সাবরেজিস্ট্রার পদটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ। সরকার এই পদের গুরুত্ব অনুধাবন করে সাবরেজিস্ট্রারদের পদমর্যাদাও বাড়িয়েছেন। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে বিভিন্ন উপজেলায় এই গুরুত্বপূর্ণ পদটি বছরের পর বছর ধরে খালি পড়ে থাকতে দেখা যায়। বিশেষ করে সুনামগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলায় সাবরেজিস্ট্রারের শূন্য পদের সংখ্যা অপরাপর উপজেলা থেকে সম্ভবত বেশিই হবে। সাবরেজিস্ট্রার পদটি চাকুরিপ্রার্থীদের নিকট অতিশয় লোভনীয় পদও বটে। এরূপ পদ সাধারণত শূন্য থাকবার কথা নয়। কিন্তু বাস্তবতা হলো অনেক পদ শূন্য। কেন? জাতীয়ভাবেই হয়ত যত সাবরেজিস্ট্রার দরকার তত লোক নেই। নতুন নিয়োগ দেয়া হচ্ছে না হয়তো। তাই একজন সাবরেজিস্ট্রারকে একাধিক উপজেলার দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে এ জেলায়। ছাতক উপজেলার সাবরেজিস্ট্রার পদে কর্মকর্তা না থাকায় জমি রেজিস্ট্রি করতে আসা সেবাপ্রার্থীদের বিড়ম্বনার উপর গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে একটি সংবাদ প্রকাশ হয়। প্রতিবেদন অনুসারে ছাতকে সাবরেজিস্ট্রার পদে অতিরিক্ত দায়িত্ব ক্রমাগত বদল করতে করতে এখন জগন্নাথপুরের কর্মকর্তা সপ্তাহে একদিন ছাতকের দায়িত্ব পালন করছেন। এর ফলে জমি রেজিস্ট্রিতে সীমাহীন দুর্ভোগ তৈরি হচ্ছে। ছাতক একটি বড় উপজেলা। প্রবাসী অধ্যূষিত ও শিল্পাঞ্চল হওয়ায় এখানে জমির মূল্যও বেশি। তাই জমি কেনা-বেচার পরিমাণও এখানে বেশি। জমি কেনা-বেচার পরিমাণ বেশি হলে সাবরেজিস্ট্রি অফিসে সংগত কারণেই চাপ পড়ে বেশি। কিন্তু যখন রেজিস্ট্রি করার ক্ষমতাসম্পন্ন কর্মকর্তার অভাব প্রকট থাকে তখন অবস্থা কেমন হতে পারে তা সহজেই অনুমেয়।
সাবরেজিস্ট্রি অফিস নিয়ে মানুষের অভিযোগের অন্ত নেই। এখানে জমি রেজিস্ট্রি করার সরকার নির্ধারিত প্রকৃত ফিস কতো সেটি কেউ জানেন না, এমনই অভিমত সেবাগ্রহীতাদের। রেজিস্ট্রি বাবদ যে টাকা নেয়া হয় তার কত অংশ সরকারি কোষাগারে জমা হয় আর কত টাকা মোহরার, অফিসস্টাফ ও সাবরেজিস্ট্রারের পকেটে যায় সেই টপ সিক্রেট এখন পর্যন্ত টপ সিক্রেটই রয়েছে। তা টপসিক্রেট টপসিক্রেটই থাকুক, আপত্তি জানিয়েও যেহেতু লাভ নেই তাই। কিন্তু মানুষ প্রয়োজনাতিরিক্ত টাকা দিয়েও যখন প্রয়োজনীয় কাজটি করাতে ব্যর্থ হন তখন তার টাকার জ্বালার সাথে কাজ না হওয়ার জ্বালা যুক্ত হয়ে নিদারুণ জ্বালা তৈরি করে। এই অবস্থার অবসান কাম্য সকল মহলের। এমন অবস্থার অবসানের জন্যই আমরা দ্রুত ছাতকে একজন সাবরেজিস্ট্রার পদায়ন দেখতে চাই।
সাবরেজিস্ট্রি অফিসকে ডিজিটাল ফরম্যাটে রূপান্তরের দাবি সব শ্রেণি-পেশার মানুষের। সরকারের অঙ্গীকারও যাবতীয় সেবাকে ডিজিটালাইজ করার। যেকোন সরকারি সেবা ডিজিটাল করলে সেখানে অহেতুক ভোগান্তি ও অর্থ তছরুপের পরিমাণ কমে আসে। যেহেতু সাবরেজিস্ট্রার অফিস নিয়ে মানুষের অভিযোগের অন্ত নেই তাই সর্বাগ্রে দরকার ছিল এই অফিসটিকে ডিজিটাল করার। কিন্তু এক্ষেত্রে অগ্রগতি সম্ভবত সবচাইতে কম। সাবরেস্ট্রি অফিস নিয়ে যখন আমরা এই মন্তব্য লিখছি তখন এই সুযোগে দাবি জানাই দেশের সবগুলো সাবরেজিস্ট্রি অফিসকে ডিজিটাল সেবাদানকারী সংস্থা হিসেবে রূপান্তর করার। এই কাজটি করলে সাধারণ মানুষের যে অকুণ্ঠ সমর্থন ও ভালবাসা পাওয়া যাবে তা পরিমাপ করার জন্য কোন মাপকাঠির প্রয়োজন পড়বে না। মানুষ নিজেরাই সরকারের গুণকীর্তণ করতে থাকবে।