আলী আহমদ, জগন্নাথপুর
জগন্নাথপুরে জনসাধারণের যাতায়াতের সুবিধার্থে সরকারী অর্থায়নে নির্মিত একটি সেতুর ওপর দিয়ে স্থায়ীদের চলাফেরায় বাধা দেয়া হচ্ছে এমন অভিযোগ এনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবর লিখিত অভিযোগপত্র দায়ের পর দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
একপক্ষের অভিযোগ সেতুর একপাশে বাঁশ দিয়ে বেড়া দেয়ার লোকজন যাতায়াত করতে পারছেন না। অপর পক্ষের অভিযোগ সেতুর ওপর একটি গরু বেঁধে চলাচলে বাধা দেয়া হচ্ছে। এ নিয়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
দুইটি অভিযোগপত্র থেকে জানা যায়, উপজেলার বড় মোহাম্মদপুর গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া নলজুর নদীর নালী খালের ওপর কয়েক বছর আগে দুর্যোগ ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয়ের বাস্তবায়নে ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩৬ ফুট দৈঘ্যের একটি সেতু নির্মাণ করা হয়। সেতুটির পাশে যুক্তরাজ্য প্রবাসী মুহিত মিয়ার বাড়ি হওয়ায় সেতু দিয়ে যানবাহন ও জনসাধারণের চলাচল এমনকি গরু ছাগল চলাচলে মুহিত মিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে প্রায়ই বাধা নিষেধ প্রদান করা হয়। এনিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হলে বসে সালিশ বৈঠক। এতে মুহিত মিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে আর সেতু দিয়ে চলাচলে বাধা নিষেধ প্রদান করা হবে না বলে গ্রামবাসী কে আশ্বস্ত করার পর বিষয়টি প্রাথমিকভাবে নিস্পতি হলেও সম্প্রতি প্রবাসী মুহিত মিয়ার বাড়ির লোকজন সেতুর সংযোগ সড়কের মুখে বাঁশ দিয়ে বেড়া দিয়ে রাখেন। ফলে সেতু দিয়ে যানবাহন ও জনসাধারণের চলাচল বন্ধ রয়েছে। এবিষয়ে গত ১৬ জুন আজাদ মিয়া এলাকাবাসীর পক্ষে জগন্নাথপুরের ইউএনও’র বরাবর একটি অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
অপরদিকে এই অভিযোগের বিপক্ষে গত ২১ জুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবর স্থানীয়দের পক্ষে পাল্টা লিখিত অভিযোগ করেছেন মোহাম্মদপুর গ্রামের মিরাজ মিয়া।
মিরাজ মিয়া গংরা অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করেন, বড় মোহাম্মদপুর গ্রামের মৃত কালা মিয়ার ছেলে আজাদ মিয়া অনেকদিন ধরে গ্রামের নালী খালের ওপর সেতু ওপর তাঁর পালিত বড় আকৃতির একটি ষাঁড় গরু সকাল থেকে সন্ধ্যা বেঁধে রাখেন। যে কারণে শিশু কিশোরসহ স্থানীয়দের চলাচলে চরম বিঘিœত ঘটছে। স্থানীয় লোকজন গরুটি সেতুর ওপর থেকে সরিয়ে নিতে আজাদ আলীকে বললে এতে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, গরুটি সরানো হবে না।
এবিষয়ে আজাদ আলী বলেন, সেতুর সংযোগ সড়কে প্রবাসীর পরিবারের লোকজন বাশ দিয়ে বেঁধে রেখে জনসাধারণের চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন। এবিষয়টি আমরা লিখিতভাবে ইউএনওর মহোদয়ের বরাবর অভিযোগ দেয়ার প্রতিপক্ষের লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে অহেতুক মিথ্যা অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন, গরুটি পরিস্কার পরিচ্ছিন্ন করতে বাহিরে নিয়ে যেতে হয়। সেতুর ওপর আমি গরু বেঁধে রাখি নি।
প্রবাসীর পক্ষের মিরাজ মিয়া অভিযোগ করে জানান, এলাকাবাসীর নিষেধ অমান্য করে সরকারী সেতু দিয়ে বিশাল আকৃতির ষাড় গরুটি বেঁধে রেখে স্থানীয়দের যাতায়াত করতে দেয়া হচ্ছে না। এজন্য বিষয়টি প্রশাসনকে লিখিতভাবে জাননো হয়েছে।
স্থানীয় ওয়ার্ডের ইউপি ছালিক মিয়া জানান, দুই পক্ষেরই বিষয়টি আমাকে অবহিত করেছেন। তাঁরা একই গোষ্টির লোক।
জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহফুজুল আলম বলেন, দুই পক্ষের লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।