বিশেষ প্রতিনিধি
দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় পূর্ণাঙ্গ সিমেন্ট কারখানা ছাতক সিমেন্ট ফ্যাক্টরি লিমিটেড’র আধুনিকায়ন প্রকল্প মঙ্গলবার একনেকে অনুমোদিত হয়েছে। প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৬৬ কোটি টাকা। ছাতক ও দোয়ারাবাজারের সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক এই তথ্য জানিয়েছেন।
১৯৩৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এক সময়ের আসাম বেঙ্গল সিমেন্ট কারখানা বর্তমানের ছাতক সিমেন্ট ফ্যাক্টরী লিমিটেড। দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় এই কারখানার সিমেন্ট দেশব্যাপী সমাদৃত। কিন্তু সহ¯্রাধিক শ্রমিকের এই প্রতিষ্ঠানটি লোকসানি প্রতিষ্ঠান হিসাবেই চিহ্নিত। এর পাশেই বেসরকারী উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট ফ্যাক্টরী একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠান। এই অবস্থায় সরকার সনামধন্য রাষ্ট্রীয় এই প্রতিষ্ঠানকে বাঁচিয়ে রাখার স্বার্থে এর আধুনিকায়ন করে লাভজনক করার উদ্যোগ নিয়েছে। এজন্য ৬৬৬ কোটি টাকার প্রকল্প প্রস্তাবনা মঙ্গলবার একনেকে অনুমোদিত হয়েছে।
ছাতক সিমেন্ট কারখানার একজন প্রকৌশলী বলেন,‘৮০ বছরের আগের প্রযুক্তি ব্যবহার করে চলতো ছাতক সিমেন্ট কারখানা। এর জ্বালানী ব্যয়ও ছিল অত্যধিক। পাশের লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট ফ্যাক্টরিতে শুকনো প্রক্রিয়ায় সিমেন্ট উৎপাদন হলেও এই ফ্যাক্টরিতে পুরোনো সময়কালের পানীয় প্রক্রিয়ায় সিমেন্ট উৎপাদন হতো। এতে উৎপাদন ব্যয় বেশি হতো। এজন্য প্রতিযোগিতার বাজারে টিকে থাকার জন্য লোকসান দিয়ে সিমেন্ট বিক্রি করে ফ্যাক্টরিটি বাজার ধরে রেখেছিল। বুয়েটসহ দেশের বিশ্বস্থ প্রকৌশল প্রতিষ্ঠানের কাছে এই ফ্যাক্টরির সিমেন্টই অধিক মান সম্পন্ন হিসাবে স্বীকৃত।
জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটি ক্রমাগত লোকসান দেওয়ায় বিগত বিএনপি সরকারের সময়কালে ছাতকের দুটি বিসিআইসির প্রতিষ্ঠান- ছাতক পাল্প এন্ড পেপার মিল এবং ছাতক সিমেন্ট ফ্যাক্টরি বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেবার তালিকায় ছিল। ছাতক পাল্প এন্ড পেপার মিল ঐ সময় পানির দামে বিক্রিও হয়েছিল। পাল্প এন্ড পেপার মিল বন্ধ হবার পর শত শত শ্রমিক মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন।
বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর ছাতক সিমেন্ট ফ্যাক্টরিকে লাভজনক করণের চেষ্টা শুরু হয়। কয়েকবার রক্ষাণাবেক্ষণ খাতে কোটি কোটি টাকা ব্যয় হলেও আশানরূপ কোন উন্নয়ন হয়নি ফ্যাক্টরি’র। গত বছরেও রক্ষণাবেক্ষণ খাতে ২০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছিল। তবে রক্ষণাবেক্ষণ কাজে নিয়োজিত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনিয়মেরও অভিযোগ উঠেছিল।
স্থানীয় সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক সরকারী এই প্রতিষ্ঠানটিকে প্রতিযোগিতার বাজারে টিকিয়ে রাখার জন্য এবং প্রতিষ্ঠানটিকে বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেবার বিপক্ষে সব সময়ই সোচ্চার ছিলেন। বিগত সরকারের সময়কালে শিল্প মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির সদস্য হিসাবে বারই বারই তিনি ফ্যাক্টরিকে আধুনিকায়ন করে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার উপযোগী করার দাবি জানিয়েছিলেন, তাঁর এই প্রচেষ্টা অব্যাহত ছিল।
সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক বলেন,‘ছাতক সিমেন্ট ফ্যাক্টরির কর্মকর্তা- কর্মচারী এবং পুরো সুনামগঞ্জবাসীর জন্য আজ মঙ্গলবার একটি আনন্দের দিন। ছাতক সিমেন্ট ফ্যাক্টরির ৬৬৬ কোটি টাকার প্রকল্প একনেকে অনুমোদনের মধ্য দিয়ে মানুষের বহুদিনের দাবি অর্জিত হয়েছে। এর ফলে দেশের একমাত্র পূর্ণাঙ্গ সিমেন্ট ফ্যাক্টরি অবশ্যই প্রতিযোগিতার বাজারে লাভজনক একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে। হাজার হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থানের বিষয়টিও নিশ্চিত হবে, উৎপাদন বাড়বে, নতুন কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হবে। ছাতক সিমেন্ট ফ্যাক্টরিতে এজন্য প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আনন্দ মিছিলও করেছেন শ্রমিকরা’। মুহিবুর রহমান মানিক জানান, সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দ্রুতই আধুনিকায়ন প্রকল্পের আন্তর্জাতিক দরপত্রও প্রস্তুত করবেন সংশ্লিষ্টরা।