জগন্নাথপুর অফিস
জগন্নাথপুর উপজেলার পাইলগাঁও ইউনিয়নের আলীগঞ্জ বাজারের স্বামী পরিত্যক্তাকে ধর্ষণ ও তার বাবাকে মারধরের ঘটনার মাত্র চার দিনের মাথায় একই এলাকায় ধর্ষণের শিকার হয়েছেন তিন সন্তানের জননী।
গত ৯ অক্টোবর শুক্রবার রাত ১১ টায় গোতগাঁও গ্রামের ওই নারীর বসতঘরে এই ঘটনা ঘটে। ধর্ষণের শিকার ওই নারী গ্রামের ইউপি সদস্যার মেয়ে। স্বামী ও সন্তানদেরকে হত্যার ভয় দেখিয়ে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়ে ঘরের ভেতরে ধর্ষণ করে একই গ্রামের মো. আব্দুল খলিছ।
এঘটনায় গত ১০ অক্টোবর রাতে মো. আব্দুল খলিছের বিরুদ্ধে জগন্নাথপুর থানায় অভিযোগ করেছেন নির্যাতিতা। নির্যাতিতার বাড়ি গেল সপ্তাহের আলোচিত ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামী শামীম আহমদের গোতগাঁও গ্রামে। অভিযুক্ত মো. আব্দুল খলিছ রিমান্ডে থাকা শামীম আহমেদর মামা।
স্থানীয় লোকজন ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ধর্ষণের শিকার নারীকে একই উপজেলার কুবাজপুর গ্রামে বিয়ে দেওয়া হয়েছিল। গত ১৫ বছর ধরে স্বামীসহ বাবার বাড়িতে বসবাস করছেন তিনি। প্রতিবেশী হওয়ার সুবাদে গত ৯ মাস ধরে তিন সন্তানের এক জননীকে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল ধর্ষক আব্দুল খলিছ। কিন্তু মহিলা সাড়া না দেয়ায় প্রথম ৩ এপ্রিল রাতে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘর থেকে বের হলে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে আব্দুল খলিছ। লোকলজ্জার ভয় ও সন্তানদের মান সম্মানের কথা চিন্তা করে সবকিছু সহ্য করেন ওই নারী। এরপর আব্দুল খালিছ ওই নারীর জাতীয় পরিচয়পত্র, বিবাহের কাবিননামা, নগদ ১০ হাজার টাকা ও তার মায়ের জমির দলিল আটকিয়ে জোর করে একাধিকবার ধর্ষণ করে। এঘটনার প্রতিবাদে ১০ অক্টোবর রাতে গোতগাঁও গ্রামে প্রতিবাদ সভা হয়। সভায় গ্রামের লোকজন ওই নারীকে আব্দুল খলিছের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করার পরামর্শ দেন।
জগন্নাথপুর থানা ওসি মো. ইখতিয়ার উদ্দিন বলেন,‘ শনিবার রাতে আমরা ভিকটিমের অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি আমলে নিয়ে তদন্তের জন্য একজন অফিসারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তাসোমবার বিকালেই পুলিশসহ এলাকায় তদন্তের জন্য গিয়েছেন।’