- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

জগন্নাথপুরে বেড়েছে সংক্রমণ মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি

আলী আহমদ, জগন্নাথপুর
প্রবাসী অধ্যুষিত জগন্নাথপুরে ঈদের পরই করোনা ভাইরাসের আক্রান্ত সংখ্যা বেড়েছে। চলতি সপ্তাহে চার জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এর পূর্বে আরো ছয়জন আক্রান্ত হন। উপজেলায় মোট করোনা রোগীর সংখ্যা ১০ জন। এরমধ্যে ছয়জন সুস্থ হয়ে বাড়িতে রয়েছে। অপর চারজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এদিকে দিন দিন করোনা আক্রান্ত সংখ্যা বাড়লেও অধিকাংশ মানুষ স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না।
জানা যায়, সাম্প্রতিককালে জগন্নাথপুর উপজেলায় ৫ শতাধিক মানুষ নারায়নগঞ্জ, ঢাকা, গাজীপুরসহ বিভিন্ন জেলা থেকে জগন্নাথপুরে আসেন। এর মধ্যে শুধু নারায়নগঞ্জ থেকে আসেন দুই শতাধিক লোক। এরা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ছড়িয়ে অবাধে ঘুরাফেরা করছে।
জগন্নাথপুরে প্রথম করোনা রোগী হিসেবে ২৩ এপ্রিল জগন্নাথপুরের উত্তর নাদামপুর গ্রামে ১৮ বছরের এক তরুণ শনাক্ত হন। ১৭ এপ্রিল তিনি নারায়ানগঞ্জ থেকে এলাকায় ফিরেছিলেন। ২৪ এপ্রিল উপজেলা আশারকান্দি ইউনিয়নের পাঠকুড়া গ্রামের ১৭ বছরের আরেক এক তরুণ, ২৮ এপ্রিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক স্বাস্থ্য কর্মী, ১ মে উপজেলার দাসনাগাঁও গ্রামের নারায়ণগঞ্জ ফেরত এক তরুণ ও ৪ মে উপজেলার সাদীপুর গ্রামের চট্রগ্রাম ফেরত দুই নির্মাণ শ্রমিক করোনায় আক্রান্ত হন। বর্তমান আক্রান্ত ছয়জন সুস্থ হয়ে বাড়িতে অবস্থান করছেন।
এদিকে ঈদের পরপরই ফের নতুন জগন্নাথপুরে আক্রান্তর সংখ্যা বেড়েছে। গত ২৮ এপ্রিল আক্রান্ত হন জগন্নাথপুরের সৈয়দপুর এলাকায় এক বাসিন্দা। তাঁকে সিলেট শহীদ সামছুউদ্দিন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ৩০ এপ্রিল আক্রান্ত হন জগন্নাথপুর উপজেলা ¯য^াস্থ্য কমপ্লেক্সের একজন নারী চিকিৎসক। তাঁকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আইসোলেসনে রাখা হয়েছে। ৩১ মে উপজেলার মজিদপুর গ্রামের নারায়ণগঞ্জ ফেরত এক ব্যক্তি আক্রান্ত হলে
তাকে হোম আইসোলেশনে রাখা হয়। গত ১ জুন আক্রান্ত হয়েছেন পৌর এলাকার হবিবপুরের আরেক ব্যক্তি। তাকেও হোম আইসোলেশে রাখা হয়েছে।
এদিকে লকডাউন সীমিত ঘোষণার পরেই জগন্নাথপুরে হাট বাজারে জনসাধারণের সমাগম বাড়তে তাকে। রমজানের ঈদে ঢল নামে ক্রেতাদের বাজারগুলোতে। অধিকাংশ মানুষই স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করে অবাধে চলাফেরা করে আসছেন।
জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান বিজন কুমার দেব জানান, জগন্নাথপুরে সম্প্রতিকালে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে লোকজন এসেছেন। এছাড়াও লকডাউন ওঠে যাওয়ার পর থেকেই সর্বত্রজুড়ে মানুষের ভিড়। এবারের ঈদবাজারে নারী পুরুষের ঢল ছিল। অধিকাংশ মানুষ সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্য বিধি না মানায় করোনার ঝুঁকি বেড়েছে এ উপজেলায়।
জগন্নাথপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী জানান, করোনার কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও জনসাধারণকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে আমরা দিনরাত কাজ করছি।
জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মধু সুদন ধর বলেন, গতকাল পর্যন্ত ২৫০ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এরমধ্যে ৭৩৫ জনকে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়। এরমধ্যে বাহিরের এলাকা থেকে আসা ৪০৫ জন রয়েছেন হোম কোয়ারেন্টিনে। এ উপজেলা মোট দশ জন করোনায় আক্রান্ত হন। এরমধ্যে ছয় জন সুস্থ রয়েছেন। অপর ৪ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহফুজুল আলম বলেন, সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতকরণে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে প্রশাসনের পক্ষ আমরা নিয়মিতভাবে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

  • [১]