ধর্মপাশা প্রতিনিধি
ধর্মপাশা উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউনয়িন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোকাররম হোসেনের বিরুদ্ধে নবী হোসেন নামের এক রিকশা চালককে অপহরণের অভিযোগ তুলে তাকে হেয় করার প্রতিবাদে উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি নাদিম কবিরকে বহিস্কার ও শাস্তির দাবিতে দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার দুপুরে উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন সড়কে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের পক্ষ থেকে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। এতে মোকাররম হোসেনের অনুসারী, স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাসহ কয়েক শতাধিক মানুষ অংশগ্রহণ করে।
গত বুধবার মোকাররম হোসেনের বিরুদ্ধে একই ইউনিয়নের মাহমুদনগর গ্রামের রিকশা চালক নবী হোসেনকে অপহরণের অভিযোগ তুলে মানববন্ধন ও থানায় লিখিত অভিযোগ করে নবী হোসেনের স্ত্রী সুরমা আক্তার। ওইদিন সন্ধ্যায় নবী হোসেন নিজেই থানায় উপস্থিত হয়ে জানায়, ছাত্রলীগ নেতা নাদিম কবির তাকে না জানিয়ে ‘মাহমুদনগর স্বপ্নের তরী মৎস্যজীবী সমবায় সমবায় সমিতি লিঃ’ এর সভাপতি করে। গত মঙ্গলবার এ সমিতির বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে আসে জেলা সমবায় কর্মকর্তাসহ আরো অনেকেই। তদন্তের সময় নবী হোসেনকে উপস্থিত থাকার জন্য জানায় নাদিম। কিন্তু এতে নবী হোসেন আপত্তি জানালে নাদিম তাকে হুমকি দেয়। এতে ভয় পেয়ে নিজেই আত্মগোপনে যায় নবী হোসেন। সে সুযোগে নাদিম কবির নবী হোসেনের স্ত্রীকে দিয়ে কৌশলে মোকাররম হোসেনের বিরুদ্ধে অপহরণের অভিযোগ তুলে মানববন্ধন ও থানায় লিখিত অভিযোগ করান। নবী হোসেন পার্শ্ববতী মোহনগঞ্জ উপজেলা সদরে রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে।
মানববন্ধনে উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান বাবরের পরিচালনায় দেন উপজেলা আওয়ামী লীগের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমিন তালুকদার, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা সুলতান আহমেদ মজুমদার, উপজেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ তুঘলক আহমেদ, উপজেলা যুবলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক শাহ আলী আকবর, সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. ইকরাম হোসেন, জাতীয় শ্রমিক লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক সেলিম তালুকদার, উপজেলা ছাত্রলীগের সহ সভাপতি আরমান আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক সাকিল মাহমুদ খান, ছাত্রলীগ নেতা তাসিনুল হক রাফি, মোমেন আহমেদ রাজ, মাহবুব হাসান লোটাস প্রমুখ।
নবী হোসেন বলেন, ‘মোকাররম চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য নয়। নাদিমের ভয়ে আমি পালিয়েছিলাম। আমার স্ত্রীকে দিয়ে মিথ্যা অভিযোগ করিয়েছে। স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার একদিন আমার কাছ থেকে আইডি কার্ড নিয়েছিল। ভাবছিলাম সরকারি সাহায্য দিবো। এখন শুনছি মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি দেওয়া হইছে।’
ছাত্রলীগ নেতা নাদিম কবির বলেন, ‘আমি সমিতির কেউ না। নবী হোসেনের পরিবার ও সমিতির লোকজন অপহরণের অভিযোগ তুলে মানববন্ধন করেছে। এতে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। নবী হোসেন যে স্বেচ্ছায় সমিতির সভাপতি হয়েছে তার উপযুক্ত প্রমাণ রয়েছে। আমার বিরুদ্ধে শুধু মিথ্যা অপপ্রচার করা হচ্ছে।’
জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান রিপন বলেন, ‘এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সাথে কথা বলে বিষয়টি জেনে যদি নাদিমের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায় তাহলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’