- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

জগন্নাথপুরে প্রবাসীর স্ত্রী হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করা হোক

জগন্নাথপুর উপজেলা সদরে জনৈক প্রবাসীর স্ত্রীকে হত্যর পর মৃতদেহ ছয় টুকরো করে ফেলার মত এক ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে। সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্য মতে, শাহনাজ পারভীন জোৎস্না নামীয় ওই নারীর ছয় টুকরা মৃতদেহ বৃহস্পতিবার উপজেলা সদরের অভি মেডিক্যাল নামের একটি ফার্মেসি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত নারীর স্বামী দীর্ঘদিন ধরে সৌদী আরব থাকেন। ওই নারী ছেলে-মেয়েসহ জগন্নাথপুর উপজেলা সদরে ভাইয়ের সাথে অবস্থান করেন। নিহত শাহনাজ পারভীনের ভাইয়ের ভাষ্যমতে তিনি (শাহনাজ পারভীন) ঔষধ কেনার জন্য বাসা থেকে বের হন। বাসায় ফিরতে দেরি দেখে তিনি বোনের খবরের জন্য অভি ফার্মেসিতে যান (এই ফার্মেসিতে ওই নারীর যাতায়াত ছিল) । ফার্মেসি বন্ধ দেখে মালিককে ফোন দিলে জানানো হয় এখানে ঔষধ না পাওয়ায় শাহনাজ অন্য দোকানে গেছেন। তখন শাহনাজের মোবাইল ফোনে কল দেন তিনি। মোবাইল ধরে ভিন্ন এক নারী কণ্ঠ একেক সময় একেক ধরনের তথ্য দিয়ে তাকে বিভ্রান্ত করতে থাকে। সন্ধ্যায় ঘটনাটি পুলিশে জানান তিনি (নিহত শাহনাজের ভাই)। পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে তালাবদ্ধ অভি ফার্মেসি ভেঙে ভিতরে তার মৃতদেহের ছয় টুকরা বিছানার চাদর দিয়ে মোড়ানো অবস্থায় পাওয়া যায়। এদিকে অভি ফার্মেসির মালিক ঘটনার পর থেকেই নিরুদ্দেশ হয়ে পড়েছেন। তিনি কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার সইলা গ্রামের জাদব গোপের ছেলে জিতেশ গোপ বলে সংবাদ মাধ্যমে খবর এসেছে।
উপজেলা সদরে একটি ব্যস্ততম এলাকায় এমন নৃশংস খুনের ঘটনা সকলকে হতবাক করে দিয়েছে। খুন করার পর মৃতদেহকে ছয় টুকরো করে বিছানার চাদর দিয়ে মুড়িয়ে রাখা থেকে খুনীর বিভৎসতা সম্পর্কে আঁচ পাওয়া যায়। শাহনাজ পারভিনকে স্বজনদের দ্বারা খোঁজ-খবর নেয়ার শুরু থেকেই বিভিন্ন ঘটনাসূত্রে কিছু রহস্যজনক বাস্তবতার দেখা মিলে। ফার্মেসির মালিক জিতেশ গোপকে ফোন দিলে তিনি জানান, ওই নারীর চাহিত ঔষধ তার দোকানে না থাকায় তিনি অন্য দোকানে চলে গেছেন। অথচ ওই ফার্মেসি থেকেই শাহনাজের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পরে যখন নিহত নারীর মোবাইলে ফোন দেয়া হয় তখন মোবাইল ধরেন অন্য আরেক নারী। তিনি একেক সময় একেক কথা বলেন। বুঝা যায় খুনের পর শাহনাজের মোবাইল ফোনটি নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং সেটি সচলও ছিল। ওই নারী কে? ফার্মেসি মালিকের নিরুদ্দেশ হওয়ার ঘটনাটিও ইঙ্গিতবহ। এসব ক্লু ধরে নিশ্চয়ই তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ খুনের রহস্য অনুসন্ধানে ব্রতী হবেন।
পুলিশ বা গোয়েন্দা শাখা নিজেদের পদ্ধতিমত এই খুনের রহস্য অনুসন্ধান করে প্রকৃত খুনীকে দ্রুত চিহ্নিত করবেন এটুকো আমাদের দৃঢ় আশাবাদ। এই ধরনের নৃশংস খুনের ঘটনা শুধু একটি ঘটনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। এর মনস্তাত্ত্বিক প্রতিক্রিয়া বিস্তৃত হয়। নৃশংসতার কোন্ স্তরে পৌঁছালে একজন মানুষকে খুন করার পর ঠান্ডা মাথায় তার মৃতদেহ টুকরো টুকরো করে পেঁচিয়ে রাখা যায় তা আমরা অনুমান করতে পারি। খুনী যে সময় নিয়ে এই খুন করেছেন তাও বুঝতে বাকি থাকে না। বাজারের একটি ফার্মেসিতে এরকম একটি হত্যাকাণ্ড ঘটবে আর আশপাশের কেউ বিন্দুবিসর্গও জানতে পারল না এরই বা রহস্য কী? দ্রুত এই খুনের যাবতীয় রহস্য উদঘাটন হওয়া জরুরি।
যিনি খুন হয়েছেন তিনি একজন জননী। তার সন্তানরা মাকে হারিয়ে দিশেহারা। স্বজনরা কাতর। প্রবাসী স্বামী এই হৃদয়বিদারক খবরে নিশ্চয়ই দিশেহারা হয়ে উঠেছেন। একজন নারী ঔষধ কেনার জন্য বাসার বাইরে গিয়ে আর ফিরে আসলেন না, পরে তার খ-িত মৃতদেহ উদ্ধার করা হল। এমন ভয়াবহ বাস্তবতা সাধারণ নাগরিকদের জীবন যাপনকে আতংকিত করে তোলে। নাগরিক নিরাপত্তার বিষয়টি প্রসঙ্গত সামনে এসে যায়। সবকিছু মিলিয়ে এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের আসল রহস্য উদঘাটিত হোক এবং প্রকৃত দোষীরা উপযুক্ত সাজা পাক এই আমাদের কামনা।

  • [১]