- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

জগন্নাথপুরে গুলিবিদ্ধ ৩৭ জন

জগন্নাথপুর অফিস
জগন্নাথপুরে মাদ্রাসার জমি নিলামকে কেন্দ্র করে শনিবার বিকেল তিনটার দিকে দু’পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ৩৭ জন গুলিবিদ্ধসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সন্ধ্যায় ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।  সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ ৩৭ জনকে সিলেট ওসমানি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। অপর আহতরা স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সংঘর্ষে কয়েক রাউন্ড গুলি ছুঁড়া ও বাড়িতে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ পাওয়া গেছে।  
প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসী জানান, উপজেলার কলকলিয়া ইউনিয়নের শ্রীধরপাশা গ্রামবাসীর সঙ্গে বিএনপি নেতা জাবেদ আলম কোরেশীর গোষ্ঠীর আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে মামলা মোকদ্দমাও রয়েছে। এই বিরোধে গ্রামবাসির পক্ষে নেতৃত্ব দিতেন গ্রামের বাসিন্দা আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল মালিক ও ফয়সল আহমদ।  ঘটনার দিন স্থানীয় গ্রামের মাদ্রাসার জমি নিলামকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের লোকজনের মধ্যে প্রথম বাকবিতন্ডা থেকে এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের লোকজন আগ্নেয়াস্ত্রসহ দেশীয় অস্ত্র সস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। প্রায় দেড় ঘন্টাব্যাপি সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হন।
গুলিবিদ্ধ খসরুল আমিন (৪৩) আসাদ মিয়া (১৫) গৌছ আলী (৬৮) রাহুল আমিন (২৪) রুকন উদ্দিন (৩৭) জয়নাল আবেদিন (৪০) সিরাজুল (৪৫) সফজুল মিয়া (৫৫) আব্দুল তাহিদ (৬০) মকবুল হোসেন (৪৫) সিদ্দিক আলী (৪৬) আজিজুর রহমান (৩৮) তখলিছ মিয়া (৬০) পাবেল মিয়া (৩০) নুর আলী (৩৫) রুহেল মিয়া (৩০)জুয়েল মিয়া (৪৬) ফুল মিয়া (২৪) ফখরুল ইসলাম (৪০) দিলোয়ার (৪৫) আব্দুল গনি (৬০) লিমন মিয়া (২৫)মদরিছ আলী (২৮) রব্বানী (২৬) রাসেল মিয়া (২৯) নেওয়াজ মিয়া (২৪) শাহিদ আহমেদ (৩৭) জিলানী (২৪) সুয়েব আহমেদ (২৩) হাসান (২৪) হেলাল আহমেদ (৫৫) নুর হোসেন (৩২) সাইফুল ইসলাম (৫৫) ইদ্রীছ আলী (৬২) আক্তার হোসেন (৫) কে সিলেট ওসমানি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সংঘের্ষ কয়েক রাউন্ড বন্দুকের গুলি ছুঁড়া হয়েছে।
ফয়সল আহমদ জানান, ‘জাবেদ আলম কুরেশীর নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী অবৈধ অস্ত্র দিয়ে গ্রামবাসীর ওপর হামলা চালিয়ে আমাদের ৫২জনকে আহত করেছে।’
জাবেদ আলম কুরেশীর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া গেছে। তবে তার চাচা আশরাফ আলম জানিয়েছেন, অন্যায়ভাবে প্রতিপক্ষের লোকজন তাদের লোকজনের ওপর হামলা করেছে। তিনি অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা তার বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে বাড়িঘর ভাংচুর করেছে।  
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল হাসিম জানান, ‘দু’পক্ষের মধ্যে অনেকদিন ধরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলছিল। এরই জের ধরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।’
জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. জহিরুল ইসলাম জানান, ‘আহত ৩৭ জনের শরীরের বিভিন্ন অংশে বন্দুকের ছিটা গুলি লেগেছে। তাদেরকে সিলেট ওসমানি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’   
জগন্নাথপুর থানার ওসি হারুনুর রশিদ চৌধুরী জানান, ‘পুলিশ ঘটনাস্থল পরির্দশন করে সংঘর্ষে জড়িত থাকার অভিযোগে ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে।  পরিস্থিতি এখন শান্ত। ’

  • [১]