- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

জগন্নাথপুরের নির্বাক হাওরবাসী-ধান পঁচে মারা যাচ্ছে মাছ

জগন্নাথপুর অফিস
জগন্নাথপুরের হাওরপাড়ের কৃষকদের যেন দুঃখ, কষ্ট ও দুর্দশা কাটছে না। কাঁচা আধা পাকা ফসল পানিতে তলিয়ে যাওয়ার পর এবার হাওরের মাছ মরে যাচ্ছে। রবিবার ভোর থেকেই হাওরের মাছ মরে পানিতে ভেসে উঠে। স্থানীয় কৃষকরা জানিয়েছেন, পানিতে ফসল পচে দুর্গদ্ধে বিষক্রিয়ায় মাছগুলো মরে ভেসে উঠেছে। ফসলহানির পর মৎস্য        হারানোর আশংকায় কৃষকদের আহাজারি থামছে না।
জানা যায়, সাস্প্রতিকালে জগন্নাথপুরের সর্ববৃহৎ নলুয়ার হাওরসহ উপজেলার ছোটবড় ১৫টি হাওরের কাঁচা আধা পাকা সোনালি ফসল সম্পূর্ণ পানিতে নিমজ্জিত হয়ে গেছে। অসময়ে ফসলহানির ঘটনায় কৃষকরা চোখে শর্ষেফুল দেখছেন। এর মধ্যে নলুয়া, মইয়া, পিংলার হাওরসহ উপজেলার সব ক’টি হাওরে রুই, কাতলা, বোয়ালসহ ছোট বড় দেশীয় প্রজাতির মাছগুলো মরে যাওয়ায় হাওরবাসী নির্বাক হয়ে পড়েছেন।
নলুয়ার হাওরপাড়ের ভূরাখালি গ্রামের বাসিন্দা গিয়াস উদ্দিন জানান, ফসল হারানোর পর বেঁচে থাকার কিছুটা আশা ছিল হাওরের মাছ। কারণ বছরের ছয় মাস মাছ শিকার করে জীবন-জীবিকা চলে হাওরবাসীর। কিন্তু এবার ধানও গেল মাছও গেল। এর মধ্যে শনিবার কাল বৈশাখী ঝড়ে আমার বসতঘর বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। চোখে কোন পথ খোঁজে পাচ্ছি না। পরিবার পরিজন নিয়ে কী করে বেচে থাকব।  
উপজেলা হাওর উন্নয়ন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ভুরাখালি গ্রামের বাসিন্দা সিদ্দেকুর রহমান জানান, হাওরপাড়ের বাসিন্দার বোরো ফসল ও হাওরের মাছের ওপর নির্ভরশীল। এবারে কৃষকের ঘরে নেই ফসল। কৃষকদের জীবন জীবিকার একমাত্র অবলম্বন ছিল হাওরের মাছ। এবার মাছও গেল মরে। তার ওপর কাল বৈখাশী ঝড়। সব কিছু মিলে হাওরবাসীর মহাসংকটে পড়েছেন।  
নলুয়া হাওরবেষ্টিত উপজেলার চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আরশ মিয়া জানান, ভাল নেই হাওরপাড়ের মানুষ। কষ্টার্জিত ফসল হারানোর শোক কাটতে না কাটতে এখন হাওরের মাছগুলো মরে যাচ্ছে। পুরো বর্ষা মৌসুম হাওরের লোকজন মাছ শিকারের মাধ্যমে তাদের সংসারের আহার যোগান।  
জগন্নাথপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ওয়াহিদুল আবরার জানান, পানিতে ফসল পচে যাওয়ায় এমোনিয়া গ্যাস সৃষ্টি হওয়ায় মাছগুলো বিষক্রিয়া আক্রান্ত হয়ে মরে পানিতে ভেসে উঠেছে। ওই সব মাছ খেলে মানুষের কোন ধরনের ক্ষতি হবে না। এমোনিয়ামুক্ত করতে নলজুীর নদীতে বিকেলে ঔষধ প্রয়োগ করা হয়েছে।  
জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুম বিল্লাহ জানান, রোগ জীবানুতে মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণে  প্রশাসনের উদ্যোগে নদী, জলায়শ ও হাওরের বিল বাদলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এরই মধ্যে রবিবার উপজেলার নদ নদীগুলো ঔষধ দেয়া হয়েছে।

  • [১]