জগন্নাথপুর অফিস
জগন্নাথপুর উপজেলার উল্লেখযোগ্য তিনটি সড়কের বেহাল দশায় জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। দীর্ঘদিন ধরে সংষ্কার বা পূনঃ নির্মাণ কাজ না হওয়ায় জগন্নাথপুরবাসীর বিভাগীয় শহর সিলেট কিংবা রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াতের একমাত্র সড়ক জগন্নাথপুর-বিশ্বনাথ-রশিদপুর সড়কের জগন্নাথপুর-কেউনবাড়ি অংশ যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এছাড়াও ভবেরবাজার গোয়ালাবাজার সড়ক ও জগন্নাথপুর-শিবগঞ্জ-বেগমপুর সড়কের বেহাল দশা বিরাজ করছে। এলাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরে সড়কগুলোতে সংষ্কার কাজের জন্য জোর দাবি জানিয়ে আসলেও কোন কাজ হচ্ছেনা।
উপজেলাবাসী জানান, সড়কের বেহাল দশায় জগন্নাথপুর-বিশ্বনাথ রশিদপুর সড়কের মীরপুর এলাকায় শুক্রবার একটি ট্রাক গর্তে পড়ে ১৭ ঘন্টা যান চলাচলে বন্ধ থাকে। অপরদিকে ভবেরবাজার গোয়ালাবাজার সড়কের কাঠালখাই এলাকার বিক্ষুব্ধ মানুষ সড়কে শুক্রবার চারা রোপণ করে অভিনব প্রতিবাদ জানান। এছাড়াও শিবগঞ্জ-বেগমপুর সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন জনসাধারণ।
স্থানীয় সরকার উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্র জানায়, জগন্নাথপুর-বিশ্বনাথ-সিলেট সড়কের জগন্নাথপুর-কেউনবাড়ি পর্যন্ত ১৩ কিলোমিটার, জগন্নাথপুর-বেগমপুর-পাইলগাঁও ১৫ কিলোমিটার ও জগন্নাথপুর-ভবের বাজার-সৈয়দপুর-গোয়ালা বাজার ১২ কিলোমিটার সড়কের বেহাল দশা বিরাজ করছে। তন্মধ্যে জগন্নাথপুর ভবের বাজার-গোয়ালাবাজার সড়কের সংস্কার কাজ শুরু হয় গত বছর। স্থানীয় সংসদ সদস্য অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান ভিত্তিপ্রস্তুর স্থাপনের মাধ্যমে ৩ কোটি ৭৯ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়কটির কাজ শুরু করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সজিব রঞ্জন দাশ। ভবেরবাজার থেকে সৈয়দপুর বাজার পর্যন্ত সড়কের কাজ সাত মাস আগে শেষ করে ঠিকাদার কাজ ফেলে রাখেন। যে কারণে ওই সড়কের অপর অংশ কাঁদামাটিতে একাকার হয়ে গেছে। কাঠালখাইড় নামক স্থানে বিশাল গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় সড়কটি পুরোপুরি যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
নয়াবন্দর এলাকার বাসিন্দা রাজনৈতিক কর্মী যুবলীগ নেতা জাকির হোসেন বলেন, একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে এই সড়কটি নিয়ে আমরা লজ্জিত। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় প্রতিদিন চলাচলকারী লোকজনের গালি শুনতে হয়। জাকিরসহ এলাকার যুবকরা জানান, এলাকার মানুষের দুর্ভোগ দেখার যেন কেউ নেই। ঠিকাদাররা প্রভাবশালী হওয়ায় কারো কথা তারা শুনেন না। এবিষয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের একজন জানান, সড়কের ৫০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। বাকী ৫০ ভাগ কাজ বৃষ্টির জন্য করা যাচ্ছে না। বৃষ্টির মধ্যে বিটুমিনের কাজ করা যায় না। তাই কাজ বন্ধ রয়েছে। অপরদিকে জগন্নাথপুর-বিশ্বনাথ-রশিদপুর সড়কের জগন্নাথপুর-কেউনবাড়ি অংশের বেশ কয়েকটি স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। যে কারণে বৃষ্টি হলেই সড়কটি যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।
জগন্নাথপুর-বিশ্বনাথ-রশিদপুর সড়কদিয়ে নিয়মিত যাতায়াতকারী যাত্রী বকুল গোপ বলেন, গুরুত্বপূর্ণ ওই সড়কটি যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় জগন্নাথপুরের মানুষ সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছেন। মনে হয় সংশ্লিষ্ট সবাই জেগে জেগে ঘুমাচ্ছেন। এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ওই সড়কের বেহালদশার চিত্র তুলে ধরে পৌর এলাকার ইকড়ছই গ্রামের সিদ্দিকুর রহমান গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্টদের সুদৃষ্টি কামনা করে দ্রুত রেহাই পাওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন। অতি সম্প্রতি উপজেলা পরিষদের মাসিক সাধারণ সভায় এই সড়কের সংষ্কার কাজ না হওয়ায় জনপ্রতিনিধিদের তোপের মুখে পড়েন উপজেলা প্রকৌশলী। তারপরও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের টনক নড়ছে না।
জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মুক্তাদীর আহমদ বলেন, জগন্নাথপুরের উল্লেখযোগ্য তিনটি সড়কের বেহাল দশায় জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমরা বিব্রতকর অবস্থায় আছি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে বার বার যোগাযোগ করছি যাতে দ্রুত সংষ্কার কাজ শুরু হয়।
উপজেলা চেয়ারম্যান আকমল হোসেন বলেন, উপজেলা পরিষদের মাসিক সভায় আমরা জোর দাবি জানিয়েছি যাতে দ্রুত সড়কগুলোর কাজ করা হয়। তিনি জানান, স্থানীয় সংসদ সদস্য অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বিদেশ সফরের আগে সড়কগুলোর কাজ দ্রুত শুরু করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়ে গেছেন।
জগন্নাথপুর উপজেলা প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম সুনামগঞ্জের খবরকে বলেন, আমি নিজেও সড়ক নিয়ে লজ্জিত। যা আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। তিনি বলেন, জগন্নাথপুর-বিশ্বনাথ-রশিদপুর সড়কের সংস্কার কাজের জন্য ২৬ লাখ টাকার একটি প্রকল্প দাখিল করেছিলাম। শুনেছি প্রকল্পটি অনুমোদন হয়েছে। শনিবার থেকে সড়কের গর্ত ভরাট কাজ শুরু করেছি। এছাড়াও ভবেরবাজার-গোয়ালাবাজার সড়কের অসমাপ্ত কাজ দ্রুত শেষ করতে ঠিকাদারকে তাগদা দেয়া হয়েছে। তিনি শিবগঞ্জ-বেগমপুর সড়কের জন্য ৮ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে জানিয়ে বলেন, শ্রীঘ্রই ওই সড়কের কাজের টেন্ডার হবে।