- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

জগন্নাথপুরের মাছ বাজারে হাহাকার

জগন্নাথপুর প্রতিনিধি
জগন্নাথপুরে ফসলহানির পর মাছে মড়ক দেখা দেয়ার মাছ বাজারে হাহাকার চলছে। ১৭ এপ্রিল উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে থেকে এ্যামোনিয়া গ্যাসে আক্রান্ত মাছ না খাওয়ার জন্য এলাকায় মাইকিং করা হয়। এরপর থেকেই ভয়ে হাওরের মাছ খাওয়া ছেড়ে দিয়েছেন এলাকাবাসী। মঙ্গলবার উপজেলা সদরের মাছ বাজার ঘুরে দেখা যায়, স্থানীয় প্রজাতির কোনো মাছ নেই। কিছু ইলিশ মাছ ও ঝাটকা ওঠেছে। তবে ফিসারির মাছ বেশি পরিমাণে দেখা গেছে বাজারে । উপায় না পেয়ে কেউ কেউ ফিসারির মাছ ক্রয় করছেন। তাও আবারও বেশি দামে। স্থানীয় জাতের মাছের সংকট দেখা দেয়ায় দাম বেড়ে গেছে ফিসারি মাছের।   
বিক্রেতারা জানান, গ্রীষ্মের শুরুতে এমনিতেই মাছের সরবরাহ থাকে কম। এর মধ্যে মড়ক শুরু হওয়ায় বাজারে সংকট দেখা দিয়েছে। ক্রেতারাও মাছ কেনার প্রতি হারিয়ে ফেলেছেন।
জগন্নাথপুর বাজারের মাছ বিক্রেতা জয়নাল আবেদন জানান, জগন্নাথপুরের হাওরগুলোতে মাছে মড়ক দেখা দেয়ার পর থেকে স্থানীয় জাতের কোনো মাছ বিক্রি হচ্ছে না। মাছে মড়ক আসার পূর্বে আমি স্থানীয় প্রজাতির মাছ বিক্রি করতাম। কিন্তু হাওরের মাছ কেউ ক্রয় করে না এখন। তাই গত দুই তিন দিন ধরে সিলেট থেকে ইলিশ মাছ এনে বিক্রি করছি।    
পৌরশহরের ইকড়ছই এলাকার বাসিন্দা আবদুস সালাম জানান, দেশীয় জাতের মাছ খাওয়া ছেড়ে দিয়েছি। গত ৮ দিন ধরে মাছ খাচ্ছি না। আরেক বাসিন্দা মুজিবুর রহমান জানান, মাছে মড়ক আসার পর থেকেই মাছ খাওয়া ছেড়ে দিয়েছি। গতকল ফিসারির মাছ খেয়েছি। গত এক সপ্তাহ ধরে তাদের পরিবারের কেউ স্থানীয় প্রজাতির মাছ খাচ্ছে না।   
উপজেলাবাসী জানান, ১লা এপ্রিল অকালবন্যা ও অতিবৃষ্টিতে উপজেলার বোরো ফসল তলিয়ে যাওয়ায় পর পানির নীচে থাকা ধানগাছ পচে দূর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। এতে বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গত ১৬ এপ্রিল হাওরের মাছগুলো মরে পানিতে ভেসে উঠে। ব্যাপকহারে উপজেলার বিভিন্ন হাওর, নদী, জলাশয়ে মাছ মরে পচে যাওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে উপজেলা প্রশাসন এসব মাছ না খাওয়ার জন্য উপজেলাবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে মাইকিং করেন।  
জগন্নাথপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ওয়াহিদুল আবরার জানান, জগন্নাথপুরের হাওরের পানিতে এ্যামোনিয়া গ্যাস কমে গেছে। পানিতে অক্সিজেন বাড়ছে।  বিষক্রিয়ার আক্রান্ত মরা মাছ খাওয়া যাবেনা। তবে সুস্থ মাছ খাওয়া যাবে।
জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: সামসুউদ্দিন জানান, হাওরের এ্যামোনিয়া গ্যাসে আক্রান্ত মাছ খেলে পেটে পীড়া ও ডায়রিয়া রোগ হতে পারে। বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত মাছ খেয়ে এখনো কেউ অসুস্থ হয়নি।

  • [১]