- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

জগন্নাথপুরের নির্বাচন কিছু পরিসংখ্যান ও সন্তোষ

আওয়ামী লীগের ঘাটি বলে বিবেচিত জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হওয়ায় সংগত কারণেই বিএনপি মহলে বইছে তৃপ্তির হাওয়া। অন্যদিকে নতুন নির্বাচন কমিশনও বিরোধী দলের প্রথামাফিক সমালোচনার হাত থেকে রক্ষা পেলেন। জগন্নাথপুরে আওয়ামী লীগের পরাজয় আর বিএনপির বিজয় নিয়ে জনসাধারণ্যে এখন নানা ধরনের চুলচেরা বিশ্লেষণ হচ্ছে বিভিন্ন বৈঠকে, সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ হচ্ছে এরকম বিশ্লেষণাত্বক প্রতিবেদন। প্রয়াত জাতীয় নেতা মরহুম আব্দুস সামাদ আজাদের নির্বাচনী এলাকা হিসেবে এই উপজেলাটি বরাবরই আওয়ামী লীগের নিরাপদ আসন বিবেচনা করা হয়ে থাকে। কিন্তু তাঁর মৃত্যুর পর উপজেলার আওয়ামী রাজনীতিতে বিভেদ বিভাজন আর অনৈক্যের সূচনা হয় অনাকাক্সিক্ষতভাবে। ফলে বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে শুরু করে পৌর নির্বাচন ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনগুলোতে মূল ধারার আওয়ামী প্রার্থীরা জিততে পারছেন না। আওয়ামী লীগের সাথে আওয়ামী বিদ্রোহীদের প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাঝেও এই উপজেলায় বিএনপি বা অন্য দল সুবিধা করতে না পারলেও এবার বিএনপি ঠিকই জয় ছিনিয়ে এনেছে। এই পরাজয় নিয়ে আওয়ামী লীগ নিশ্চয়ই আত্ম সমালোচনা ও পর্যালোচনা করবে। তাঁরা যদি সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন তাহলে নিশ্চয়ই অনৈক্য আর বিভাজনের এই অবস্থা থেকে উত্তরণের পথ পাবেন। একটি অবাধ, শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে বিজয়ী উপজেলা পরিষদের নব নির্বাচিত চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানগণকে আমরা অভিনন্দন জানাই।
এবার নির্বাচনের পরিসংখ্যানগত কিছু দিক সামনে আনা যাক। জগন্নাথপুরে মোট ভোটার ১ লাখ ৬৭ হ্জাার ৪৯৯ জন। ভোট কাস্ট হয়েছে (তিন চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বীদের প্রাপ্ত ভোটের সমষ্টি) ৬৮৭২৭। অর্থাৎ ভোট কাস্ট হয়েছে শতকরা ৪১% মাত্র। একটি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কাস্টিং ভোটের হার ৭০/৭৫ শতাংশ হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে জগন্নাথপুরের ভোটারদের এই নির্বাচন আকৃষ্ট করতে ব্যর্থ হয়েছে। এর পিছনে কারণ হিসেবে অনেকে প্রবাসী প্রার্থীর অনুপস্থিতিজনিত কারণে টাকার ছড়াছড়ি না হওয়ায় ভোটার উপস্থিতি কম হয়েছে এমনটি বলার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু এরকম ধারণাপ্রসূত মন্তব্য প্রকৃত অবস্থাকে আড়াল করে। নির্বাচনী সংস্কৃতির প্রতি সাধারণ মানুষের এই অনীহার বিষয়টিকে গবেষণার বিষয়বস্তু করা উচিৎ। আমাদের দুর্ভাগ্য হলো কোন রাজনৈতিক দল এমন একাডেমিক কাজে নিজেদের নিয়োজিত করেন না। পরিসংখ্যানের আরেকটি বিষয় হলো মূল আওয়ামী প্রার্থী আকমল হোসেন ও বিদ্রোহী প্রার্থী মুক্তাদীর আহমদ মুক্তার প্রাপ্ত ভোটের যোগফল ৩৮৮১৩। যা বিজয়ী বিএনপি প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোট ২৯৯১৪ এর চাইতে ৮৮৯৯ ভোট বেশি। সুতরাং আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী হলে তারা যে জিতে যেতেন একথাটি নিশ্চিতভাবেই বলা যায়। ভাইস চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী প্রার্থী বিজন কুমার দে ৪৯০৪ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন। এই পদে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী থাকলেও শেষ পর্যন্ত নৌকার বিজয় নিশ্চিত করে তিনি কিছুটা হলেও দলকে লজ্জার হাত থেকে বাঁচিয়েছেন। কেন্দ্রওয়ারী পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে ভোটের চরিত্র সম্পর্কে আরও বেশকিছু মজাদার তথ্য পাওয়া যেত। আমরা আশা করব দলগুলো এই পরিসংখ্যান নিয়ে নিজেদের গবেষণা সেলে কিছু কাজ করবেন।
উপযুক্ত প্রার্থী, অবাধ প্রচারণা, সন্তোষজনক ভোটার উপস্থিতি, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতামুখরতা একটি ভাল নির্বাচনের বৈশিষ্ট্য। জগন্নাথপুরে একমাত্র ভোটার উপস্থিতির বিষয়টি ছাড়া অন্য সবগুলো দিক বিচারে একটি ভাল নির্বাচন হয়েছে। এরকম নির্বাচনই দেশের মানুষ সর্বত্র দেখতে চান।

  • [১]