স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জে ছাত্রলীগের দু’দল সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছে। গুরুতর আহত ৩ জনকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের অবস্থা আশংকাজনক। এ ঘটনায় ছাত্রলীগ কর্মী মো. মোশাহিদ রহমান কুটি বাদী হয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি নোমান বখ্ত পলিনসহ ৫ জনকে বিবাদী করে মামলা করেছেন। পুলিশ মামলার এক নম্বর বিবাদী শহরের মুক্তারপাড়ার আব্দুস সালামের ছেলে রাজ (২৭) কে গ্রেপ্তার করেছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ছাত্রলীগ কর্মী রাজ ও কুটি’র মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরেই বিরোধ চলছিল। বৃহস্পতিবার রাত সোয়া নয়টায় শহরের উকিলপাড়ার একটি কফি হাউসে জেলা ছাত্রলীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান রিপন ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক রফিক আহমদ চৌধুরীসহ ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী অবস্থান করছিলেন। ওইসময় ওখানে রাজসহ ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা কর্মীও যান। একপর্যায়ে কথা কাটাকাটি থেকে দুই পক্ষের হাতাহাতি ও সংঘর্ষ হয়। এসময় কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়।
গুরুতর আহত ছাত্রলীগ কর্মী শহরের উত্তর আরপিননগরের মকসদ আলীর ছেলে মো. মোশাহিদ রহমান কুটি, সোমপাড়ার নুরুল আহমদের ছেলে শামীম আহমদ এবং মল্লিকপুরের সাদ্দাম মিয়ার ছেলে ইব্রাহিম আলীকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের অবস্থা আশংকাজনক। এরা জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান রিপন ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক রফিক আহমদ চৌধুরীর সমর্থক।
এ ঘটনায় মো. মোশাহিদ রহমান কুটি বাদী হয়ে রাজ, নোমান বখ্ত পলিন, কালিবাড়ি’র সুদীপ দে’র ছেলে বিশাল দে, মো. মাহফুজুর রহমানের ছেলে তানজিলুর রহমান ও আরপিননগরের ইয়াকুব বখ্ত বহলুলের ছেলে ইফতি বখ্তকে বিবাদী করে মামলা করেছেন।
রফিক আহমদ চৌধুরী বললেন, আমার জানামতে কুটি ও রাজ’এর মধ্যে কোন বিরোধ ছিল না। আমরা কফি হাউসে বসা অবস্থায় হঠাৎ করেই রাজ ও নোমান বখত পলিনসহ কয়েকজন ঢুকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন। এক পর্যায়ে হামলার ঘটনা ঘটে। এসময় ছুরিকাঘাতে কয়েকজন আহত হন। বিবাদীগণের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তাদের বক্তব্য জানা যায় নি।
বিবাদী ইফতি বখ্ত’এর বাবা ইয়াকুব বখ্ত বহলুল বললেন, আমার ছেলে ইফতি ঘটনার সময় উকিলপাড়ায় ছিলই না, অথচ তাকে আসামী করা হয়েছে। আমাদের বাড়ির সামনে দিয়ে কয়েকটি মোটর সাইকেল একসঙ্গে চিৎকার করে যাবার সময় ভাই নোমান বখত পলিনকে এতো সাইকেল একসঙ্গে যাচ্ছে কেন, জিজ্ঞেস করলে সেও কিছুই জানাতে পারে নি। পলিন এসময় বাড়িতে ছিলেন।
সুনামগঞ্জ সদর থানার ওসি ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী জানান, এই ঘটনায় ৫ জনকে আসামী করে মামলা হয়েছে। একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।