আলী আহমদ, জগন্নাথপুর
হাওরের বোরো ফসল রক্ষা বেড়িবাঁধের নির্ধারিত সময়সীমা শুক্রবার শেষ হলেও জগন্নাথপুরে অর্ধেকও কাজ শেষ হয়নি। কয়েকটি প্রকল্পে এখনও মাটি পড়েনি। ফলে স্থানীয় কৃষকরা শঙ্কিত রয়েছেন।
গতকাল সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, জগন্নাথপুরের সর্ববৃহৎ নলুয়া হাওরের পোল্ডার-১ আওতাধীন ২ নম্বর প্রকল্পের হরিনাকান্দি থেকে মনাইখালি নামক এলাকার অধিকাংশ স্থানে এখনও মাটি পড়েনি। এ প্রকল্পের ১.০৫৯ কিলোমিটার মেরামতের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে সাত লাখ ৭২ হাজার ৭৮ টাকা। ২ নম্বর প্রকল্পের সভাপতি আল আমিন জানান, মাটি কাটার মেশিন হঠাৎ করে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় কাজ শেষ করতে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। তবে অচিরেই শেষ করা হবে।
এদিকে পরিদর্শনকালে দেখা যায়, নলুয়া হাওরের ১০ নং প্রকল্পের কাজ চলছে। তবে ১১ নম্বর প্রকল্পের সালিকা থেকে ডুমাখালির সংলগ্ন স্থান পর্যন্ত মাটির কাজ শেষ হয়নি। ১২ নম্বর প্রকল্পের ডুমাখালির নামক স্থানেও মাটি পড়েনি। ১১ নম্বর প্রকল্পের সভাপতি আব্দুস শহিদ এবং ১২ নম্বর প্রকল্পের সভাপতি মফিজ মিয়া জানিয়েছেন, হাওরে মাটির তীব্র সংকট। অনেক চেষ্টার পর দূরবর্তী এলাকা থেকে মাটি আনতে হচ্ছে। আশা করছি দ্রুত কাজ শেষ করতে পারব।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জগন্নাথপুর উপজেলা কার্যালয় সূত্র জানায়, এবার ৪৬টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) গঠনের মাধ্যমে ৪২.৩১০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের কাজ হয়। এই কাজের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে মোট ৬ কোটি টাকা। হাওর বাঁচাও আন্দোলনের জগন্নাথপুর উপজেলা কমিটির আহবায়ক সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম জানান, নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও জগন্নাথপুরেও অর্ধেকও কাজ শেষ হয়নি। এতে আমরা হতাশ। নীতিমালা অনুয়ায়ী দ্রুত কাজ শেষ করতে হবে। অন্যথায় কৃষকদের নিয়ে অধিকার আদায়ে মাঠ নামব আমরা।
এ ব্যাপারে জগন্নাথপুর উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহকারি প্রকৌশলী হাসান গাজীর সঙ্গে অনেকবার চেষ্টা করেও তাঁর কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে জগন্নাথপুরের ইউএনও মাহফুজুল আলম মাসুম বলেন, এখন পর্যন্ত বেড়িবাঁধ প্রকল্পের ৮০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। বাঁধের কাজের সময় বাড়ানোর বিষয়টি পরে সিদ্ধান্ত হবে।