর হওয়ার এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্কও গড়ে উঠে। পরিবারের অগোচরে প্রায়ই অপহৃতাকে নিজ কক্ষে নিয়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক মেলা-মেশা করতো সুরঞ্জিত। এ সময় সে অন্তস্বত্ত্বা হয়ে পড়লে বিয়ের জন্য সুরঞ্জিতকে চাপ সৃষ্টি করে অপহৃতা। কিন্তু সুচতুর সুরঞ্জিত নানা অজুহাতে কালক্ষেপণ করে অপহৃতাকে স্বাস্থ্যবর্ধক ওষুধের নামে বিভিন্ন জাতের কয়েকটি ট্যাবলেট ও ক্যাপস্যুল সেবন করিয়ে তার গর্ভপাত ঘটায়। গর্ভপাতের পর থেকে সুরঞ্জিত অপহৃতার সাথে যোগাযোগ বিছিন্ন করে দিলে নিরুপায় হয়ে পরিবারের লোকজনদের বিষয়টি অবগত করে অপহৃতা। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে একাধিকবার সালিশ-বৈঠক হলেও কোন সুরাহা করা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় গত ১ জুলাই স্ত্রীর মর্যাদা পেতে ছাতক পৌরসভার মেয়র বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দেয় অপহৃতা। এতে ক্ষীপ্ত হয়ে উঠে লম্পট সুরঞ্জিত ও তার পারিবারের লোকজন। অপহৃতাকে হত্যা ও লাশ গুম করার হুমকিও দিয়েছে সুরঞ্জিতরা। গত ৭ জুলাই ভোরে প্রকৃতির টানে ঘর থেকে বাইরে বেরুলে আগে থেকে ওঁৎ পেথে থাকা লম্পট সুরঞ্জিত ও তার ভাই সজলসহ সাঙ্গ-পাঙ্গরা অপহৃতাকে ঝাপটে ধরে জোরপূর্বক একটি অটোরিক্সায় তুলে নিয়ে উধাও হয়ে যায়।
বাদীর অভিযোগ, অপহরণের পর তাকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে ধর্ষণ ও পরবর্তীতে হত্যা করে লাশ গুম করতে পারে অপহরণকারীরা।
ছাতক থানার এসআই সোহেল রানা অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা স্বীকার করে জানান, অভিযোগটি নিয়মিত মামলা হিসেব রুজু করার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। সেই সাথে অপহৃতাকে উদ্ধারের চেষ্টাও চালানো হচ্ছে।