- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

ছাতক সুরমা সেতুর নির্ঝঞ্ঝাট সমাপ্তি কামনা করি

ছাতকের সুরমা নদীর উপর নির্মিতব্য সেতুর পুনঃ নির্মাণ কাজের কার্যাদেশ জারি হওয়া ছাতকবাসীর জন্য একটি বিশেষ সুখবর নিঃসন্দেহে।  গত ২২ আগস্ট সেতু মন্ত্রণালয় থেকে  ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘জন্মভূমি নির্মাতা’ এর সত্ত্বাধিকারী ওয়াহিদুজ্জামান চৌধুরীর নামে ৩০ কোটি ৪৯ লক্ষ ৮৫ হাজার ১৭৪ টাকা ব্যয়ে সেতুর পুনঃ নির্মাণ কাজের কার্যাদেশ জারি হয়েছে বলে গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে প্রকাশিত একটি সংবাদ থেকে জানা যায়। এ প্রেক্ষিতে ছাতক-দোয়ারাবাজার সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক সংগত কারণেই মন্তব্য করেছেন এই বলে যে, ‘২২ আগস্ট ছাতক-দোয়ারাবাসীর জন্য একটি স্মরণীয় দিন হিসাবে ইতিহাসে লিপিবদ্ধ থাকবে’। এই সেতু নির্মাণ হলে সুনামগঞ্জ থেকে ছাতক কোন ধরনের ফেরি পারাপার ছাড়াই সহজে যাওয়া যাবে। দোয়ারাবাজারের মানুষও সহজে ছাতক হয়ে সিলেট চলে যেতে পারবেন। ছাতকের শিল্পপণ্যসহ পাথর, চুনাপাথর ও বালি  বাইরে পরিবহণ করতে এই সেতু একটি ভাল ভূমিকা রাখবে। দোয়ারাবাজার ও ছাতক উপজেলাবাসী এই সেতুর দাবি জানিয়ে আসছিলেন দীর্ঘদিন যাবৎ। ছাতকের সুরমা সেতু নির্মাণ নিয়ে বহু নাটকীয়তা দেখা গেছে। মূলত এই সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয় ১৯৯৬ সনে। পরে এর নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়ে যায়। পরে এই সেতু নির্মাণের প্রকল্পটি সরকার বাতিল করে দেন। বহু দেন-দরবার ও নাগরিক দাবি উচ্চকিত হওয়ার প্রেক্ষিতে বর্তমান সরকার অবশেষে পুনরায় সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ করার উদ্যোগ নিলেন। ছাতক-দোয়ারাবাসীর একটি বড় স্বপ্ন পূরণ করার জন্য বর্তমান সরকার তাই একটি বড় অভিনন্দন পেতে পারেন।
যেহেতু কার্যাদেশ জারি হয়েছে তাই আশা করা যায় শীঘ্রই কাজ শুরু হয়ে যাবে। ঠিকাদার যাতে কাজ শুরু করা নিয়ে অহেতুক সময় ক্ষেপণ না করেন সেটি কঠোরভাবে তদারকি করতে হবে। সঠিক সময়ে কাজ শুরু করা না হলে নির্ধারিত সময়ে এটি শেষ করা সম্ভব হয় না। এছাড়া নির্মাণ কাজে যাতে কোন ধরনের নি¤œমানের সামগ্রী ব্যবহার না করা হয় এবং কাজের গুণগত মান শতভাগ বজায় রাখা হয় সেদিকে সংশ্লিষ্ট তদারকি প্রতিষ্ঠানকে সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখতে হবে। বড় প্রকল্প নিয়ে নানা ধরনের কারিগরি ছল-চাতুরির খবরাখবর সকলের জানা। কিছু কাজ করার পর বন্ধ রাখা, পরে নতুন নতুন কাজের প্রাক্কলন তৈরি করে বরাদ্দ বাড়ানোর মতলববাজি দেখা যায় প্রায়শঃই। ছাতকের এই সেতুকে ঘিরে যাতে অনুরুপ কোন খেলা শুরু না হয় সেজন্য সবসময় সতর্ক থাকতে হবে।
একটি সেতু শুধু নদীর দুই পারকেই সংযুক্ত করে না এটি মানুষের আন্তসংযোগ, উৎপাদনশীলতা ও অর্থনীতির গতি বাড়িয়ে দেয়। জেলা সদরের সুরমা সেতু নির্মাণের পর নদীর উত্তর পারের মানুষের মধ্যে যেসব পরিবর্তন সূচিত হয়েছে সেটি এখন খুবই দৃশ্যমান। ছাতক সুরমা সেতুও এই ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটাবে। এই অঞ্চলের যোগাযোগ, উৎপাদন ও অর্থনৈতিক কর্মকা-কে এই সেতু গতিশীল করবে। একটি এলাকার এমন সম্ভাবনাময় একটি স্থাপনার নির্মাণ কাজের নির্ঝঞ্ঝাট সমাপ্তি কামনা করি আমরা। সেতু নির্মাণের এমন সুখবরে ছাতক-দোয়ারাবাজারবাসীর সাথে আজ আমরাও আনন্দ প্রকাশ করছি।  

  • [১]