জগন্নাথপুর প্রতিনিধি
করোনাভাইরাস সংক্রমেণ মানুষ যখন দিশেহারা তখন জগন্নাথপুর উপজেলার কয়েকটি ব্যাংক গ্রাহকদের সাথে অমানবিক আচরণ করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী ব্যাংকিং সময় সকাল ১০ টা থেকে বিকেল একটা পর্যন্ত তিন ঘন্টা নির্ধারণ করে দিলেও কয়েকটি ব্যাংক এই সময়ে গ্রাহকদের টাকা লেনদেনে হয়রানি করছে। সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে লেনদেন না করে তারা গ্রাহকদের নানা অজুহাতে ফিরিয়ে দিচ্ছে এতে করে টাকা তুলতে না পেরে লোকজন বেকায়দায় পড়েছেন। বুধবার দুপুরে সরেজমিনে জগন্নাথপুর বাজারের উত্তরা ব্যাংকের শাখার সামনে দেখা যায় গাদাগাদি করে দীর্ঘ লাইন।
তাদের মধ্যে শিপন শরীফ নামে একজন গ্রাহক জানান, গত তিন দিন ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে টাকা তুলতে পারেননি। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ব্যাংক কর্তৃপক্ষ একজন গ্রাহক করে ব্যাংকে প্রবেশ করার অনুমতি দেন। নানা অজুহাতে একজন গ্রাহকে সেবা দিতে ৩০ মিনিট সময় নেন। এভাবে গুটিকয়েক গ্রাহক ছাড়া ব্যাংকিং সুবিধা পাচ্ছেন না গ্রাহকরা। গ্রাহকদের হয়রানির এ বিষয়টি দেখার যেন কেউ নেই।
এছাড়াও উত্তরা ব্যাংকের বিরুদ্ধে রয়েছে গুরুতর অভিযোগ। করোনাভাইরাস সংক্রমণ দেখা দেওয়ার পর পর ব্যাংকের সামনে সাঁটানো হয় নোটিশ। এতে লেখা হয় বিদেশ ফেরতদের প্রবেশ নিষেধ। প্রবাসীদের পাঠানো অর্থে ব্যাংক পরিচালিত হলেও সেই প্রবাসীদের অবজ্ঞা করায় উত্তরা ব্যাংকের বিরুদ্ধে নিন্দার ঝড় উঠে। এছাড়াও এক্সিম ব্যাংক, ইসলামি ব্যাংকে গিয়ে গ্রাহকরা কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না। এছাড়াও কৃষি ব্যাংক, রূপালি ব্যাংক, সোনালী ব্যাংকগুলোতেও রয়েছে দীর্ঘলাইন। আর বেসরকারি অন্য ব্যাংকগুলোর শাখা কোন দিন খোলা হয় তা গ্রাহকরা জানতে পারছেন না। ফলে গ্রাহকরা সীমাহীন দুর্ভোগে পড়ছেন।
এবিষয়ে জানতে জগন্নাথপুর শাখার উত্তরা ব্যাংকের ব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোন বক্তব্য দিতে রাজি হননি।