জগন্নাথপুর অফিস
জগন্নাথপুর পৌরসভার প্রথম নির্বাচিত চেয়ারম্যান, উপজেলা আওয়ামী লীগের একাধিকবারের সভাপতি প্রয়াত হারুনুর রশিদ হিরণ মিয়ার দ্বিতীয় ছেলে, ৯০ দশকের তুখোড় ছাত্রনেতা, যুক্তরাজ্যের লির্ডস আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বজলুর রশিদ ভূঁইয়ার দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
নামাজে জানাজা শেষে তাঁর বাবার কবরের পাশে মঙ্গলবার তাঁকে দাফন করা হয়েছে।
বেলা ১১ টায় ইকড়ছই সিনিয়র হাফিজিয়া আলিয়া মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে সাবেক এই ছাত্রলেত্রার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে শোকাহত মানুষের ঢল নামে। জানাজা শেষে মাদ্রাসার নিকটবর্তী পঞ্চায়িতী কবরস্থানে তাঁর বাবা মরহুম হারুনুর রশিদ হিরণ মিয়ার পাশে তাকে দাফন করা হয়।
গত সোমবার সন্ধ্যা ৭ টার দিকে সিলেট নগরীর একটি বেসরকারী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বজলুর রশীদ ভূঁইয়া (৪৭) ইন্তেকাল করেন। (ইন্নালিল্লাহি… রাজিউন)। তিনি মাসখানেক ধরে লিভার জনিত জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন।
মৃত্যুকালে তিনি মা, ভাই, বোন, স্ত্রী, দুই ছেলে, দুই মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয় স্বজন গুণগাহী রেখে গেছেন। তাঁর স্ত্রী, সন্তান যুক্তরাজ্যে বসবাস করেন।
সোমবার রাত সাড়ে ১০ টার দিকে মরহুমের মরদেহ এম্বুলেন্স যোগে তাঁর জন্মভিটায় এসে পৌঁছিলে সেখানে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণ ঘটে। এলাকার শত শত নারী পুরুষ শেষবারের মতো তাকে দেখতে বাড়িতে ছুটে যান। তাঁর অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
সাবেক ছাত্র নেতা বজলুর রশিদ ভুঁইয়ার বড় ভাই জগন্নাথপুর পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রশীদ ভূঁইয়া জানান, আমার ছোট ভাইয়ের অকাল মৃত্যুতে আমরা বাকরুদ্ধ। ছোট ভাইয়ের বিদেহী আত্মার শান্তির জন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করেছেন।
বজলুর রশিদ ভুঁইয়ার স্বজনরা জানান, আওয়ামী লীগের পরিবারের জন্ম নেয়া বজলুর রশীদ স্কুলজীবন থেকে ছাত্রলীগ রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিল। জগন্নাথপুর কলেজে ছাত্রলীগের সভাপতি ও উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ৯০ দশকে এবং স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের অগ্রসৈনিক হিসেবে রাজপথের একজন সাহসী যোদ্ধা ছিলেন। বিবাহ জীবনে আবদ্ধ হওয়ার পর তিনি যুক্তরাজ্য পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন। সেখানে তিনি লির্ডস আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব ছিলেন। রাজনীতির পাশাপাশি বজলুর রশীদ ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ৯০ দশকে খুবই জনপ্রিয় ছিলেন। একজন কৃতি গোলকিপার হিসেবে তাঁর সুখ্যাতি ছিল। অনুরূপভাবে রয়েছে সাংস্কৃতিক জগতেও। তৎকালিন সময়ের জনপ্রিয় সামাজিক সংগঠন পারাবত নামে একটি সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে কাজ করেছেন।
তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান, সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সিদ্দিক আহমদ, জেলা আওয়ামী লীগ নেতা নুরুল ইসলাম, সিরাজুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আকমল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রিজু, সহসভাপতি সিরাজুল হক, আব্দুল কাইয়ুম মশাহীদ, যুগ্ম সম্পাদক লুৎফুর রহমান. সাংগঠনিক সম্পাদক বদরুল ইসলাম, মুক্তাদীর আহমদ, জয়দ্বীপ সুত্রধর বীরেন্দ্র, উপজেলা যুবলীগ সভাপতি কামাল উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন লালন, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মুজিবুর রহমান মুজিব, উপেজলা ছাত্রলীগ সভাপতি সাফরোজ ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক শাহ রুহেল শোক প্রকাশ করেছেন।