- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

জগন্নাথপুরে তবুও স্বপদে বহাল সেই শিক্ষক!

জগন্নাথপুর অফিস
জগন্নাথপুর উপজেলার স্বনামধন্য বিদ্যাপীঠ ইসহাকপুর পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ উঠার পরও স্বপদে বহাল থাকার অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের কেউই চান না তবুও একের পর এক বিতর্ক সৃষ্টি করে স্বপদে বহাল রয়েছেন ওই  শিক্ষক। এমনই এক অভিযোগের কথা জানালেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক মহল ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা।
জানা যায়, ২০১৪ সালের ১০ জুন ইসহাকপুর পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারি প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান জামালগঞ্জ উপজেলার হরিনাকান্দি গ্রামের মৃত মিরাশ আলীর ছেলে     আব্বাছ আলী। নিয়োগের পর থেকেই ওই শিক্ষক বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের উপর শারীরিক বেত্রাঘাত, ছাত্রীদের গায়ে হাত, মানসিক হয়রানী, প্রাইভেট পড়ার জন্য উৎসাহিত করা, সামর্থহীনদের সাথে অসৌজন্যমুলক আচরণ এবং পরীক্ষায় দেখে নেয়ার মতো হুমকি দান সহ একের পর এক অভিযোগ উঠতে থাকে। তারই প্রেক্ষিতে গত ১৬ মে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রধান শিক্ষক আব্দুজ জাহের ও ম্যানেজিং কমিটি বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগের পর ওই শিক্ষকও নিয়ম বহির্ভূতভাবে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত রয়েছেন। এ নিয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি ডা. সোনাহর আলী, বর্তমান সভাপতি বদরুল ইসলাম ও প্রধান শিক্ষক আব্দুজ জাহের কর্তৃক একাধিকবার মৌখিকভাবে সতর্ক করা হলেও তিনি কর্ণপাত না করে বিতর্কিত কর্মকা- পরিচালনা করে আসছেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুজ জাহের বলেন, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি ডা. সোনাহর আলীর সময়কালেও তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ উঠে। তখনও তাকে কয়েকবার সতর্ক করা হয় কিন্তু পরিবর্তন আসেনি। গত ১৬ মে শিক্ষার্থীদের লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা পেলে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করে। কিন্তু নোটিশের উপযুক্ত জবাব না দিয়ে সে মনগড়া জবাব দিয়ে বিদ্যালয়ে অদ্যাবধি অনুপস্থিত রয়েছে।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি বদরুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়ে তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাই। পরবর্তীতে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিলে বিষয়টি তিনি এড়িয়ে যান।
অভিযুক্ত শিক্ষক আব্বাছ আলী বলেন, আমার ওপর যে অভিযোগ তোলা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং উদ্দেশ্য প্রণোদিত। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আমাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিলেও তার সঠিক জবাব আমি দিয়েছি।  তবে আমাকে স্কুলে যেতে দেওয়া হয় না বলে আমি আমার এলাকায় অবস্থান করছি।
জগন্নাথপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মুখলেছুর রহমান বলেন, এখানে ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। যদি ওই শিক্ষক ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্ত না মানেন তাহলে তারা আইনের আশ্রয় নিতে পারেন।

  • [১]