- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

জগন্নাথপুরের নির্বাচনের সৌন্দর্যই হলো প্রবাসীদের অংশগ্রহণ

জগন্নাথপুরের যেকোন নির্বাচনে প্রবাসীদের ব্যাপকমাত্রায় প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি সদাসর্বদাই আলোচনার কেন্দ্রস্থলে অবস্থান করে। যেরকমটি ছিল বিগত পৌর নির্বাচনে, মেয়র প্রার্থীর তিন জনই ছিলেন প্রবাসী। সঙ্গতকারণেই বিজয়ী মেয়রও একজন প্রবাসী। এর আগে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ৮ ইউনিয়নে নির্বাচিত অধিকাংশ চেয়ারম্যানই ছিলেন প্রবাসী । আগামী ২৮ মে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে সাত ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে (মিরপুর ইউনিয়নে মামলাজনিত কারণে নির্বাচন হচ্ছে না) যে ৩৭ ব্যক্তি মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন তাঁদের ১৮ জনই প্রবাসী। অর্থাৎ প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারীদের শতকরা ৫০ ভাগেরও বেশি প্রার্থী প্রবাসী। জগন্নাথপুরের যেকোন নির্বাচনে প্রবাসী প্রার্থীদের আধিক্যকে খুব ভাল চোখে দেখেন না নন-প্র্রবাসী (স্থানীয়) প্রার্থীরা। তাঁদের অভিযোগ প্রবাসীরা নির্বাচনের কয়েকদিন আগে এসে প্রার্থী হয়ে যান এবং টাকার জুরে নির্বাচিত হয়ে আবার বিদেশে চলে যান। প্রবাসীদের কারণে যারা সার্বক্ষণিক সমাজসেবা ও রাজনীতির সাথে জড়িত তারা নির্বাচনে সুবিধা করতে পারেন না। প্রবাসীদের প্রার্থীতা নিয়ে স্থানীয়দের এই যে অভিযোগ সেটির মধ্যে সারবত্তা থাকলেও প্রবাসীদের প্রার্থী হওয়া নিয়ে আমাদের নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করা উচিৎ কিনা সেটি একটি বড় প্রশ্ন। আইনগতভাবে প্রবাসীরা দ্বৈত নাগরিক। যেকোন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ও ভোট প্রদানের অধিকার রয়েছে তাঁদের। ব্যক্তির এই আইনগত অধিকার কখনও খর্ব করা সম্ভব নয়। অন্যদিকে প্রবাসীরা সাধারণ নির্বাচকম-লীর ভোটেই নির্বাচিত হচ্ছেন। এখন ভোটাররা কোন্ বিবেচনায় প্রবাসীদের ভোট দিয়ে থাকেন সেটি তাদের বিবেচনার বিষয়। স্থানীয় প্রার্থীরা বিরক্ত হলেও নির্বাচনী ফলাফল বিশ্লেষণ করলে কখনও মনে হয় না সাধারণ ভোটাররা প্রবাসীদের প্রার্থী হওয়া নিয়ে বিরক্ত রয়েছেন। বরং ব্যাপকভাবে প্রবাসীদের বিজয় থেকে প্রমাণিত হয় সাধারণ মানুষ তাঁদেরকে পছন্দই করেন। এ কারণেই প্রবাসীরাও ব্যাপক হারে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে উৎসাহিত হন। যদি সাধারণ নির্বাচকরা প্রবাসীদের প্রত্যাখ্যান করতেন তাহলে যে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রবাসীদের অংশগ্রহণ কমে আসত তা বলাই বাহুল্য। সুতরাং প্রবাসীদের নির্বাচন করার বিষয়টি আইন ও সাধারণ ভোটারদের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে অগ্রহণযোগ্য নয়।  
প্রবাসীরা এখন পর্যন্ত দেশ ও জন্মভূমির প্রতি একধরনের টান অনুভব করেন। তাঁরা নিয়মিত দেশের সাথে সংযোগ রক্ষা করেন এবং দেশের নানা বিষয়াদিতে সক্রিয় প্রতিক্রিয়া দেখান। প্রবাসীদের এই অংশ যখন বিগত হবেন তখন তাদের সন্তান-সন্ততিদের পূর্বপুরুষের জন্মস্থানের প্রতি এই টান স্বভাবতই কমে আসবে। আমরা অভিজ্ঞতায় দেখি, প্রবাসীরা নির্বাচন ছাড়াও এলাকার নানা সামাজিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন। বিভিন্ন জায়গায় অনুদান ও সহযোগিতা দেন তারা অনেকটা অকৃপণভাবেই। প্রবাসীরা নিজের প্রত্যন্ত জন্মভিটায় কোটি টাকা খরচ করে বিশাল প্রাসাদ তৈরি করে লন্ডন চলে যান আর ওই প্রাসাদে অবস্থান করে কেয়ারটেকার অথবা অন্য কেউ। এ হয় শুধু নাড়ির টানের কারণেই। যতদিন সম্ভব প্রবাসীদের এই নাড়ির টানকে ধরে রাখতে হবে। এতে দেশের লাভ। প্রবাসীদের আনাগুনা বন্ধ হয়ে গেলে এলাকায় অর্থপ্রবাহও যে কমে আসবে সেটি বুঝার মতো সক্ষমতা সকলেরই রয়েছে। সুতরাং দেশের প্রতি অন্তরের তাগিদ থেকে প্রবাসীরা যদি কোন নির্বাচনে প্রার্থী হন তা দোষণীয় কোন বিষয় হতে পারে না। আর সবচাইতে বড় সত্য হলো, প্রবাসী নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে সরকারি বরাদ্দ লুপাট করা কিংবা বড় কোন অনৈতিক কর্মকা-ে সম্পৃক্ত থাকার খবর পাওয়া যায় না। বহু প্রবাসী চেয়ারম্যান সরকারি বরাদ্দের অপেক্ষা না করে নিজেরাই তহবিলের ব্যবস্থা করে অনেক উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন করেন।
জগন্নাথপুরে নির্বাচনের সৌন্দর্যই হচ্ছে ব্যাপকমাত্রায় প্রবাসীদের অংশগ্রহণ। এই সৌন্দর্য অব্যাহত থাকুক আরও যতদিন সম্ভব। আমরা প্রবাসীদের সাথে দেশের সম্পর্ক ছিন্ন হোক এমন পরিস্থিতি কখনও কামনা করি না।

  • [১]