স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জ পৌর শহরের আদালত প্রাঙ্গণের একটি রাস্তার পাশে ‘রাব্বি হত্যার বিচার চাই, মানববন্ধন’ লেখা একটি ব্যানার পিছনে রেখে বসে আছেন রুপিয়া বেগম (৪৫)। এই মানববন্ধন তিনি একাই করছেন। তাঁকে ঘিরে আছেন নানা পেশার মানুষজন। কিছুক্ষণ পর পর তিনি ছেলে হত্যার বিচার চেয়ে আহাজারি করছেন। দুই হাত তুলে হাউমাউ করে কাঁদছেন। বুধবার দুপুরের দৃশ্য এটি।
রুপিয়া বেগমের বাড়ি ছাতক উপজেলার নোয়ারাই ইউনিয়নের পূর্ব নোয়ারাই গ্রামে। তাঁর একমাত্র ছেলে মেহেদী হাসান রাব্বী (২২) হত্যার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের দাবিতে বুধবার একাই এই মানববন্ধন করেন তিনি।
মামলা ও রুপিয়া বেগমের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রুপিয়া বেগমের ছেলে রাব্বীর বয়স যখন ২ তখন স্বামী আলমগীর হোসেন মারা যান। এরপর তিনিই রাব্বীকে খেয়ে না খেয়ে বড় করেন। এক পর্যায়ে ছেলে একটি দোকানে কাজ নিয়ে সংসারের হাল ধরেন। ২০১৯ সালে ২৩ জুলাই বিকেলে ছাতক পৌর শহরের সিমেন্ট ফ্যাক্টরি এলাকার বাজারের একটি দোকানে বসে ছিলেন রাব্বী। এ সময় কিছু লোক সেখানে গিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে রাব্বী গুরুতর আহত হন। পরে তাকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে রাতে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
ঘটনার পর ২৬ জুলাই রুপিয়া বেগম বাদী হয়েছে ১৭ জনের বিরুদ্ধে ছাতক থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরপর পুলিশ বিভিন্ন সময়ে কয়েকজন আসামিকে গ্রেপ্তার করে। আসামিদের কেউ কেউ উচ্চ আদালত থেকে জামিন পান। বর্তমানে আসামীদের মধ্যে শুধু লিয়াকত আলী জেলে আছেন। এ ছাড়া একজন আসামি আছেন পলাতক। পুলিশ মামলাটি তদন্ত করে ১৭জন আসামির মধ্যে ১২জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছে। অভিযোগ থেকে বাদপড়া আসামিদের আবার যুক্ত করতে রুপিয়া বেগমের আইনজীবী আদালতে আবেদন করেছেন।
রুপিয়া বেগম জানান, তিনি মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। একমাত্র ছেলে হত্যার বিচারের দাবিতে মুক্তিযোদ্ধাবিয়ষকমন্ত্রী, এটর্ণি জেনালেন, পুলিশের মহাপরিদর্শকসহ বিভিন্ন জায়গায় আবেদন করেছেন। অনেকের সঙ্গে গিয়ে কথা বলেছেন। আসামিরা প্রভাবশালী হওয়ায় তিনি ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন। রুপিয়া বেগম বলেন,‘আমি আমার বুকের ধন হারিয়েছি। আমার বুক শূন্য হয়ে গেছে। আমার ছেলেকে যারা হত্যা করেছে, আমি তাদের সবার ফাঁসি চাই।’
রুপিয়া বেগমের আইনজীবী মল্লিক মো. মইন উদ্দিন বলেন, মামলার আইনি প্রক্রিয়া চলমান আছে। আমরা অভিযোগপত্র থেকে বাদপড়াদের আবার যুক্ত করতে আদালতে আবেদন করেছি। এই আবেদন শুনানির পর্যায়ে আছে।