স্টাফ রিপোর্টার
তাহিরপুরে জেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রচারণাকে কেন্দ্র করে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা এবং ১ ইউপি সদস্যকে মারপিটের ঘটনাও ঘটেছে। বুধবার বিকালে এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় লোকজন জানান, বুধবার বিকালে উপজেলা আওয়ামীলীগ কার্যালয়ে উন্নয়নের আট বছর ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বিষয়ক একটি ব্যানারে উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি আবুল হোসেন খানের সভাপতিত্বে উপজেলার ৭ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, সদস্যদের বৈঠক আহ্বান করা হয়। বৈঠকে সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতন এমপিও থাকবেন বলে আগে থেকে প্রচার হয়।
বিকাল ৩ টায় উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের ঐ সভায় জেলা পরিষদ নির্বাচনের চেয়ারম্যান প্রার্থী নুরুল হুদা মুকুট ও সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আয়ুব বখ্ত জগলুল উপস্থিত হন। তাঁরা নুরুল হুদা মুকুটের পক্ষে মোটর সাইকেল প্রতীকে ভোট চান। এসময় মোয়াজ্জেম হোসেন রতনের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেন নুরুল হুদা মুকুট ও আয়ুব বখ্ত জগলুল। এই সভায় উপস্থিত তাহিরপুর সদর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মতি মিয়ার সঙ্গে নুরুল হুদা মুকুটের সমর্থকদের কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে মতি মিয়া সভা থেকে বের হয়ে আসেন।
বিকাল ৫ টায় একই সভায় স্থানীয় সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতন উপস্থিত হয়ে উন্নয়ন নিয়ে কথা বলেন,‘এক পর্যায়ে এমপি রতন বলেন, সামনে জেলা পরিষদ নির্বাচন, উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে নেত্রীর পছন্দের প্রার্থীকেই ভোট দিতে হবে’।
সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতন সভা শেষ করে চলে যাওয়ার পর সভা থেকে যাওয়ার সময় ইউপি সদস্য মতি মিয়ার উপর হামলা হয়। হামলাকারীরা মতি মিয়াকে ছুরিকাঘাত করে। গুরুতর আহত মতি মিয়াকে প্রথমে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ইউপি সদস্য মতি মিয়া ব্যারিস্টার ইমনের সমর্থক হিসাবে পরিচিত।
ঘটনার বিষয়ে চেয়ারম্যান প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল হুদা মুকুট বলেন,‘এমপি রতন থানার ওসিকে দিয়ে জনপ্রতিনিধিদের দাওয়াত করিয়েছেন এবং সভায় ব্যারিস্টার ইমনের জন্য ভোট চেয়ে আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন। সভার বাইরে একজনের সঙ্গে ঠেলাধাক্কা হয়েছে। আমাদের সামনে কোন ঘটনা ঘটেনি’। নুরুল হুদা মুকুট বলেন,‘এমপি রতনের বক্তব্য আমরা রেকর্ড করেছি, নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ করবো’।
আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন বলেন, ‘সন্ত্রাসী আচরণ করে ভোটারদের পক্ষে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাহিরপুরের একজন ইউপি সদস্যকে মারপিট করা হয়েছে। আগামী ২৮ ডিসেম্বর জনপ্রতিনিধিরা ভোটের মাধ্যমে এসবের জবাব দেবেন’।
স্থানীয় সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতন বলেন,‘আমি চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের সঙ্গে উন্নয়ন নিয়ে সভা করেছি। সভায় আমি বলেছি উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে জননেত্রী শেখ হাসিনার পছন্দের প্রার্থীকেই ভোট দিতে হবে। আমি থাকা অবস্থায় কোন মারামারি হয়নি।’