জেলা ছাত্র লীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণার পর একের পর এক বিভিন্ন উপজেলায় উপজেলা কমিটির সভাপতি সম্পাদক সহ বিভিন্ন পদের দাবিদারদের উত্থান ঘটায় জেলাজুরে আলোচনা-সমালোচনার ঢেউ তৈরি হয়েছে। এই আলোচনা-সমালোচনা পৌঁছে গেছে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটিতেও। উল্লেখ্য বিগত ১১ মার্চ সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটি সুনামগঞ্জ জেলা কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেন। এর পর তাহিরপুর, জগন্নাথপুর, জামালগঞ্জ ও দক্ষিণ সুনামগঞ্জে কিছু ব্যক্তি নিজেদের ছাত্র লীগ উপজেলা কমিটির সভাপতি সাধারণ সম্পাদক দাবি করে মিছিল মিটিং করা শুরু করেন। তারা দাবি করেন জেলা ছাত্র লীগের সদ্য বিলুপ্ত কমিটির সভাপতি ওইসব উপজেলা কমিটি অনুমোদন দিয়েছেন। অনুমোদনের যে তারিখ তারা উল্লেখ করেন তা বেশ কয়েক মাস আগের। সংগত কারণেই প্রশ্ন উঠে এত আগে কমিটি অনুমোদন দিলে সাথে সাথে তারা কেন সেটি ঘোষণা দিলেন না? এটা তো খুবই সাধারণ দৃশ্য, বিশেষ করে ক্ষমতাসীন দলের যেকোন অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের কমিটি অনুমোদন হওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবেই নতুন নেতারা সগৌরবে নিজেদের জনসমক্ষে হাজির করেন। শুভেচ্ছা-অভিনন্দনের বন্যায় তারা ভেসে যান। কিন্তু এবার কেন এই দীর্ঘ নিরবতা? আর কেনই বা জেলা কমিটি বিলুপ্তির পর এই গাত্রোত্থান? এই কমিটি বিষয়ে ব্যাপক ছাত্রনেতাদের অভিযোগ বিলুপ্ত কমিটির সভাপতি বিদায়ের আগে তাড়াহুড়ো করে এই অনুমোদনগুলো দিয়েছেন। তারা এই অনুমোদন দেয়াকে ছাত্র লীগের গঠনতন্ত্র বিরোধী হিসেবেও আখ্যায়িত করেছেন। আশ্চর্যের বিষয় হলো বিলুপ্ত কমিটির সাধারণ সম্পাদক ওইসব হঠাৎ আবির্ভূত কমিটি সম্পর্কে কিছুই জানেন না বলে গণমাধ্যমে বক্তব্য দিয়েছেন।
ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনের এইসব কমিটি অনুমোদনের খবর এখন সরস আলোচনার বিষয়বস্তু। অনেকে অনেক কথা বলছেন। বলা বাহুল্য এইসব মন্তব্য না ছাত্রলীগের জন্য সুখকর না অনুমোদনকারী সাবেক সভাপতির জন্য শোভনীয়। যেকোন ঘটনা ঘটলে প্রাকৃতিক নিয়মেই এর কিছু প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। সাবেক সভাপতি নিজ পদের অপব্যবহার করে যে কাজটুকু করেছেন এখন সেটি তার নিজের ভাবমূর্তিকে একেবারে তলানীতে নিয়ে যাচ্ছে। তিনি এইসব বিষয়ে নিজের অবস্থানও স্পষ্ট করছেন না। নানা ধরনের অস্পষ্ট বক্তব্য দিচ্ছেন। এইসব বক্তব্য বরং রহস্য জাল আরও বিস্তৃত করে। তবে অনুমোদন পাওয়া কমিটির সদ্য পদবিপ্রাপ্ত নেতারা এইসব আলোচনা-সমালোচনার ধার না ধেরে নিজেদের এলাকায় আনন্দ মিছিল করে সহর্ষ উদযাপনে ব্যস্ত রয়েছেন। ছাত্র সংগঠনের দায়িত্বশীল নেতাদের মতে এইসব কমিটি টিকবে না। কেন্দ্রীয় ছাত্র লীগের সহ সম্পাদক মাসুদ পারভেজ তারেক ও প্রচার সম্পাদক ম. সাইফুদ্দীন বাবু গণমাধ্যমে দেয়া বক্তব্যে নতুন কমিটিগুলোকে অবৈধ ও বিতর্কিত আখ্যায়িত করে এগুলো বাতিলের কথা বলেছেন।
এর মধ্য দিয়ে ছাত্র রাজনীতির একটি হতাশাজনক চিত্র সকলের সামনে ফুটে উঠল। কেন আজ ছাত্র নেতারা কমিটির পদ-পদবি পেতে এতো মরিয়া যেখানে অনৈতিক পন্থা অবলম্বন করতে তারা বিন্দুমাত্র চিন্তা করছেন না? ছাত্র রাজনীতি সম্পর্কে ব্যাপক সমালোচনা হলো পদবি পেলে পদবিধারী আলাদিনের চেরাগ হাতে পেয়ে যান। ওই চেরাগের ছোঁয়ায় নাকি অনেক তেলেসমাতি করা যায়। তাই যেকোন উপায়ে একটি পদবি বাগাতে এত কসরৎ। ছাত্র সমাজ তথা শিক্ষা সেক্টরের অধিকার আদায়ের জন্য যে ছাত্র রাজনীতির উদ্ভব এখন সেটি বিত্ত ও বৈভব বাড়ানোর উপকরণ হয়ে গেছে, রাজনীতির জন্য এর চাইতে খারাপ আর কী হতে পারে? স্বাধীনতাত্তোর কাল থেকে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন পর্যন্ত ছাত্র রাজনীতির যে উজ্জ্বল ভূমিকা তা আজ ম্লান হয়ে গেছে। এই ম্লান অবস্থা কি কেবলই ঘন অন্ধকারের দিকে ধাবমান থাকবে?