আলী আহমদ, জগন্নাথপুর
করোনাভাইরাইস আতঙ্ক আর শ্রমিক সংকটের পাশাপাশে আগাম বন্যার শঙ্কার মাঝেও জগন্নাথপুরের ছোট ছোট হাওরের বোরো ধান কাটার কাজ এখন শেষের দিকে। সর্ববৃহৎ নলুয়া হাওরে এখন পুরোদমে ধান কাটার ধুম পড়েছে। স্থানীয় কৃষি অফিস জানিয়েছে, ৪ থেকে ৫ দিনের মধ্যে জগন্নাথপুরের সব কটি হাওরে ধান কাটার কাজ সম্পন্ন হবে। গতকাল রবিবার পর্যন্ত ৬৭ ভাগ ধান কর্তৃন শেষ হয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সুত্র জানায়, এবার জগন্নাথপুরের প্রধান নলুয়া হাওরসহ উপজেলার ছোট বড় ১৫টি হাওরে ২০ হাজার ৫শত হেক্টর বোরো ফসল চাষাবাদ করা হয়েছে।
এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ থেকে ছোট ছোট হাওরগুলোতে ধান কাটা শুরু হয়। এবার করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে দেশের অন্য এলাকা থেকে প্রথম দিকে শ্রমিক না আসায় ফসল কর্তৃন নিয়ে বিপাকে পড়েন কৃষকরা। এরমধ্যে শুরু হয় ঝড় বৃষ্টি আর বজ্রপাত। প্রশাসন থেকে প্রচার করা হয়, আগাম বন্যার শঙ্কা রয়েছে। এজন্যে
পাকা ধান দ্রুত কাটতে হাওরজুড়ে মাইকিং করা হয়। ১৫ এপ্রিল থেকে প্রতিটি হাওরের ধান কাটা শুরু হয় স্বল্প সংখ্যক শ্রমিক দিয়ে। হাওরেরধান কাটার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘোষনা করা হয়, বাহিরের এলাকা থেকে শ্রমিক এলে
তাঁদেরকে যাতায়াতে কোন বাধা প্রদান করা হবে না। এরপর দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ধান কাটার শ্রমিক আসতে শুরু হয়। বন্যার শঙ্কায় কৃষকের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁদের জমির পাকা ধান স্বেচ্ছাশ্রমে কেটে দিচ্ছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মী জনপ্রতিনিধি শিক্ষক, শিক্ষার্থী, পুলিশ সদস্যসহ স্বেচ্ছাসেবীরা। শঙ্কার মাঝে কর্ষ্টাজিত পাকা ফসল কাটতে পেরে কৃষকের মুখে হাসি ফুটে ওঠেছে।
পিংলার হাওরের কৃষক সৈয়দ মিয়া জানান, ২৪ কেদার জমিতে বোরো আবাদ করেছিলাম। শ্রমিক সংকটের কারণে পাকা ধান নিয়ে বিপাকে ছিলাম। এরমধ্যে ঝড় বৃষ্টির আর বন্যার শঙ্কায় দুশ্চিন্তাগ্রস্থ হয়ে পড়ি। স্বেচ্ছাসেবী এবং স্থানীয় শ্রমিকদের সহযোগিতায় পাকা ধান কাটতে পেরে আমি আনন্দিত।
নলুয়া হাওরের পাড়ের কৃষক নেতা সিদ্দিকুর রহমান বলেন, পুরোদমে হাওরে এখন ধান কাটার ধুম পড়েছে। স্থানীয় শ্রমিক ও কর্মহীন মানুষের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেনীর লোকজন হাওরে ধান কাটছেন। যে কারণে শ্রমিক সংকটও কেটে
গেছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে একসপ্তাহের মধ্যে নলুয়া হাওরের ধান কাটা শেষ হয়ে যাবে।
জগন্নাথপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শওকত ওসমান মজুমদার বলেন, জগন্নাথপুরের ছোট ছোট হাওরের ধান কাটার কাজ প্রায় শেষের দিকে। গতকাল পর্যন্ত জগন্নাথপুরে সর্বমোট ৬৭ শতাংশ ধান কাটা শেষ হয়েছে। তবে কিছু কিছু হাওরে
৯০ ভাগ ধান কাটা শেষ। আশা করছি ১ মের মধ্যে জগন্নাথপুরের সবকটি হাওরের ধান কাটা সমাপ্ত হবে।
জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহফুজুল আলম মাসুম বলেন, আমরা প্রতিনিয়ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। খুব দ্রত পাকা ধান শেষ হবে।