- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

ছাত্রলীগের জেলা কমিটি- সংখ্যার ছলনা- ৮ সহ সভাপতি বিয়ে করেছেন, চাকুরি করছেন ৫ জন

বিশেষ প্রতিনিধি
জেলা ছাত্রলীগের ২৯ সহ সভাপতি’র ৮ জন, ৭ সাংগঠনিক সম্পাদকের ২ জন এবং ৯ যুগ্ম সম্পাদকের ১ জন অর্থাৎ ১১ জন নেতা বিয়ে সেরেছেন। ১৭১ সদস্যের কমিটির অনেকেই ছাত্রত্ব হারিয়েছেন। অবশ্য. দেশের বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে আইনের ছাত্র হিসাবে তালিকাভুক্ত আছেন জ্যেষ্ঠরা। কমিটির সদস্য সংখ্যা দায়িত্বশীলরা ১৭১ বললেও কেউ কেউ বলেছেন, কমিটি আসলে কত সদস্যের এটি সভাপতি ও সম্পাদক ছাড়া কেউ নিশ্চিত করতে পারবেন না। গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করে সদস্য সংখ্যা বাড়ানো এবং কে কে কমিটিতে রয়েছে, এই নিয়েও লুকোচুরির অভিযোগ করেছেন কমিটির অনেকেই। এই অবস্থায় আগামী ৩ মাসের মধ্যে দায়িত্বশীলরা সম্মেলন করতে না পারলেও কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব জেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটি ঘোষণা দিতে পারেন।
জেলা ছাত্রলীগের দায়িত্বশীলদের দাবি অনুযায়ী ১৭১ সদস্যের জেলা কমিটিতে ২৯ জন সহ সভাপতি, ৯ জন যুগ্ম সম্পাদক এবং ৭ জন সাংগঠনিক সম্পাদক রয়েছেন। এই ৪৫ জনের ১১ জন ইতিমধ্যে বিয়ে করেছেন। ছাত্রত্ব হারিয়েছেন বেশিরভাগেই। অবশ্য কেউ কেউ পরবর্তী কমিটির নেতৃত্বে থাকার লড়াইয়ে সুবিধা পেতে বিভিন্ন ল’ কলেজে ভর্তি বহাল রেখেছেন।
জেলা কমিটির সদস্য নিয়েও ধূ¤্রজাল রয়েছে। সংগঠনের জেলা কমিটির সহ সভাপতি মোশারফ হোসেন ইমন বলেন, ‘কমিটি কত সদস্যের এটি সভাপতি ও সম্পাদকই ভাল জানেন, আমরা তালিকা পাইনি। তবে সহ সভাপতি ও সম্পাদকদের কমপক্ষে ১২ জন বিবাহিত। চাকুরিতে আছেন আরো কমপক্ষে ৫ জন’।
জেলা কমিটির আরেক দায়িত্বশীল নেতা বলেন, সহ সভাপতি ২৯ জন বলা হলেও পুরো জেলায় সহ সভাপতি বলে যারা পরিচয় দিচ্ছেন, তাদের সংখ্যা গুনা হলে ৪০ ছাড়িয়ে  যেতে পারে। অন্যান্য পদেও একই অবস্থা।
জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক আহমদ সুজন বলেন, ‘প্রথমে কমিটি হয়েছিল ১২১ সদস্যের, এখন শুনছি ১৮১ সদস্য, আসলে কমিটির সদস্য কত, এটি সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছাড়া অন্য কেউ জানে না, কমিটির সদস্য সংখ্যা নিয়ে ধূ¤্রজাল রয়েছে, ২০১০ সালের অক্টোবর থেকে গত ৬ বছরে একদিনের জন্যও জেলা ছাত্রলীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সভা হয়েছে বলে আমি জানি না’।
জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রফিক আহমদ চৌধুরী বলেছেন,‘কমিটির সদস্য সংখ্যা নিয়ে কোন বিভ্রান্তি নেই, ১৭১ সদস্যের কমিটির ২৯ জন সহ সভাপতি, ৯ জন যুগ্ম সম্পাদক ও ৭ জন সাংগঠনিক সম্পাদক, এর মধ্যে ১১ জন বিয়ে করেছেন, সদস্যদের কেউ বিয়ে করেননি, সহ সভাপতিদের মধ্যেও অনেকেই আইনের ছাত্র, সকলকে অছাত্র বলা যাবে না। কেন্দ্রীয় কমিটি ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সম্মেলন করার নির্দেশ দিয়েছে, আমরাও কেন্দ্রের পরামর্শে ইউনিট কমিটি গঠনের কাজ করছি।  চেষ্টা করছি সেপ্টেম্বরের মধ্যে সম্মেলন করার’।
জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ফজলে রাব্বি স্মরণ বলেন,‘কমিটি নিয়ে ধূ¤্রজালের কিছু নেই, ১৭১ সদস্যের কমিটির ৫-৭ জন হয়তো বিয়ে করেছেন, তবে তারাও ছাত্রলীগের কার্যক্রমে সক্রিয়’।
প্রসঙ্গত. ২০১০ সালের অক্টোবরে সভাপতি ও সম্পাদকসহ ১০ জনের পদবি উল্লেখ করে সম্মেলন ছাড়াই জেলা ছাত্রলীগের কমিটি করে দিয়েছিলেন তৎকালীন কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। এই কমিটির বিরুদ্ধে ঐ সময় ছাত্রলীগের পদবঞ্চিতরা মিছিল-সমাবেশ বিক্ষোভ করলেও শেষ পর্যন্ত ঐ কমিটির নেতৃত্বেই ছাত্রলীগের কার্যক্রম চলতে থাকে। জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মতানৈক্যও ছিল দীর্ঘদিন। ২০১৫ সালের এপ্রিল মাসে পূর্ণাঙ্গ জেলা কমিটি গঠন করা হয়। এরপর থেকে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ফজলে রাব্বি স্মরণ ও সাধারণ সম্পাদক রফিক আহমেদ চৌধুরীকে কর্মসূচিতে একসঙ্গে দেখা যায়।
জানা গেছে, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন সুনামগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের  নেতৃবৃন্দকে ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে জেলা সম্মেলন করার নির্দেশ দিয়েছেন। অন্যদিকে, ছাত্রলীগের নেতৃত্ব পেতে আগ্রহীরাও নানাভাবে তদবিরও করছেন, কেউ কেউ কমিটিও জমা দিয়েছেন। মূল দলের দায়িত্বশীল দিয়ে আবার জেলার সংসদ সদস্যদের দিয়ে তদবির করাচ্ছেন। পদ পেতে আগ্রহীদের নিয়ে মূল দলের নেতারা কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতাদের সঙ্গে সম্প্রতি সাক্ষাৎও করেছেন।
কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন বলেছেন, সুনামগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সম্মেলন করতে না পারলে কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে সুনামগঞ্জের কমিটি ঘোষণা করা হবে’।

  • [১]