আলী আহমদ, জগন্নাথপুর
জগন্নাথপুরে নদী দখলমুক্ত করতে প্রশাসন মাঠে নেমেছে। সোমবার জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহফুজুল আলম মাসুমের নেতৃত্বে প্রশাসনের লোকজন উপজেলা সদরে অভিযান পরিচালনা করে নলজুর নদীর ওপর নির্মিত সেতুর পশ্চিম অংশে সেতুর মুখ থেকে একটি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেন। তবে ওই স্থাপনার মালিক জানিয়েছেন তাঁরা সরকারিভাবে লিজ নিয়ে স্থাপনা তৈরী করেছেন। এদিকে সেতুর পূর্বপাড়ে সেতুর অ্যাপ্রোচের পাশে অবৈধভাবে স্থাপনা থাকলেও এটি উচ্ছেদ করা হয়নি। তবে অভিযানকালে চিহিৃত করা হয়েছে অসংখ্য অবৈধ স্থাপনা। অচিরেই এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে বলে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে। সম্প্রতি জগন্নাথপুর উপজেলা প্রশাসন নদী দখলদার শতাধিক ব্যক্তির নামের একটি তালিকা জেলা প্রশাসনের নিকট প্রেরণ করেছে। এদের বিরুদ্ধে এখনও কোন অভিযান শুরু হয়নি।
এলাকাবাসী জানান, জগন্নাথপুর উপজেলা সদরের নলজুর নদী ভরাট করে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণ করেছেন প্রায় ৫ শতাধিক দখলদার। স্থানীয় প্রশাসনের নাকের ডগায় এসব স্থাপনা নির্মিত হলেও টনক নড়েনি প্রশাসনের। নদীর দুই পাড়ে সহ¯্রাধিক স্থাপনা রয়েছে। অনেকই দুই তলা বিশিষ্ট বিল্ডিং নির্মাণ করেছেন। অদৃশ্য কারণে এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে দেখা যায়নি কোনো সময়। সরকারী নীতিমালা অনুযায়ী নদী বন্দোবস্ত দেয়ার বিধান না থাকলেও জগন্নাথপুরে অনেকেই বন্দোবস্ত নিয়ে স্থাপনা নির্মাণ করেছেন। আবার অনেকে অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণ করে বহাল তবিয়তে রয়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জগন্নাথপুর সদর বাজার দিয়ে বয়ে যাওয়া নলজুর নদীটি একসময় ব্যবসায়ীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখত। এ নদী দিয়ে মালবাহী বৃহদাকারের নৌকায় কম খরচে রাজধানী ঢাকা, সিলেট, সুনামগঞ্জ, আজমিরীগঞ্জ, শিল্পনগরী ছাতকসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকা থেকে সহজে মালামাল পরিবহন করা যেত। খননের অভাবে নদী ভরাট হয়ে গেলে এটি শিকার হয় ব্যাপক দখলবাজির। এখন এটা নদী না খাল চেনার উপায় নেই। এছাড়াও এলাকাবাসীর অভিযোগ নলজুর নদীতে বাজার এলাকার যাবতীয় ময়লা আর্বজনা হোটেল রে¯ু‘রার বর্জ্য ফেলে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে । সম্প্রতি জগন্নাথপুরের ১০০ জন নদী দখলদারের নামের তালিকা স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন চিহিৃত করে এদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসনের নিকট পাঠানো হয়েছে। ওই তালিকায় অনেক রাখব-বোয়ালের নাম রয়েছে।
নলজুর নদীর পাড়ে একটি স্থাপনার মালিক শাহ দিদার আলম জানান, আমরা প্রশাসনের নিকট থেকে সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী লিজ নিয়ে স্থাপনা নির্মাণ করেছি। লিজ থাকার পরও স্থাপনাটি উচ্ছেদ করা হয়েছে।
জগন্নাথপুরের শিক্ষক সাইফুল ইসলাম রিপন বলেন, নলজুর ও কুশিয়ারা নদীসহ জগন্নাথপুরের বেশ কয়েকটি নদী দখল করে অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণ করে বহাল তবিয়তে আছেন দখলদাররা।
জগন্নাথপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহফুজুল আলম মাসুম বলেন, গতকাল থেকে নদী রক্ষায় অভিযান শুরু করেছি। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।