- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

জগন্নাথপুরে অনাবাদী জমিতে আমন চাষ/ এই দৃষ্টান্ত প্রশংসনীয় ও অনুসরণযোগ্য

জগন্নাথপুর উপজেলার মোমিনপুর হাওরে অনাবাদী ৫১ একর জমিতে আমন ধানের বাম্পার ফলন ঘটিয়ে প্রশংসনীয় কাজ করেছেন সালাউদ্দিন আহমদ ও ফিরোজ আলী নামের দুই কৃষক। তারা উভয়েই ইকরছই গ্রামের বাসিন্দা। এই জমি থেকে প্রায় আড়াই হাজার মণ ধান পাওয়া যাবে বলে কৃষকদ্বয় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। এলাকাবাসী জানিয়েছেন এই হাওরে আগে ডিপ টিউবওয়েলের মাধ্যমে সেচাবাদের ব্যবস্থা করে বোরো ধান চাষ করা হত। কিন্তু ডিপটিউবওয়েল পরিচালনাকারী বেসরকারি সংস্থা কার্যক্রম বন্ধ করে দিলে বোরো ধান চাষ করা বন্ধ হয়ে পড়ে। সাধারণত জলাবদ্ধতা ও সেচ সুবিধার অভাবের কারণে জমি অনাবাদী থাকে। এই দুই সমস্যার সমাধান করা গেলে কোনো জমিই অনাবাদী থাকে না। সরকার সকল অনাবাদী জমিকে আবাদের আওতায় আনতে নানা ধরনের সহায়তা ও পরামর্শ প্রদান করছেন। এতে সুফল মিলছে। বছর বছরই নতুন নতুন অনাবাদী জমি চাষের আওতায় আসছে। আগে যেসব কান্দা বা উঁচু জমিতে কখনও ধান চাষ করতে দেখা যায়নি এখন সেসব জমির অনেক জায়গাই আমন চাষের আওতায় এসেছে। এসব জমিতে উফসি জাতীয় বোরো চাষের পরিমাণও বেড়েছে। এটি শুভ লক্ষণ। দেশের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার বর্ধিত খাদ্য চাহিদা মিটাতে হলে শস্য উৎপাদন বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। এই বিবেচনায় জগন্নাথপুরের মোমিনপুর হাওরে যে দুই কৃষক এবার অনাবাদী ৫১ একর জমিতে আমন ধান ফলিয়েছেন তা একটি দৃষ্টান্ত হতে পারে। আমরা তাদের অভিনন্দন জানাই।
মোমিনপুর হাওরে চাষাবাদকারী ওই দুই কৃষক জানিয়েছেন, চাষকৃত জমি তাদের নিজেদের নয়। আত্মীয়স্বজন ও গ্রামবাসীদের মালিকানাধীন জমি এগুলো। যেহেতু দীর্ঘ বছর ধরে এই জমি নিষ্ফলা ছিলো তাই কেউই তাদের ধান চাষ করতে বাধা দেননি। এবার আমন ধানের ভালো ফলন দেখে নিশ্চয়ই জমির প্রকৃত মালিকরাও খুশি হবেন। এই দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে আগামী মৌসুমগুলোতে নিশ্চয়ই প্রকৃত মালিকরা এই জমি থেকে সোনার ফসল পাওয়ার ধারাবাহিকতা বজায় রাখবেন। জমির মালিক যদি প্রকৃত কৃষক বা কৃষক পরিবারের সন্তান না হন তাহলে অনেকেই জমিতে ফসল ফলানো হলো কি হলো না তা নিয়ে তেমন মাথা ঘামান না। বিশেষ করে জগন্নাথপুরের মতো প্রবাসী অধ্যূষিত এলাকায় এই অবস্থা বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এরকম অকৃষক বা অনুপস্থিত মালিকদের উচিৎ হবে তাদের জমি আবাদের বাইরে না রেখে প্রকৃত কৃষকদের মাধ্যমে আবাদের আওতায় নিয়ে আসা। একমাত্র প্রকৃত কৃষকরাই জানেন কী উপায়ে নিষ্ফলা জমিকেও সুফলা করে তোলা যায়। এটি নিশ্চিত করা গেলে মালিকের লাভ, যিনি ইজারা বা বর্গা নিয়ে চাষ করবেন তার লাভ, সর্বোপরি দেশের লাভ।
আমাদের জেলায় বহু জমি আছে যেগুলোতে বছরে দুই ফসল উৎপাদন করা সম্ভব। কিন্তু প্রথাগত বোরো ধান চাষের বাইরে এইসব জমি নিয়ে কেউ বিকল্প কিছু চিন্তা করেন না। এখন দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের সময় এসেছে। প্রযুক্তি ব্যবহার ও পরিচর্যার মাধ্যমে যেসব জমিতে বছরে দুইটি শস্য উৎপাদন করা সম্ভব সেগুলোতে তাই করতে হবে। তা না করে জমির ফসলের নিবিড়তা বা উৎপাদনশীলতার অপচয় ঘটানোর কোনো অর্থ হয় না। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরকে এ বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় উদ্বুদ্ধমূলক কাজ করতে হবে। মোমিনপুরের যে ৫১ একর জমিতে এবার আমন ধান চাষ করা হলো সেখানে সামনের বোরো মৌসুমে বোরো ধানের আবাদ করা হবে বলে আমরা প্রত্যাশা ব্যক্ত করছি।

  • [১]