স্টাফ রিপোর্টার
‘বাবা বিভিন্ন জায়গায় যাচ্ছেন আমার ভর্তির টাকা ঋণ করে আনা যায় কী-না। এখনো ব্যবস্থা হয়নি, ব্যবস্থা হলে হবিগঞ্জে যাব। বাবা-মা সকলেরই মন খারাপ দেখা-যাক কী হয়। তবে আমার ভরসা রয়েছে কোন না কোনভাবে মেডিকেলে পড়বোই আমি।’
কথাগুলো ধর্মপাশার বাদশাগঞ্জের পাশের সরিসাম গ্রামের হৃদয় চন্দ্র দাসের। এবার মেডিকেল কলেজের ভর্তি পরীক্ষায় জেলা কোঠায় (মেধাক্রম ৪৫৩৭) উত্তীর্ণ হয়েছে সে। হৃদয় ৪ ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট। বড়ভাই সিলেট এমসি কলেজের মাস্টার্সের (রাষ্ট্রবিজ্ঞান) ছাত্র। সংসার কোনভাবে চলছে মুলত তাঁর টিউশনির টাকায়। এক ভাই মানসিক রোগী, অন্য ভাই কয়েকদিন আগে গিয়ে ঢাকায় গার্মেন্টেসে কাজ নিয়েছে। বাবা বিনোদ চন্দ্র দাস বাদশাগঞ্জ বাজারে ফুটপাতের এক চালা ঘরে ধোপার কাজ করেন।
হৃদয়ের বাবা বিনোদ চন্দ্র দাস বলেন, ‘আমি যে টাকা রোজগার করি, এই দিয়ে সংসার চালানোই দায়। আমার সিলেটে পড়–য়া ছেলেটি মাঝে-মধ্যে কিছু টাকা না পাঠালে পরিবারের খাবার ব্যবস্থাই হতো না।’
হৃদয় বাদশাগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে এসএসসি উত্তীর্ণ হয়। ব্র্যাকের দেওয়া প্রতি মাসের ২৫০০ টাকায় ম্যাসে থেকে ময়মনসিংহের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেছে সে।
হৃদয় বললো-‘বাবার কাছে কোন টাকা নেই, তবে আমার বিশ্বাস ভালো কাজে মানুষ টাকা দেয়। বাবা অনেকের কাছে ধার চেয়েছেন, কেউ না কেউ বাবাকে ধার দেবেন এবং আমার ভর্তির ব্যবস্থা হবে।’