জগন্নাথপুর অফিস
জগন্নাথপুরে পৌর এলাকায় পূর্ব বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের লোকজনের হামলায় শুক্রবার রাতে মাসুম আহমদ (২৫) নামের এক যুবক নিহত হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় পুলিশ দুই জনকে আটক করে শনিবার সুনামগঞ্জ জেলহাজতে পাঠিয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, পৌরসভার ভবানীপুরের মৃত. বাদশা মিয়ার ছেলে মাসুম আহমদের সঙ্গে প্রতিবেশী সুরুজ মিয়ার দীর্ঘদিন ধরে সীমানার রাস্তা দিয়ে পূর্ব বিরোধ চলছিল। শুক্রবার বিরোধপূর্ণ রাস্তায় একটি বাঁশ হেলে পড়ে। হেলে পড়া বাঁশ সুরুজ মিয়ার পক্ষের লোকজন জোরপূর্বক কেটে দিতে চাইলে এতে বাধা দেন মাসুম আহমদ। এসময় সরুজ মিয়ার ছেলে লিয়ন আহমদ রুবেল মিয়া গংরা মাসুমের ওপর হামলা চালিয়ে তাকে মারধর করে। এ ঘটনায় মাসুম আহমদ গুরুতর আহত হলে প্রথমে তাকে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্খ্য কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। কর্মরত চিকিৎসক তাকে সিলেট ওসমানি হাসপাতালে রেফার্ড করেন। সিলেটের ওসমানি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় পথে মাসুম আহমদ মারা যান। এ ঘটনায় পুলিশ সুরুজ মিয়ার ছেলে রুবেল মিয়া (২৪) ও মৃত. ইছাক মিয়ার ছেলে গয়াস মিয়া (৬০) কে আটক করেছে।
নিহত যুবকের মামা সৌরভ মিয়া বলেন, রাস্তা দিয়ে অনেকদিন ধরে বিরোধ চলছিল। সম্প্রতি আমার ভাগিনা মাসুম মিয়ার পক্ষে মাননীয় আদালত রায় দেন। ঘটনার দিন রাস্তা থেকে জোরপূর্বক বাঁশ প্রতিপক্ষের লোকজন কেটে দিতে চাইলে এতে মাসুম বাধা দেন। এসময় স্থানীয় কাউন্সিলর ও পঞ্চায়িতী ব্যক্তিদের সামনেই আমার ভাগিনাকে মারধর করে জখম করে। পরে আহতাবস্থায় সে মারা যায়। তাঁর ভাগিনা ওই দিন রোজা রেখে ছিলেন বলে তিনি জানান।
স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাফরোজ ইসলাম বলেন, বাড়ীর রাস্তা নিয়ে বিরোধ চলছিল দু’পক্ষের মধ্যে। গ্রামের কয়েকজন প্রবীণ ব্যক্তিদের নিয়ে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করি। হঠাৎ করে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। পরে বিষয়টি প্রাথমিকভাবে নিস্পত্তি করে আমরা চলে আসি। এরপর রাতে খবর পেলাম যুবক মারা গেছে।
জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, জায়গা জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে হামলায় যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় দুইজনকে ৫৪ ধারা গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।